কালিগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অন্তঃস্বত্ত¡া স্ত্রীর মামলায় গ্রেপ্তার ১

0
648

ডাঃ জি.এম ফজলুর রহমান, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি, খুলনাটাইমস:
সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জের বহুল আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী, আর্ন্তঃজেলা মোটরসাইকেল ছিনতাই চক্রের সদস্য, পুলিশের কথিত সোর্স পরিচয়দানকারী নাসির উদ্দীনের বিরুদ্ধে তার ৮ মাসের অন্তঃসত্ত¡া স্ত্রীর নিকট হতে যৌতুকের টাকা না পেয়ে নির্যাতনের ঘটনায় স্ত্রী মাছুরা বেগমের দায়েরকৃত মামলায় পুলিশ ১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গত শনিবার রাতে উপজেলার দুদলি গ্রাম হতে নাসিরের মাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।


গ্রেপ্তারকৃত মহিলার নাম নুরুন্নাহার বেগম (৫০)। সে দুদলি গ্রামের বাশারাত আলী সরদারের স্ত্রী। দাবীকৃত ২লক্ষ টাকার যৌতুক না পেয়ে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত¡া স্ত্রীকে অস্বীকার এবং বেধড়ক পিটিয়ে গত মঙ্গলবার বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় এ মামলা দায়ের করে তিনি।
উক্ত ঘটনায় তার স্ত্রী শ্যামনগর থানার চন্ডিপুর গ্রামের আবু বক্কার সিদ্দিকের কন্যা মাছুরা বেগম বাদী হয়ে ৪জন কে আসামী করে গত শুক্রবার রাতে কালিগঞ্জ থানায় ১১(১৬)৩০ ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনী ২০০৩ যৌতুকের দাবীতে মারপিট ও সহায়তার অপরাধে একটি মামলা দায়ের করে। মামলা নং-১৬। মামলায় আসামী করা হয়েছে স্বামী দুদলি গ্রামের বাশারাত আলীর পুত্র নাসির উদ্দীন, শ্বশুর বাশারাত, শ্বাশুড়ী নুরন্নাহার বেগম, দেবর মোহন সরদারকে।
থানা সূত্রে জানা যায় কালিগঞ্জ থানার দুদলি গ্রামের বাশারাত আলীর পুত্র বহুল আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী, আর্ন্তঃজেলা মটরসাইকেল ছিনতাই চক্রের সদস্য কালিগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের বহুল আলোচিত সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নিজের একাধিক বিয়ে গোপন করে ২লক্ষ টাকা দেন মোহর ধার্য করে গত ২০১৭ সালের পহেলা জানুয়ারী মাছুরা বেগমকে বিবাহ করে। বিবাহের পর হইতে সাতক্ষীরা পলাশপোল গ্রামের রাশিদুল হকের বাড়ীতে স্বামী স্ত্রীর পরিচয়ে ভাড়া থাকতো। সেখানে সে প্রায় যৌতুকের দাবীতে মারপিট ও নির্যাতন চালাতো। এ ছাড়াও উক্ত বাসায় মাদক ব্যবসায়ী এবং মাদক সেবীদের আড্ডা বসিয়ে প্রতিদিন নিত্য নতুন নারীদের নিয়ে ফুর্ত্তি করতো এবং সেইসব নারীরা তার স্ত্রী বলে পরিচয় দিত। এর প্রতিবাদ করলে নেমে আসতো তার উপর জুলুম নির্যাতন। বিষয়টি নিয়ে তার বাড়ীতে এসে শ্বশুর, শ্বাশুড়ীকে জানালে এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নাসির এবং তার বাবা মা ভাইরা মিলে গত মঙ্গলবার বেধড়ক পিটিয়ে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দেয়। এ প্রসঙ্গে কালিগঞ্জ থানা ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাসিরের স্ত্রী মাছুরা বেগম এ প্রতিনিধিকে বলেন দুই পক্ষের অভিভাবকের অমতেই নাসিরের সাথে বিয়ে হয় তার। এরপর নাসির তাকে সাতক্ষীরায় নিয়ে ভাড়া করা বাসায় থাকতো। মাছুরা বলেন নাসিরের সাথে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সুসম্পর্ক ছিল। সে নিজেই একজন ইয়াবাসেবী। ইয়াবা ও ফেনসিডিল কেনাবেচাও করে। প্রায়ই রাতে তাদের বাসায় আসতো ফিরোজ ও আমিনুর নামের পুলিশের দুই সদস্য। সাথে থাকতো ইটাগাছার সাইফুল নামের আরও এক যুবক। তারা এক সাথে আমার ঘরে বসে ইয়াবা খেতো। পুলিশের সাথে চুক্তি করে সাধারণ মানুষকে ধরিয়ে আনতো। আমি আপত্তি জানাতাম। প্রতিবাদ করায় আমাকে মারধর করতো নাসির । জানাজানি করলে বলতো ‘তোর বাবার নামে মামলা দিয়ে জেল খাটাবো’। মাছুরা তার দেহের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ণ দেখান। মাছুরা জানান তার পেটের প্রথম সন্তান সাড়ে চারমাস পর গর্ভপাতের মাধ্যমে নষ্ট করায় নাসির । দ্বিতীয় সন্তান পেটে আসার পর থেকে নাসির আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এরই মধ্যে সে অপর আরো একটি মেয়ের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে । তাকে ঘরে নিয়ে আসতো। বোন পরিচয়ে ঘরে রাখতো। তার সাথে বসে ইয়াবা খেতো। আর আমি প্রতিবাদ করলে আমাকে মারপিট করতো। মাছুরা জানান পেটের সন্তান নষ্ট করে দেওয়ার জন্য আমাকে চলা কাঠ দিয়ে কোমরে আঘাত করেছে নাসির। তিনি জানান তার গলায় ওড়না পেচিয়ে তাকে খুন করারও চেষ্টা করেছিল নাসির। কিন্তু প্রতিবেশিরা এসে তাকে রক্ষা করেন। মাছুরা জানান এ ভাবে আরও একাধিক নারীর বিয়ের প্রলোভনের ফাঁদে সর্বনাশ করেছে। বিষয়টি তার বাবা মা জানলেও কোন প্রতিবাদ করেনি। সর্বশেষে নিজের গর্ভের সন্তানের কথা চিন্তা করে শ্বশুরের বাড়ীতে আশ্রয় নিলেও সেখান থেকে তারা নির্যাতন করে তাড়িয়ে দেয়। এ ব্যাপারে নাসির উদ্দীনের মুঠোফোনে একাধিকবার সত্যতা জানার জন্য চেষ্টা চালিয়েও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক ফণী ভূষন বলেন মামলা হয়েছে নাসিরের মাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকী আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য সাংবাদিকদের সহায়তা চান তিনি।
#