কাশ্মির ইস্যুতে ফের মধ্যস্থতার প্রস্তাব ট্রাম্পের

0
263

খুলনাটাইমস বিদেশ :কাশ্মির ইস্যুতে ফের মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এমন প্রস্তাব দেন তিনি। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনের প্রাক্কালে দুই নেতার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডন। দুই নেতার যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, পাকিস্তান ও ভারত উভয়ে চাইলে কাশ্মির ইস্যুতে মধ্যস্থতায় তিনি প্রস্তুত রয়েছেন। কাশ্মির নিয়ে মধ্যস্থতায় রাজি কিনা? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি যদি সাহায্য করতে পারি, তাহলে অবশ্যই তা করবো। আমি প্রস্তুত, ইচ্ছুক এবং সক্ষম। এটা একটা জটিল বিষয়। এটি দীর্ঘদিন ধরে চলছে। তবে যদি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইমরান খান উভয়েই চান, তাহলে আমি তা করতে রাজি আছি। আমি মনে করি, আমি একজন ভাল মধ্যস্থতাকারী হবো।’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, কাশ্মির একটি জটিল বিষয়। দীর্ঘদিন ধরে এ সংকট চলে আসছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট উভয় পক্ষ না চাইলে মীমাংসা করা যায় না। ট্রাম্প বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র সঙ্গেও তার ‘খুব ভালো সম্পর্ক’ রয়েছে। অতীতে কখনও তিনি মধ্যস্থতায় ব্যর্থ হননি এবং চাইলেই তিনি সাহায্য করবেন। কাশ্মির নিয়ে জাতিসংঘের যে প্রস্তাব রয়েছে সে সংক্রান্ত এক প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যান ট্রাম্প। এ সময় নিজের আগের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে তিনি বলেন, ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশ চাইলে তিনি দক্ষিণ এশিয়ায় ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত। ট্রাম্প বলেন, পাকিস্তানের প্রতি আমার আস্থা রয়েছে। তবে হোয়াইট হাউসে আমার পূর্বসূরিদের দেশটির প্রতি এমন আস্থা ছিল না। কিন্তু তারা জানতো না, তারা কী করছিল। পাশে বসা ইমরান খানকে দেখিয়ে ট্রাম্প বলেন, এই ভদ্রলোককে আমি বিশ্বাস করি। নিউ ইয়র্কে আমার বহু পাকিস্তানি বন্ধু রয়েছে যারা স্মার্ট এবং দুর্দান্ত মধ্যস্থতাকারী। দখলকৃত কাশ্মিরের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আপনি কি উদ্বিগ্ন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, অবশ্যই। আমি চাই সবার সঙ্গে ভালো আচরণ করা হোক। ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট ভারত অধিকৃত কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে অঞ্চলটিকে দুই টুকরো করে দেয় দিল্লি। ওই দিন সকাল থেকে কার্যত অচলাবস্থার মধ্যে নিমজ্জিত হয় দুনিয়ার ভূস্বর্গ খ্যাত কাশ্মির উপত্যকা। ফোনে ট্রাম্পকে সামগ্রিক পরিস্থিতি জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও একই ইস্যুতে ট্রাম্পকে ফোন করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নালিশ জানান। দুই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপের পর টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে তিনি কাশ্মিরের বিদ্যমান অবস্থাকে ‘একটি কঠিন পরিস্থিতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। পরদিন হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অঞ্চলটির বিদ্যমান অবস্থাকে ‘উত্তেজনাপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। পরে হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘কাশ্মির খুবই জটিল একটি জায়গা। সেখানে হিন্দু রয়েছে মুসলিমও রয়েছে। আমি বলতে পারি না যে তারা একসঙ্গে ভালো রয়েছে। সেখানে মধ্যস্থতা করতে আমি যতটুকু সম্ভব করবো। আপনারা দুটি দেশ, দীর্ঘ সময় ধরে একসঙ্গে এবং ঘনিষ্ঠভাবে থাকতে পারছেন না, এটা খুবই বিস্ফোরক পরিস্থিতি।’ ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি আমরা বিষয়টিকে সাহায্য করছি। যেমনটা আপনারা জানেন, দুই দেশের মধ্যে প্রচ- রকম সমস্যা রয়েছে। মধ্যস্থতা করতে আমি যতটা সম্ভব করবো অথবা কিছু তো করবো।’ এর আগে একই ইস্যুতে ইমরান খান ও নরেন্দ্র মোদি-র সঙ্গে ফোনালাপের পর টুইটারে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার দুই ভালো বন্ধু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে কথা হয়েছে। বাণিজ্য ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, কাশ্মিরে উত্তেজনা হ্রাসে কাজ করার বিষয়ে ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে কথা হয়েছে। একটি কঠিন পরিস্থিতি, কিন্তু ভালো আলোচনা হয়েছে!’ সূত্র: ডন, এনডিটিভি।