কর ন্যায্যতা এবং উন্নয়ন ও জনসেবায় বাজেট বিষয়ক বৈঠক

0
435

কর ন্যায্যতা এবং উন্নয়ন ও জনসেবায় বাজেট বিষয়ক এক গোল টেবিল বৈঠক গনতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন খুলনা জেলা কমিটির সভাপতি এ্যাড.কুদরত-ই-খুদার সভাপতিত্বে ২৫ নভেম্বর শনিবার বিকাল ৪টায় দৈনিক প্রবাহ এর কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হয়। গোল টেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সংবিধান প্রণেতা,সাবেক সংসদ,প্রবিন আইনজীবী এড.এনায়েত আলী। প্রধান বক্তা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনোরুল কাদির।
বৈঠকে বক্তারা বলেন কর দাতার মধ্যে ৮০ শতাংশ কর দেননা। আবার যারা কর দেন তাদের মধ্যে একটি বর অংশ কর কম বা ফাঁকি দেন। অন্যদিকে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান,বহুজাতিক কম্পানী গুলি কর সুবিধা গ্রহন করে ,শর্ত পূরণ না করে এবং নানা কৌশলে বড় অংকের কর ফাঁকি দেয় এবং বিদেশে অর্থ পাচার করে। এ পাচারের অর্থ দিয়ে ২টি পদ্মা সেতু করা যেত। বক্তারা বলেন বৈষম্য লোপ করতে হলে সরকারকে হস্তক্ষেপ করতে হবে। সামাজিক অবকাঠামো (শিক্ষা,স্বাস্থ্য,পয়নিস্কাশন,সামাজিক সচেতনতা) ব্যয় বৃদ্ধি করতে হবে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে,হাজার,হাজার শুন্য সরকারী/রাষ্ট্রিয় পদগুলি নিয়োগ দিতে হবে। অবকাঠামো সৃষ্টি করে কর্মসংস্থান হয়েছে বলে আমরা মনে করি, কিন্তু বর্তমান প্রযুক্তির যুগে অবকাঠামো দিয়েই শুদু খাদ্য যোগান সম্ভব নয়,গুনগত শিক্ষা দিয়ে কর্মক্ষম মানুষ সৃষ্টি করতে হবে। গুনগত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য অতিব গুরুত্বপুর্ন বিষয় বর্তমানে। ট্যাক্স এর সুষ্ট ব্যবহার,ট্যাক্স ফাকি রোধ ,ট্যাক্স প্রদানকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি ,যা বর্তমানে খুবই নগন্য,এর পরিমান ৯০ ভাগ করা গেলে সাধারন মানুষ এর উপর এবং নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যর উপর ভ্যাট কমে আসবে। ট্যাক্স নির্ভর বাজেট হবে ভ্যাট নির্ভর নয়। উন্নত দেশে বাজেট তৈরী হয় ট্যাক্স এর টাকা দিয়েই।তারা বলেন অর্থ ফাঁকী দেওয়া,অর্থ পাচার করা ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
সভায় বক্তারা বলেন দেশ এগুচ্ছে,শিক্ষা,স্বাস্থ্যসহ মানব উন্নয়ন সুচকের এগুচ্ছে,প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। আয়-দারিদ্র কমছে,শহর-গ্রামের দূরত্ব কমছে। কিন্তু কমছেনা ধনী-গরীবের ব্যবধান,আঞ্চলিক বৈষম্য,গনসেবাখাতে বিশৃংখলা,দূর্নীতি এবং জবাবদিহীনণতার সংস্কৃতি। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার স্বপ্ন সামনে।এর জন্য রাজনৈতিক দূরদর্শীতা ও সৃজনশীল উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রয়োজন,তার পাশাপাশি এর পিছনে চাই ব্যাপক রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ ও অর্থসংস্থানের কৌশল। এক্ষেত্রে ধনিক শ্রেনীর উপর উচ্চ করহার আর দরিদ্র শ্রেনীর উপর নি¤œতম করহার নির্ধারণ কল্যানমূলক রাষ্ট্রের একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য। আয়কর ও স্থাবর সম্পত্তির উপর কর ফাঁকির কারণে রাজস্ব ঘাটতি বাড়ছ্ েঅন্যদিকে মেহনতি মানুষের উপর সেই ঘাটতির বোঝা চাপানো হচ্ছে ভ্যাট সহ বিভিন্ন প্রকার পরোক্ষ করের মাধ্যমে। কর ফাঁকির ফলে সরকার শুধু রাজস্ব হারাচ্ছে না,দেশের সার্বিক উন্নয়নে সেবা খাত ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে যে পরিমান বরাদ্ব করা প্রয়োজন তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ জনগণ।অন্যদিকে প্রতক্ষ্য বেদেশিক বিনিয়োগের মাধ্যমে বহুজাতিক কোম্পানি বিশেষত টেলিকম ও জালানী কোম্পানিগুলো এ দেশে দেদারষে কর ফাঁকি দিচ্ছে। সরকার বাজেট মোকাবেলার সহজ পথ হিসেবে সাধারণ মানুষের উপর ভ্যাটের বোঝা ক্রমাগত চাপিয়ে যাচ্ছে।এর ফলে বাড়ছে আর্থিক বৈষম্য ও অসমতা।
গোরটেবিল বৈঠকে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন-খুলনা জেলা কমিটি সদস্য সচিব খালিদ হোসেন। আরও বক্তব্য প্রদান করেন রাজনীতিবিদ রফিকুল হক খোকন, এফ এম ইকবাল, আরিফুজ্জামান মন্টু,রংগলাল মৃধা, অধ্যক্ষ ড. এম এন আলম সিদ্দিকি,তপন কুমার রায়, ব্যবসায়ী এস এম সোহরাব হোসেন, আফজাল হোসেন রাজু, আরো বক্তব্য প্রদান করেন অধ্যাপক সেখ সাদী ভ’ইয়া, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির কেন্দ্রীয সদস্য অধ্যাপক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম , খুলনা বিভাগীয় কর আইন জীবীর সভাপতি এস,এম,শাহনেওয়াজ আলী,এড. মোঃ জাহাঙ্গীর সিদ্দিকি ,শিক্ষক সৈয়দ আলী হাকিম,,আবুল বাসার,সাংবাদিক খলিলুর রহমান সুমন,ওয়াহেদ-উজ-জামান,সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেসার জনগন ও নাগরীক নেতৃবৃন্দ।#