করোনার প্রকোপ ও মৃত্যু বাড়ছে, সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার বিকল্প নেই

0
31

সারাবিশ্ব করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত। দিন যতই যাচ্ছে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, বৃদ্ধি পাচ্ছে মৃতের সংখ্যাও। এ নিয়ে সারা বিশ্ব টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে। যে দেশ যতই আশার বাণী শোনাক, এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। করোনার টিকাও নিশ্চিত করতে পারছে না এর প্রতিরোধ। সারাবিশ্বে এ পর্যন্ত ১৩ কোটি ৮৩ লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত মারা গেছে ২৯ লাখ ৭৩ হাজার মানুষ। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ভারতে একদিনে দুই লাখ আক্রান্ত হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান। আর বাংলাদেশ তৃতীয় অবস্থানে। বাংলাদেশে মোট আক্রান্ত ৭ লাখ ৭ হাজার। এ পর্যন্ত মারা গেছে ১০ হাজার ৮১ জন, যা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। মাঝে করোনাভাইরাসের প্রকোপ কমে গিয়েছিল। তখন দিনে ৫ থেকে ৬শ জন আক্রান্ত হতো। মৃত্যু নেমে এসেছিল ১০-এর নিচে। তখন সবার মাঝে ঢিলেঢালাভাব লক্ষ্য করা গেছে। তখনো বাংলাদেশ ছাড়া সারাবিশ্বে টালমাটাল অবস্থা, এমনকি প্রতিবেশী দেশ ভারতের অবস্থাও আশঙ্কাজনক পর্যায়ে ছিল। এমন অবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে আমরা উদাসীন হয়ে পড়লাম। যার খেসারত এখন আমাদের দিতে হচ্ছে। এখন প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ হাজার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। মারা যাচ্ছে একশর কাছাকাছি। এই অবস্থা আমাদের জন্য খুবই আতঙ্কের। পরিস্থিতি সামাল দিতে ১৪ থেকে ২১ এপ্রিল জরুরি সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠান ছাড়া সরকারি-বেসরকারি সব অফিস, গণপরিবহণ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে সোমবার ১২ এপ্রিল প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। পরে অবশ্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়। দেশব্যাপী চলছে কঠোর লকডাউন। আমরা মনে করি এই লকডাউন কমপক্ষে ২১ দিন করা হোক। কারণ করোনাভাইরাসের জীবাণু মানুষের শরীরে জীবিত থাকে কমপক্ষে ১৪ দিন। সে বিবেচনায় কমপক্ষে ২১ দিন লকডাউন থাকলে এবং দেশের মানুষ সরকারের দেওয়া নির্দেশনা মেনে চললে করোনার প্রকোপ কমে আসবে বলে আমাদের ধারণা। এ ক্ষেত্রে দেশের গরিব মানুষের কথা সরকারকে ভাবতে হবে। তাদের জন্য দ্রæত বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে। যদিও সরকার এ ব্যাপারে তৎপর ও মনোযোগী। আশার কথা, বাংলাদেশের খ্যাতিমান স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দিন-রাত জনগণের মধ্যে সচেতনতা, করণীয় এবং প্রতিরোধের উপায়বিষয়ক দিকনির্দেশনা দিয়ে মানুষের মধ্যে সাহস, শক্তি জোগাচ্ছেন। করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের আলাদা করে আইসোলেশন নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংক্রমণের রাশ টানতে আরও বেশি নমুনা পরীক্ষার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, রোগী শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারলে মহামারি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। আমরাও তাই মনে করি। অবশ্য, সরকারের রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অবশ্য দাবি করছেন, কেবল নমুনা পরীক্ষা নয়, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ‘সব ধরনের প্রক্রিয়াই’ অনুসরণ করা হচ্ছে। সংক্রমণ কমাতে সরকারের পদক্ষেপের ইতিবাচক প্রভাব ‘দ্রæতই পাওয়া যাবে’ বলেও আশা করছেন তিনি। এ ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। দেশ থেকে করোনার প্রকোপ ও মৃত্যু কমে আসুক, দেশের মানুষ নিরাপদে থাকুক এ প্রত্যাশাই করছি।