‘কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার কথা চিন্তা করতে হবে’

0
366

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, ‘খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনতে আইনি লড়াইয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজপথের কোনো বিকল্প নাই। আমাদের ধীরে ধীরে এখন কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার কথা চিন্তা করতে হবে। কারণ শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে এ সরকারের টনক নড়ানো যাবে না।’

আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকাস্থ লক্ষ্মীপুর জেলা জাতীয়তাবাদী যুব ফোরাম আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় মওদুদ আহমদ এসব কথা বলেন।
মওদুদ আহমদ বলেন, ‘এখন আমাদের দুটি বিষয় চিন্তা করতে হবে, প্রথমত, আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোতে বিএনপির আর অংশগ্রহণ করবে কি না? দ্বিতীয়ত, খুলনা সিটি নির্বাচনে প্রমাণিত হয়েছে যে, বর্তমান ইসি (নির্বাচন কমিশন) অদক্ষ, অযোগ্য, পক্ষপাতদুষ্ট, দলবাজ একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে বলে আমরা মনে করি না। সুতরাং বর্তমান নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। এ ছাড়া এই ইসির অধীনে আমরা আর কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব কি করব না, এটাও চিন্তা করতে হবে।’
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে দাবি করে মওদুদ আহমদ বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি এখন সরকারের হাতে চলে গেছে। খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে কি হবে না, এটা এখন সরকারের প্রধানের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। কারণ বিচারকদের সরকার যা বলবে, তাঁরা তাই করবেন।’

মওদুদ বলেন, ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় হাইকোর্ট জামিন দিয়েছে এবং আপিল বিভাগ সেটা বহাল রেখেছে। এখন মুক্তি দিতে অসুবিধাটা কোথায়? কেন খালেদা জিয়া মুক্তি পাচ্ছেন না? এটা দেশবাসীকে জানতে হবে। নিম্ন আদালতের কারণে। আর নিম্ন আদালত কার অধীনে কাজ করে? নিম্ন আদালত প্রশাসনের অধীনে কাজ করে। অর্থাৎ সরকারের অধীনে কাজ করে। সুতরাং নিম্ন আদালত স্বাধীন না।’

বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘উচ্চ আদালত খালেদা জিয়াকে জামিন দিয়েছে, তাঁকে আমরা মুক্ত করতে পারছি না। কেন? কারণ সরকারের অপকৌশল, ষড়যন্ত্র ও দুরভিসন্ধি পরিকল্পনা রয়েছে, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে নির্বাচন করা, তাঁকে নির্মূল করা। আগে ছিল ছয়টা মামলা, গতকাল আরো দুই মামলা দেওয়া হয়েছে। এ মামলাগুলোতে জামিন বহাল রেখে তাঁকে আমরা মুক্ত করতে পারব না। কারণ সরকার চেষ্টা করবে, এ মামলাগুলোতে আরো লম্বা লম্বা তারিখ দেওয়ার।’

মওদুদ আহমদ বলেন, ‘তাই ঈদের পরে আমাদের নতুন করে চিন্তাভাবনা করতে হবে। দেশের সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে বিএনপি ও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এ আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে হবে।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন হাওলাদারের সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আলী প্রমুখ।