কঠোর অবস্থানে পুলিশ : নজরদারিতে মেস-হোটেল-ফেসবুক

0
472

আহাদ আলী, নিজস্ব প্রতিনিধি, খুলনাটাইমস:
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারাদেশে যাতে কোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকান্ড না ঘটে, সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সারাদেশের পুলিশ সুপারদের (এসপি) নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স। এছাড়া বিশেষ নজরদারিতে রয়েছে মেস ও আবাসিক হোটেল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। আজ ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণায় পুলিশের এ পদক্ষেপ।
গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার রায়ের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই মেস ও হোটেলগুলোতে নজরদারি শুরু হয়েছে। পুলিশের দেয়া নির্দেশনা অনুযায়ী হোটেলে
আগত অতিথিদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে রুম বুকিং দেয়া হচ্ছে কি-না এসব নজরদারি করছেন গোয়েন্দারা। এছাড়াও ফেসবুকে বিভিন্ন পেইজে এবং গ্রুপে ৮ ফেব্রুয়ারিকে নিয়ে কোনো ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা হচ্ছে কি-না সেগুলো মনিটরিং করা হচ্ছে।
গোয়েন্দা সূত্র আরও জানায়, এছাড়া বিএনপির নেতাকর্মীরা মেসগুলোতে জড়ো হয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি সহিংসতা তৈরির চেষ্টা করতে পারেন এমন আভাসে থানা ভিত্তিক অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। থানা পুলিশ স্ব-স্ব এলাকার মেসগুলোতে গিয়ে ভাড়াটিয়া ছাড়া অন্য কেউ থাকছেন কি-না তা নজরদারি করছে। ইতোমধ্যে সারাদেশে অভিযান চালানো হয়েছে। নজরদারির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে হোটেলগুলোতে অতিথির নাম-ঠিকানা লেখা, ছবি তোলা, এনআইডি, পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের কপি, ফোন নম্বর রাখা ও ফোন দিয়ে নম্বর যাচাই করাসহ ৮টি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। হোটেলগুলো নির্দেশনা মাফিক কাজ করছে কি-না তা নজরদারি করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভাড়াটিয়া নিবন্ধন ফর্মে দেয়া তথ্য অনুযায়ী বাড়িগুলোতে ভাড়াটিয়ারা থাকছেন কি-না সেটিও খেয়াল রাখা হচ্ছে।
৮ ফেব্রুয়ারি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ বাজারে বা সরকারি ভবনের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব টহল দিচ্ছে।
যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সারাদেশের পুলিশ সুপারদের (এসপি) নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স। নির্দেশনাগুলো হলো- যেসব স্থানে আগে নাশকতার ঘটনা ঘটেছে, সেসব স্থান চিহ্নিত করা করে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করা। থানাসহ পুলিশের সব স্থাপনায় নিরাপত্তা বাড়ানো, পুলিশের সব সিসি টিভি ক্যামেরা সচল রাখা, টহল বা অভিযানে পুলিশ সদস্যরা একা না গিয়ে একসাথে টহল দেয়া। নির্দেশনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে ক্যামেরা রাখতে বলা হয়েছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তারা ছবি তুলে রাখতে পারেন।
কেমপির মিডিয়া মনিটরিং সূত্রে জানাযাই , ৮ ফেব্রুয়ারি কোনো সহিংসতার আশঙ্কা করছি না, তবে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। এদিন যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে কোনোভাবেই অবনতি না হয় সেজন্য পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটকে নির্দেশনা দেয়া আছে।
যে কোনো আন্দোলনে বাস-ট্রাকের মতো পরিবহণগুলো আগুনে পুড়িয়ে প্রতিবাদ করে আন্দোলনকারীরা। রায়ের দিন এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে কি-না এ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন যানবাহন মালিকরা।
রায় পরবর্তী সৃষ্টি যে কোনো পরিস্থিতির বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে , খালেদা জিয়া রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে না। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে জনগণই তা প্রতিহত করবে, আর পুলিশতো আছেই।
কেমপির মুখপাত্র মনিরা সুলতানা বলেন, পুলিশের প্রধান দায়িত্ব জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেয়া। পুলিশ দৃঢ়তার সাথে এ কাজ করে যাচ্ছে। যাতে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা থাকে সে জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি কঠোর অবস্থানে থাকবে পুলিশ।