কুতিনহো আসায় বার্সায় যাঁদের মন খারাপ!

0
299

খেলা ডেস্ক, খুলনা টাইমস:

ফিলিপে কুতিনহোকে গত মৌসুমেই কেনার কথা উঠেছিল। সেটা নেইমার চলে যাওয়ার পরই, প্রশ্ন উঠেছিল, কী করবে বার্সেলোনা? এ প্রশ্ন ওঠার প্রেক্ষাপটও ছিল। কোচ আর্নেস্তো ভালভার্দের অধীনে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে বাজেভাবে সুপার কাপ হারার পর অনেকেই ভেবে নিয়েছিলেন, ভেঙে যাচ্ছে বার্সার চাঁদের হাট!
কিন্তু দেখা যাচ্ছে, সেই হাট ভাঙা দূরে থাক, বরং আরও জমজমাট। দারুণভাবে সামলে নিয়েছেন ভালভার্দে। বাতিলের খাতায় পড়ে যাওয়া চায়নিজ লিগের পাউলিনহোকে দলে ভেড়ানো দিয়ে তাঁর স্কোয়াড সংস্কারের শুরু। এ জন্য হোসে মারিয়া বার্তেমেউয়ের পদত্যাগের দাবিও উঠেছিল! কিছুদিন পরই চোখ রগড়ানো দামে ওউসমানে ডেম্বেলেকে দলে টেনে সমালোচনার স্রোত অন্য পথে ঠেলেছিলেন বার্সা সভাপতি।
ডেম্বেলে চোট পেয়ে মাঠের বাইরে চলে গেলেও মাঠের ভেতরের পারফরম্যান্সে বার্সা কিন্তু দ্যুতি ছড়াচ্ছে। লিগ টেবিলে শীর্ষস্থানই তার প্রমাণ। তবে এই ঘরোয়া ‘মধুচন্দ্রিমা’র মধ্যেও বার্সা কিন্তু কুতিনহোকে ভুলে যায়নি। লেগে থাকার ফসল হিসেবে কাতালান ক্লাবটি ঘরে তুলে নিল ব্রাজিলিয়ানকেও। তবে বার্সায় কুতিনহোর পদচারণে সবাই যে খুশি হবেন, তা কিন্তু নয়। অনেক সমস্যার সৃষ্টিও হতে পারে। কেউ কেউ দলে নিজ জায়গা আর ক্লাবে অবস্থান হারানোর শঙ্কায় ক্ষুব্ধ!
ইভান রাকিটিচ তাঁদের অন্যতম। বার্সার ক্রোয়াট এ মিডফিল্ডার তো বলেই দিয়েছেন, ‘আমার মতামত তেমন গুরুত্বপূর্ণ না। তবে আমার মতে তাঁর দামটা একটু বেশিই।’ রাকিটিচের এই খুঁতখুঁতে মনোভাবের কারণ সম্ভবত দলে তাঁর জায়গা হারানোর শঙ্কা। কারণ, ১৬ কোটি ইউরো (কুতিনহো) দামের মিডফিল্ডারকে দিয়ে ‘বেঞ্চি গরম’ করলে তো চলবে না! তাঁকে অবশ্যই নিয়মিত খেলাবে বার্সা। সে ক্ষেত্রে দলটির মাঝমাঠে রাকিটিচের জায়গা হারানোর আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি ।তারপর যে দুজন, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ও পাউলিনহো। সাম্প্রতিক সময়ে ইনিয়েস্তার পায়ের কাজ থেকে তাঁর বয়সের অঙ্কটা বেশি চোখে লাগছে। মাঠে বেশি সময় দেখা যাচ্ছে না। কুতিনহো আসায় ইনিয়েস্তার সেই খেলা আরও কমবে বলেই বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে পাউলিনহোকে সাইডবেঞ্চে দেখলে অনেকের খারাপ লাগতে পারে। বার্সায় প্রথম মৌসুমেই নিজেকে নিংড়ে ক্যারিয়ারকে ‘ফিনিক্স’ পাখির মতো পুনর্জীবন দিয়েছেন এ ব্রাজিলিয়ান। কিন্তু তারপরও সাইডবেঞ্চে বসে থাকলে কুতিনহোকে অপছন্দ না করে উপায় থাকে!
রাকিটিচ, ইনিয়েস্তা, পাউলিনহোরা তবু শঙ্কার মধ্যে আছেন। অনেকের তো নু ক্যাম্প থেকে বিদায় মোটামুটি নিশ্চিত। যেমন রাফিনহা, অ্যালেক্স ভিদাল কিংবা ডেনিস সুয়ারেজ। এ মৌসুমে তাঁরা সেভাবে সুযোগ পাচ্ছেন না। নিজেদের ক্যারিয়ার বাঁচাতে অন্য কোথাও পাড়ি জমাতে পারেন তাঁদের অনেকেই। এ তালিকায় থাকবেন জেরার্ড দেউলেফেউ ও আরদা তুরানও। দল ছাড়তে পারেন হ্যাভিয়ের মাচেরানোও। সেটা হতে পারে এই শীতকালীন দলবদলেই।
বার্সায় এই গোপন বিদায় রাগিণীর মধ্যে কুতিনহো কিন্তু বাজাচ্ছেন আগমনী সুর। ‘আদর্শ’—ইয়োহান ক্রুয়েফের মতো ১৪ নম্বর জার্সি পরে খেলতে চান কুতিনহো। এত দিন মাচেরানোর জার্সি নম্বরও ছিল ১৪। কিন্তু সামনে এ জার্সিটা কুতিনহোর পরার সম্ভাবনাই বেশি। অভিযাত্রার শুরুতেই এত দামি খেলোয়াড়ের মন ভেঙে দেওয়ার মতো বোকা নয় বার্সা। কুতিনহোকে কেনার জন্য দলটি এমনিতেই ফাইন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লে (এফএফপি) ধারায় আটকে যাওয়ার শঙ্কায় ভুগছে। তাতে যে অনেকেরই বিদায়ঘণ্টা বাজবে, তা মোটামুটি নিশ্চিত। নিশ্চিত নয় শুধু, কুতিনহোকে বার্সায় সবার পছন্দ করার ব্যাপারটা!
সূত্র: প্রথম আলো