কুয়েটের মেধাবী ছাত্র শাহিনের মৃত্যু : দু’জন আশংকাজনক

0
409

ফুলবাড়ীগেট (খুলনা) প্রতিনিধি:
পিতৃহারা ছোট ভাইকে ইঞ্জিনিয়ার বানাতে সিরাজগঞ্জের শাহজাতপুর থানার প্রত্যন্ত গ্রামে ছোট্ট একটি মুদি দোকান চালিয়ে ছোট ভাই মোঃ শাহিনকে পাঠিয়েছিলো কুয়েটে পড়ালেখার জন্য। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে ময়মনসিংহের ভালুকায় আর এস টাওয়ারের একটি ছয় তালা ভবনের ৩য় তালায় গ্যাস লাইনে বিস্ফোরণের ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে বুধবার রাত সোয়া ১১টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শাহিন। বৃহস্পতিবার বিকাল পৌনে ৪টায় নিহত শাহিনের লাশ পোষ্টমটেম শেষে তার গ্রামের বাড়ী সিরাজগঞ্জে পাঠানো হয়। নিহত শাহিন কুয়েটের টেক্রাটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষ বর্ষের চতুর্থতম মেধাবী ছাত্র ছিলো। মর্মান্তিক এই দূর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাড়ালো দুই। নিহত দু’জই কুয়েটের এই বিভাগের অত্যান্ত মেধাবী শিক্ষার্থী। চিকিৎসাধীন অপর দুজন ছাত্র মোঃ হাফিজুর রহমান ও দিপ্ত সরকারের অবস্থা আশংকাজনক বলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন। দূর্ঘটনার পরপরই বিশ^বিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলরের নির্দেশে ঐ বিভাগের বিভাগীয় প্রধানসহ কয়েকজন শিক্ষক প্রতিনিধি ঢাকায় অবস্থান করে তাদের চিকিৎসার তদারকির দেখভাল করছেন।
বিশ^বিদ্যালয় সুত্রে জানাগেছে, কুয়েটের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষ বর্ষের মেধাবী ছাত্র মোঃ তৌহিদুল ইসলাম, মোঃ শাহীন মিয়া, মোঃ হাফিজুর রহমান ও দিপ্ত সরকার গত ১০ মার্চ ২০১৮ তারিখ থেকে ৫ এপ্রিল ২০১৮ তারিখ পর্যন্ত স্কয়ার গ্রæপের একটি টেক্সটাইল মিলে এক মাসের ইন্ডাস্ট্রিয়াল এটাচমেন্টের (ইন্টার্নি) জন্য ময়মনসিংহের ভালুকার মাষ্টার বাড়ি এলাকার এই বাড়ীর ৬ তলা ভবনের ৩য় তলায় অবস্থান করছিল। গত ২৪ মার্চ রাতে তারা ডিউটি শেষ করে ঘুমাতে যায় । রাত সোয়া ১টায় গ্যাস লাইনে বি®েফারণে দূর্ঘটনায় প্রতিত হয়ে ঘটনাস্থলে মোঃ তৌহিদুল ইসলাম মারা যায়। বাকী তিন শিক্ষার্থীকে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাতে মোঃ শাহিন মিয়ার মৃত্যু হয়। চিকিৎসাধীন অপর দুজন মোঃ হাফিজুর রহমান ও দিপ্ত সরকারের অবস্থা এখন আশংকাজনক।
এদিকে শহিনের মৃত্যুর খবর ক্যাম্পাসে শোনার পরই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে তার সহপাঠীরা, শোকে অনেকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে। নিহত শাহিনের পরিবারের প্রতি সমবেদনা এবং জানাযায় অংশ নিতে তার গ্রামের বাড়ী সিরাজগঞ্জের শাহজাতপুরের উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার সকালে মোঃ সোহান পারভেজ ও নবিউল্লাহ দু’জন শিক্ষকের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের দুটি গাড়ী ক্যাম্পাস ত্যাগ করেছে।
টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর. ড. মোহাম্মদ আঃ জলিল জানান, দূর্ঘটনার স্বিকার নিহত শাহিন সহ ঘটনায় হতাহত প্রতিটি ছাত্র ছিলো ডিপার্টমেন্টের অত্যান্ত মেধাবী ও ভদ্র শিক্ষার্থী। তারা ছাত্র হিসাবে নয় মানুষ হিসাবে ছিলো খুবই ন¤্র, ভদ্র ও শান্ত সদালাপী। এতোটাই মেধাবী ছিলো যে এরা বিশ^বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসাবে এদের সম্ভবনা ছিলো। এরা সকলেই খুবই গরীব পরিবারের সন্তান শাহিনের পিতা নাই বড় ভাই তার পড়ালেখার খরচ বহন করতো। আহত মোঃ হাফিজুর রহমান শেষ বর্ষের ৭ত স্থান অধিকারী ছিলো। তার বাবা প্রান্তিক কৃষক তিনি কৃষি কাজ করে ছেলেকে লেখাপড়ার খরচ যোগাতেন। অপর আহত ছাত্র এই বিভাগের দিপ্ত সরকার শেষবর্ষের ২য় স্থান অধিকারী ছাত্র সেও পিতৃহারা।