কপোতাক্ষের কপিলমুনি চরভরাটির বন্দোবস্তকৃত খাসজমির দখল – পাল্টা দখলের ঘটনায় মামলা

0
541

শেখ নাদীর শাহ্,কপিলমুনি:
কপিলমুনির কপোতাক্ষের চরভরাটি খাস জমির বন্দোবস্ত নিয়ে দখল-পাল্টা দখলের ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে এবার তপন পাল নামে স্থানীয় এক সাংবাদিককে মামলায় আসামী করা হয়েছে। গত ১৬ মে পাইকগাছা বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্থানীয় তপন কুমার সাধুর ছেলে অমিত সাধু ওরফে শান্ত’র দায়ের করা মামলায় তাকে ৫ নং আসামী করা হয়েছে। ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এব্যাপারে তারা সুষ্ঠু তদন্তপূবূক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রসঙ্গত,পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনির এনায়েত সরদারের স্ত্রী মালঞ্চ বিবি পাইকগাছা উপজেলা ভূমি অফিসে মিস কেস যার চেক রসিদ নং-৯২/১২-১৩,মিস কেস ১৪৯৮/১২-১৩,তারিখ ১৮/৪/১৩ ও চেক রসিদ নং-৫৪/১২-১৩,মিস কেস নং-৮৭৬/১২-১৩,তারিখ-১৬/১/১৩ এর বিপরীতে নাছিরপুর,রেজাকপুর ও কাশিমনগর মৌজার ৫৯৫,১২৬৭ ও ৩৩ নং দাগের ১ একর সম্পত্তির ১ সনা বন্দোবস্ত প্রাপ্ত হন।
এরপর তিনি বন্দোবস্তকৃত জমির দখল বুঝে পেতে খুলনা জেলা প্রশাসকের নিকট একটি আবেদন করলে গত ৩০ জানুয়ারী ১৮’ ০৫.৪৪.৪৭০০.০৩১.৩৩.০০১.১৮-১৪৫৫ নং স্মারকে দখল ও সীমানা বুঝে দিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাইকগাছাকে নির্দেশ দেন। এরপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার সাকিরুল ইসলাম,ইউএলও স্থানীয় ফাঁড়ি পুলিশকে সাথে নিয়ে ঐএলাকার খাস জমি জরিপপূর্বক নির্ধারণ করে পাকা পিলার দিয়ে লাল পতাকা উঠিয়ে তা সরকারের দখলে নেয়া হয়।
এরপরও মালঞ্চ তার বন্দোবস্তকৃত জমি বুঝে না পাওয়ায় সর্বশেষ গত ৫ মে পুনর্দখল বুঝে পেতে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি আবেদন করলে ইউএনও ৬ মে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনে কপিলমুনি ভূমি অফিসের ইউএলও ও স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির এসআই বাবুল হোসেনকে বলেন। যার প্রাপ্তি নং-২৯৪।
সর্বশেষ ইউএনও’র অনুমতিতে স্থানীয় ইউএলও-স্থানীয় পুলিশের সহযোগীতায় মঙ্গলবার সকালে কপিলমুনির কপোতাক্ষ তীরের বন্দোবস্ত প্রাপ্ত খাস জমিতে তৃতীয় দফায় ঘর বাঁধতে গিয়েও দখলদারদের বাঁধার সম্মুখিন হন।
এদিকে ১৪ মে কপোতাক্ষের চরভরাটি খাস জমির দখল-বেদখলের খবরে অন্যান্য সহকর্মীদের সাথে খুলনা থেকে প্রকাশিত দৈনিক জন্মভূমির কপিলমুনি প্রতিনিধি তপন পালও ঘটনাস্থলে যান সংবাদ সংগ্রহে। একপর্যায়ে অমিত সাধু গং মালঞ্চ বিবির ঘর নির্মাণ কাজে বাঁধা প্রদান করেন। এক পর্যায়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্জ্ব আক্তারুজ্জামান বাবু ও উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী মোহাম্মদ আলী দলীয় নেতা-কর্মীদেও সাথে নিয়ে ঘটনাস্তলে উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষকে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আশ্বস্থ করলে উভয় পক্ষ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এদিকে এমপি-উপজেলা চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত দেয়ার আগেই সরকারি জমির দখলদার তপন কুমার সাধুর ছেলে অমিত সাধু বাদী হয়ে গত ১৬ মে পাইকগাছা বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কপিলমুনি ভূমি অফিসের ইউএলএও মো: জাকির হোসেন,স্থানীয় সার্ভেয়ার রহমত আলীসহ সাংবাদিক তপন পালকে জড়িয়ে ৭ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছে। যার নং-সি,আর-২৮৫/২০১৯
এদিকে খাসজমির বন্দোবস্ত গ্রহীতা অসহায় ভূমিহীন এনায়েত সরদারের স্ত্রী মালঞ্চ বিবি জানান, ২০১৮ সালের ১১ মার্চ ভোরে অনুরুপ হামলা চালিয়ে তার বসত-বাড়ি ভাংচুর ও মারপিট করেছিল দখলদাররা। ঐঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসা শেষে তিনি পাইকগাছা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মিস মামলা করেন। যার নং-৪/২০১৮,তাং-২২/৩/১৮। এতে বিজ্ঞ আদালত পাইকগাছা থানাকে এফআইআর মামলা নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে ২৮/৩/১৮ তারিখে থানায় ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৩৭৯/৩৮০/৩৫৪/৫০৬(২)/১১৪ ধারায় একটি মামলা রেকর্ড করেন। যার নং-২৫,মামলায় আসামীদের জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। পরে তারা জামিনে মুক্তি পেয়েছে।
সর্বশেষ ঘটনায় এমপি-উপজেলা চেয়ারম্যানের বসাবসির সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে সরকারি কর্মকর্তা,সার্ভেয়ার ও স্থানীয় সাংবাদিকদের আসামী করে মামলার বিষয়টিকে ভিন্ন চোখে দেখছেন সচেতন এলাকাবাসীর পাশাপাশি সাংবাদিক সমাজ। তারা আধুনিক কপিলমুনির প্রতিষ্ঠাতা রায় সাহেবের বাড়ির অদূরবর্তী চরভরাটি খাস জমির জবরদখল প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে মামলায় সচেতন প্রশাসনিক ও সাংবাদিকদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন।