করোনায় বেনাপোল চেকপোষ্ট ইমিগ্রেশনে ভারত ভ্রমন খাতে রাজস্ব ঘাটতি ৫২ কোটি টাকা

0
234

নিজস্ব প্রতিবেদক :


করোনা ভাইরাসের কারনে বেনাপোল চেকপোষ্ট ইমিগ্রেশন ভারত ভ্রমনে পার্সপোট যাত্রীদের বিভিন্ন শর্ত আরোপ করায় গত বছরের মার্চ মাস থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে প্রায় ৫২ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে।গত বছরের তুলোনায় এবছর যাত্রী সংখ্যা কমে গেছে প্রায় ১০লক্ষ।

বেনাপোল চেকপোষ্ট ইমিগ্রেশনের একাট সুত্রে থেকে জানাগেছে ২০২০ সালে বেনাপোল চেকপোষ্ট দিয়ে ৩ লাখ ৪ হাজার ৫০০ জন দেশি-বিদেশি পাসপোর্ট যাত্রী ভারতে প্রবেশ করেছে। এসময় যাত্রীদের কাছ থেকে ভ্রমণ কর বাবদ সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে মাত্র ১৬ কোটি ৬৮ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। এর আগে ২০১৯ সালে এপথে ভারতে ভ্রমনে যায় ১২ লাখ ৫৫ লাখ ৯০০ জন যাত্রী। ভ্রমণ কর বাবদ ৬৮ কোটি ১৩ লাখ ২৫ হাজার ৭৫০ টাকা রাজস্ব আদায় হয়। শুধু মাত্র করোনা ভাইরাসের কারনে ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে যাত্রী যাতায়াত কমেছে ৯ লাখ ৫১ হাজার ৪০০ জন।বেনাপোল সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার আকতার ফারুক রাজস্ব ঘাটতির বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ১৯৭২ সাল থেকে বৈধভাবে বেনাপোল বন্দর দিয়ে পাসপোর্টে ভারত যাতায়াত শুরু হয়। বেনাপোল থেকে কলকাতা শহরের দূরত্ব মাত্র ৮৪ কিলোমিটার। বেনাপোল থেকে রওনা দিয়ে ট্রেন ও বাসযোগে মাত্র আড়াই ঘণ্টায় পৌঁছানো যায় কলকাতা শহরে। যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হওয়ায় প্রথম থেকে এ পথে চিকিৎসা, ব্যবসা ও ভ্রমণ পিপাসু মানুষ যাতায়াতে স্বাচ্ছন্দ্য করে থাকে। বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতগামী যাত্রীদের কাছ থেকে ভ্রমণ কর আদায়ে কাজ করে থাকে সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। যাত্রী প্রতি ৫০০ এবং বন্দরের ৪৮ টাকা ভ্রমণ কর নেওয়া হয়। কিন্তু গেল বছর করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ভারত সরকার ১৩ মার্চ থেকে বেনাপোল বন্দরের স্থলও রেলপথে পাসপোর্ট যাত্রীদের ভারতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। বন্ধ হয় আকাশ পথেও যাত্রী যাতায়াত। এতে যাত্রী যাতায়াত যেমন আশঙ্কাজনক হারে কমে আসে তেমনি ভ্রমণ খাতে সরকারের আয় কমে যায়।

পরবর্তীতে চার মাস পর শর্ত সাপেক্ষে গত ১৫ আগস্ট থেকে কূটনীতিক, অফিশিয়াল, জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন প্রকল্পের ভিসাধারীদের যাতায়াতে সুযোগ হয়। তবে এখনও পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে ট্যুরিস্ট ভিসায় ভ্রমণ।

বেনাপোল বন্দরের সহকারী পরিচালক আতিকুল রহমান চেকপোষ্ট ইমিগ্রেশনে ভারতগামী পার্সপোট যাত্রীদের নানা সমস্যার কথা স্বীকার করে জানান,করোনার প্রভাবে দু দেশের মধ্যে যাত্রী যাতায়াত কমে এসেছে। এতে ভ্রমণ খাতে সরকারের আয় কমেছে। যাত্রী যাতায়াত সুবির্ধাতে নতুন জায়গা অধিগ্রহণের পরিকল্পনা ও প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির কাজ চলমান রয়েছে।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান হাবিব জানান, বর্তমানে ভারতগামী যাত্রীদের ৯০ শতাংশ চিকিৎসা ভিসায় এবং ১০ শতাংশ যাচ্ছে ব্যবসা ও সরকারি কাজে। ট্যুরিস্ট ভিসা এখন পর্যন্ত চালু হয়নি। ভারত যাওয়া ও ভারত থেকে ফেরার পথে যাত্রীদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে করোনা পরীক্ষা করা নেগেটিভ সনদ প্রয়োজন হচ্ছে এজন্য যাত্রী সংখ্যা কম।