করোনার পর নতুন আতঙ্ক বø্যাক ফাঙ্গাস

0
31

করোনা সংক্রমনে অস্থির বিশ। দক্ষিন এশিয়ার ছ’দেশেই বিশে^র ১৮ শতাংশ করোনা রোগী। সারা বিশে আক্রান্ত দেশ ও অঞ্চল ২২২টি। তবে বিশে^র মৃত্যুর ১০ শতাংশই দক্ষিণ এশিয়ার ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভ‚টান, নেপাল ও মালদ্বীপে। এদিকে গত ২৮ মে দক্ষিন এশিয়ায় করোনার সংক্রমন শনাক্তের সংখ্যা তিন কোটি পেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে শীর্ষ সংক্রমন হয়েছে ভারতে। দেশটি করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। নিজে করোনা টিকা উৎপাদনকারী দেশ হলেও সেখানে রয়েছে টিকা সংকট। বিশে^র সবচেয়ে অধিক জনসংখ্যার দেশের দিক থেকে ভারত দ্বিতীয়। গত বছর করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে চলতি মাসে দেশটিতে করোনাায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ২৮ মে পর্যন্ত ভারতে ২ কোটি ৭৬ লাখ মানুষের করোনা শনাক্ত হয়েছে এবং মারা গেছেন ৩ লাখ ১৮ হাজার ৮৯৫ জন।
করোনা সংকট মোকাবেলায় ভারত তাদের টিকা রপ্তানী বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলংকা ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশ বিকল্প দেশে টিকা সংগ্রহ করার চেষ্টা করছে। কয়েকদিন থেকে ভারতে করোনা সংক্রমনের হার নি¤œমুখী হলেও বাংলাদেশের সংক্রমনের হার উর্ধ্বমুখী। পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর থেকে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমন বেড়ে গেছে। ভারত সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে তুলনামুলকভাবে এ সংক্রমন বেশি। অবশ্য এর মধ্যে দেশে করোনার ভারতীয় ধরন শনাক্ত হয়েছে। ঈদের পর সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে তুলনামুলক সংক্রমন বেশি দেখা যাচ্ছে। আক্রান্তদের কারো কারো সম্প্রতি ভারত সফরের ইতিহাস রয়েছে। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা সংক্রমন সনাাক্তের ঘোষণা দেওয়া হয়। সেদিন থেকে ২৬ মে ২০২১ পর্যন্ত মোট সনাক্ত ৭ লাখ ৯৩ হাজার ৬ শত ৯৬ জন। মারা গেছেন মোট ১২ হাজার ৪ শত ৫৮ জন।
বাংলাদেশের করোনা সংক্রমন নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থাও। বাংলাদেশ সরকার সংক্রমন ঠেকাতে জনসচেতনা বাড়াতে লাগাতার লক ডাউন ঘোষনা দিলেও জনগন বেপরোয়া। তারা এ লক ডাউনের মধ্যেই পবিত্র ঈদুল ফিতর পালন করতে গ্রামের বাড়ি ছুটে গেছেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জনগনের এহেন আচরনে দেখে আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, ঈদের পর সংক্রমন আরো বাড়বে। আর হয়েছেও তাই। তবে আশার কথা বাংলাদেশের জনগন করোনার টিকা নেবার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। কিন্তু বাস্তবতা ভারতের সেরাম টিকা শেষের দিকে। বিকল্প টিকা আমদানীর জন্য সরকার রাশিয়া ও গণচীনের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। আশা করা যায় খুব শিঘ্রই বিকল্প দেশ থেকে টিকা আনা সম্ভব হবে।
তবে মড়ার ওপর খাড়ার ঘা হয় বø্যাক ফাঙ্গাস নামে আরেকটি নতুন রোগ করোনা আক্রান্তদের দেহে বাসা বাধছে। ভারতে দিল্লীতে এ রোগকে মহামারি হিসেবে ঘোষনা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশেও আক্রান্ত হয়েছেন কয়েকজন। ইতোমধ্যে একজনের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে।
প্রকৃতির বৈরিতার করাল গ্রাসে পড়ে আজ আমরা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে। তাই নিজেদের সচেতন হওয়া ছাড়া কোন পথ নেই। স্বাস্থ্য বিধি মেনে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে নিজে বাঁচি অন্যকে বাঁচাই। সাথে নিরাপদ করি সবাইকে।