‘করদাতাদের সহজভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরী করে দিতে হবে : এমপি মিজান 

0
608
বি. সাহা ঃ বিশেষ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে করদাতাদের অনুপ্রাণিত করতে হবে। দেশের সবচেয়ে বেশি করদাতা খুলনায়। এটা খুলনাবাসীর গর্বের বিষয়। খুলনাকে সমৃদ্ধ নগরীতে পরিণত করতে হলে আয়করের বিকল্প নেই। সামগ্রিক কল্যাণে তাই সবাইকে স্ব-প্রণোদিত হয়ে কর দিতে হবে। করদাতাদের সহভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরী করে দিতে হবে। এসব কথা বলেন খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজান।
বুধবার সকাল ১০টায় জাতীয় আয়কর মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন। এসময় তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ের তুলনায় বর্তমানের আয়কর বিভাগ সম্পর্কে মানুষের ধারণা পরিবর্তন হয়েছে। এখন আর মানুষ আয়কর দিতে ভয় পায়না। এজন্য তিনি খুলনা কর অঞ্চলের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কর কমিশনার মোঃ ইকবাল হোসেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন মংলা কাষ্টম, খুলনার কমিশনার মারগূব আহমদ, খুলনার কর আপীল কমিশনার প্রশান্ত কুমার রায়, খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি কাজী আমিনুল হক এবং খুলনা কর আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাড. মোঃ লুৎফর রহমান। স্বাগত বক্তৃতা করেন কর অঞ্চল খুলনার যুগ্ম কর কমিশনার গণেশ চন্দ্র মন্ডল। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অবসরপ্রাপ্ত সহকারী কর কমিশনার গোলাম মোস্তফা। এর আগে প্রধান অতিথি বেলুন ও কবুতর উড়িয়ে আয়কর মেলা ২০১৭ এর উদ্বোধন করেন।
‘সুখী স্বদেশ গড়তে ভাই, আয়করের বিকল্প নাই’ ‘সমৃদ্ধির সোনালী দিন, আনতে হলে আয়কর দিন’-এরকম  নজরকাড়া শ্লোগান সম্বলিত ব্যানার, ও নান্দনিকভাবে সাজানো হয়েছে বয়রাস্থ কর ভবন। আয়কর মেলা চলবে আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত এবারের আয়কর মেলায় দর্শনার্থীদের আট ধরণের সুবিধা দেওয়া হবে। মেলায় নতুন করদাতাগণ ই-টিআইএন রেজিস্ট্রেশন ও পুরাতন করদাতাগণ রি-রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। আয়কর রিটার্ন পূরণ ও দাখিলের জন্য সব ধরণের সহযোগীতা প্রদান করা হবে। অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের বিশেষ সুবিধা থাকবে। যেকোন বিষয়ে জিজ্ঞাসার জন্য হেলপ ডেস্ক’র সহযোগীতা নেওয়া যাবে। আয়কর প্রদানের জন্য সোনালী ও জনতা ব্যাংকের বুথের ব্যবস্থা থাকবে। আয়কর অধিক্ষেত্র ও আইন বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হবে। এছাড়াও মহিলা, প্রতিবন্ধী ও প্রবীন করদাতাদের জন্য পৃথক কাউন্টারের সুবিধা থাকবে।
প্রতি বছরের ন্যায় সপ্তম বারের মত এবছর খুলনা কর অঞ্চলের উদ্যোগে বিভাগীয় ১০টি জেলা শহর ও ৮টি উপজেলা সার্কেলে এই মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে বয়রাস্থ কর ভবনে ৭দিন ব্যাপী, বাকী ৯টি জেলা শহরে ৪ দিন ব্যাপী এবং ৬টি উপজেলায় ২ দিন ও ১ দিন এই মেলা অনুষ্ঠিত হবে। ২-৫ নভেম্বর যশোর পৌর কমিউনিটি সেন্টার, বাগেরহাট অফিসার্স ক্লাব, চুয়াডাঙ্গা এসোসিয়েশন হল (সাহিত্য পরিষদ), ঝিনাইদহ পৌরসভা চত্বও, কুষ্টিয়া পৌরসভা চত্বরে এবং ৪-৭ নভেম্বর সাতক্ষীরা শিল্পকলা একাডেমী, মেহেরপুর পৌরসভা টাউন হলে, নড়াইল উপজেলা পরিষদ, মাগুরা সাহা পাড়া আয়কর অফিসে এই মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও ৫-৬ নভেম্বর ঝিকরগাছা ও নওয়াপাড়া, ৬-৭ নভেম্বর ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ, কুষ্টিয়া ভেড়ামারা, বাগেরহাট মংলা ও সাতক্ষীরা কালীগঞ্জে দুই দিন ব্যাপী এবং কুষ্টিয়ার কুমারখালী ও ডুমুরিয়ার উজেলায় ১ দিন এই মেলা অনুষ্ঠিত হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম কর কমিশনার মোঃ মঞ্জুর আলম, উপকর কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, আবু নসর মোঃ মাহাবুবুজ্জামান ও মোঃ আবু মুসা, সহকারী কর কমিশনার রুপন চন্দ্র দাস, অনিমেষ চন্দ্র দাস এবং অতিরিক্ত সহকারী কর কমিশনার নীলাক্ষি রতন মন্ডল।