কিশোরগঞ্জে হোমিও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের ভিত্তিতে সংবাদ সম্মেলন

0
991

আশরাফ আলী সোহান, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জস্থ আলহাজ্ব আঃ কদ্দুছ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডাঃ মাজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমে সহযোগিতাদান, সেচ্ছাচারিতা এবং যৌন হয়রানির মত গুরুতর অভিযোগ করে কলেজের অধিকাংশ শিক্ষক, মেডিকেল অফিসার ও ছাত্র-ছাত্রীরা গত ২০ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জ জেলা পাবলিক লাইব্রেরী হল রুমে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রভাষক ও ফার্মেসী বিভাগের প্রধান ডাঃ সফি উদ্দীন ভূঞা। তিনি জানান, কিশোরগঞ্জ শহরে একটি হোমিও কলেজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জেলার কজন হোমিওপ্যাথ ‘ডি. এইচ. এম. এস. ডাক্তার এসোসিয়েশন’ নামে ১৯৯৬ সালে একটি সংগঠন প্রতিষ্টা করে। দীর্ঘ ছয় বছর তাদের ঐকান্তিক চেষ্টায় ২০০২ সনে বত্রিশ ইসলামপুর এলাকার ব্যবসায়ী আলহাজ্ব আঃ কদ্দুছ মিঞা কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য পনের শত জমি দান করেন এবং তখন থেকেই শুরু হয় আলহাজ্ব আঃ কদ্দুছ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের যাত্রা। ডোনারের নিকট থেকে ঋণ নিয়ে কলেজ গৃহ নির্মাণ করা হয় এবং পরবর্তীতে ঋণ পরিশোধ করা হয়। শুরু থেকে এসোসিয়েশনের বাচাই করা সদস্যরা পাঠ ও চিকিৎসা দানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তারা পাঁচ বছর কলেজ থেকে কোন বেতন বা যাতায়াত ভাতা গ্রহন করেননি বরং প্রত্যেকেই নগদ এবং দ্রব্যকারে অনুদান প্রদান করেছেন। জেলা প্রশাসককে বুঝতে না দিয়ে ডোনার নিজ আত্মীয় স্বজন ও অনুগতদের নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে নিজে সহ-সভাপতির পদ দখল করে নেন এবং বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ড রেজুলেশন উপেক্ষা করে যান। এতে মতানৈক্য দেখা দেওয়ায় প্রতিষ্ঠাতা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে তিনি নারী গঠিত অপবাদ দিয়ে পদচ্যুত করেন। এ অপবাদ সইতে না পেরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হার্ট এটাকে হাসপাতালগামী হন, যার রেশ তিনি আজোব্যধি বহন করে চলেছেন। এর পরবর্তী সময়ে নিয়োগকৃত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তার কথা অনুযায়ী কলেজ পরিচালনা না করায় তাকেও ডোনার নারী সংক্রান্ত অপবাদ দিয়ে পদচ্যুত করেন। অথচ তদন্ত রিপোর্ট তাদের পক্ষে ছিল। এর পর চাকুরী বিধি লংঘন করে অনেকের চেয়ে জুনিয়র ডাঃ মাজহারুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং অধিক বয়স্ক ও কম শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন নিজ জামাতা শাহাদাত হোসেনকে করনিক হিসাবে অন্যান্যদের চেয়ে সর্বোচ্চ বেতনে নিয়োগ দেন। এর পর থেকেই শুরু হয়ে যায় চরম অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম এবং শিক্ষিকা-ছাত্রীদের যৌন হয়রানির ঘটনা। ডাঃ মাজহারুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসাবে যোগদানের পর থেকে কলেজ কোন দিন স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, বঙ্গবন্ধুর জন্ম দিবস ও জাতীয় শিশু দিবস সহ কোন জাতীয় দিবস পালন করা হয়নি। অথচ যুদ্ধপরাধী জামাত নেতা মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির আদেশ বহাল রাখা এবং ফাঁসির আদেশ কার্যকর করার প্রতিবাদে জামাত আহুত ৮ ও ১২ মে হরতালের সমর্থনে ডাঃ মাজহারুল ইসলাম কলেজ বন্ধ রাখেন। তিনি একজন মহিলা প্রভাষক ও কয়েক জন ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করেছেন। এ নিয়ে কলেজে ডোনার ও শিক্ষকদের উপস্থিতিতে সালিশ হলেও এর কোন মিমাংসা হয়নি। কলেজের বার্ষিক আয় দেখানো হয় ১৫ থেকে ১৬ লক্ষ টাকা। ব্যায় দেখানো হয় ১৫ থেকে ১৬ লক্ষ টাকা। ফলে কলেজে আয় না থাকার কারণ দেখিয়ে প্রভাষক ও মেডিকেল অফিসারদের বেতন দেওয়া হয়না। ২০১৬ সনে ৩ শ ১৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেয়। এদের নিকট থেকে ভর্তি ফি, টিউশন ফি, ফরম ফিলাপ সহ বিভিন্ন ফি আদায় করা হয় ৫১ লক্ষ ৫৯ হাজার ৫০ টাকা। তাদের দাবীকৃত ব্যয় ১৬ লক্ষ টাকা বাদ দিলেও ৩৫ লক্ষ ৫৯ হাজার ৫০ টাকা প্রতি বছর স্থিতি থাকার কথা। অথচ এ আয়কৃত টাকা কলেজ একাউন্টে জমা না হয়ে কোথায় যায় তা কেউ জানেনা। সরকারী বিধি মোতাবেক শিক্ষক মেডিকেল অফিসারদের কোন বেতন না দিয়ে “নো ওয়ার্ক নো পে” পদ্ধতিতে যাতায়াত ভাতা দেওয়া হয়। প্রতিদিন দু’টি ক্লাসের জন্য প্রতি শিক্ষককে ৬ শ টাকা প্রদানের সিদ্ধান্ত থাকলেও দেওয়া হয়ে থাকে ৩ শ টাকা। হোমিওপ্যাথি বোর্ডের নিয়মানুযায়ী প্রতি কলেজে কমপক্ষে ৮ মাস ক্লাশ হওয়ার কথা। কিন্তু শিক্ষকদের যাতায়াত ভাতা যাতে না দিতে হয় এজন্য এ কলেজে মাত্র তিন-চার মাস ক্লাশ হয়। এমনিভাবে ছাত্রদের নিকট থেকে আদায়কৃত কোন কোন টাকার রসিদ দেওয়া হয়না। কলেজে দুই ধরণের হিসাব সংরক্ষণ করা হয়। একটি অডিটের জন্য, অন্যটি গোপনীয়। দীর্ঘ পনের বছর একই পদে চাকুরী করার পরও হোমিও বোর্ড রেজুলেশন অনুযায়ী স্কেল ভিত্তিক বেতন ও পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে না। তাদের বেতন বাবদ ৪ কোটি টাকা পাওনার দাবী জানালেই শুরু হয় অত্যাচার। ইতিমধ্যে বেশ ক’জন প্রভাষককে আত্মপক্ষ সমর্থনের সূযোগ না দিয়ে কারণ ছাড়াই চাকুরীচ্যুত করেন। দু’জন প্রভাষক এক নোটিশেই চাকুরী হারান। তদন্ত প্রতিবেদন স্বপক্ষে থাকলেও দু’জন মেডিকেল অফিসারকে কাজে যোগ দিতে দেওয়া হচ্ছেনা। অনেককে ক্লাশ করার সুযোগ না দিয়ে বোর্ডে অনুপস্থিত রিপোর্ট পাঠাচ্ছেন। শোনাযায়, এসব প্রভাষক ও মেডিকেল অফিসারদের অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে চাকুরীচ্যুত করে প্রতি পদে ৫ লক্ষ টাকা উৎকোচ নিয়ে নতুূনলোক নিয়োগের নীল নক্সা তৈরী করা হচ্ছে। জেলার একমাত্র হোমিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিকারের আশায় ১০জন প্রভাষক ও মেডিকেল অফিসার গত ৩ মে কলেজের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন দাখিল করে হোমিও বোর্ডের চেয়ারম্যান, রেজিষ্টারসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের নিকট আবেদন জানানো হয়। দেশের বিভিন্নি জাতীয় দৈনিকে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়, শহরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু দীর্ঘ নয় মাসেও কোন ব্যবস্থা গৃহীত না হওয়ায় শিক্ষক ছাত্ররা এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বলে জানান।