ওয়ার্কার্স পার্টি’র সংহতি সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান

0
166

খবর বিজ্ঞপ্তি:
‘তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও’ সংগ্রাম পরিষদ-এর উদ্যোগে আজ রংপুর বিভাগে ২৩০ কিলোমিটার ব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানিয়ে এবং খুলনাঞ্চলের নদী-খাল খননের দাবীতে রবিবার বেলা সাড়ে ১১ টায় পার্টির জেলা ও মহানগর কার্যালয় চত্বর থেকে মিছিল সহকারে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে এসে সংহতি সমাবেশ ও জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। সংহতি সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড শেখ মফিদুল ইসলাম। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেনÑপার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা সভাপতি কমরেড এড. মিনা মিজানুর রহমান, কেন্দ্রীয় সদস্য ও জেলা সাধারণ সম্পাদক কমরেড আনসার আলী মোল্লা, পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য কমরেড দিপংকর সাহা দিপু, জেলা ও মহানগর পার্টির নেতা কমরেড দেলোয়ার উদ্দিন দিলু, কমরেড গৌরাঙ্গ প্রসাদ রায়, কমরেড খলিলুর রহমান, কমরেড আঃ সাত্তার মোল্লা, কমরেড নারায়ণ সাহা, কমরেড সন্দীপন রায়, কমরেড আঃ হামিদ মোড়ল, কমরেড মনির হোেেসন, কমরেড বাবুল আখতার, কমরেড রেজোয়ান রাজা, কমরেড কামরুল হোসেন জোয়ার্দ্দার, কমরেড হাফিজুর রহমান, কমরেড গৌতম কুমার কু-ু, কমরেড জাহাঙ্গীর আলম, কমরেড অজয় দে, কমরেড গৌরী ম-ল, কৃষকনেতা রেজোয়ান খান, সিরাজ খান, গৌরপদ মল্লিক, ভুবন মোহন ম-ল, গোপাল চন্দ্র, ধীরেন্দ্র নাথ, শ্রমিকনেতা মোঃ ফোরকান, লাকী বেগম, রোকেয়া খাতুন, সুফিয়া বেগম, সুজিত ম-ল, ইউনুছ মৃধা, যুবনেতা কৃষ্ণ কান্তি ঘোষ, মৃত্যুঞ্জয় সরদার, অমৃত ম-ল, ছাত্রনেতা রিয়াদ হাসান তপু, মেহেরুননেছা, সাদ্দাম হোসেন প্রমুখ। সমাবেশ চলাকালীন পার্টির নেতৃবৃন্দ স্মারকলিপি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেনের অনুপস্থিতিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জিয়াউর রহমানের নিকট প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, নদী মাতৃক দেশ বাংলাদেশ। এদেশের নদ-নদী, খাল-বিল, হাওড়-বাওড় আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। কৃষি অর্থনীতির উত্থানের পেছনেও রয়েছে এসব নদ-নদীর ভূমিকা। কিন্তু মানবসৃষ্ট কারণে এসব নদ-নদী হারিয়ে যাচ্ছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে আসছে। জলাবদ্ধতা, নদী ভাঙন, লবণাক্ততা এখনকার নিত্য সমস্যা। বা¯‘চ্যুত হচ্ছে মানুষ। অনেকে সহায়-সম্বল হারাচ্ছে। ফলে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। উপকূলীয় এলাকা হিসেবে খুলনা অঞ্চলও বৈশি^ক হুমকির তালিকাভুক্ত, রয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নদ-নদী। যার প্রধান নদী রূপসা ও ভৈরব। এছাড়া শিবসা, পশুর, কপোতাক্ষ, আড়পাঙ্গাশিয়া, কুঙ্গা, মারজাত, আঠারবাকি, ভদ্রা, বুড়িভদ্রা, শোলমারী, কাজিবাছা, ডাকাতিয়া, কাঁকরী প্রভৃতি নদী। এছাড়া বিলডাকাতিয়া, ভুতিয়ার বিল, কপোতাক্ষের জলাবদ্ধতা মানুষের নিত্যসঙ্গী। কয়রা, পাইকগাছা এলাকায় একের পর এক বাঁধ ভাঙছে। লবণপানি ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ পানিবন্দী হচ্ছে। বা¯‘চ্যুত হয়ে নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ। ফুলতলার দামোদর জোড়ার বটতলা, মশিয়ালী খাল, জোড়া বটতলা পুটিয়া কান্দা থেকে বুড়ির খাল, হাদীর খাল, ডুমুরিয়ার বিলডাকাতিয়ার শোলমারী, ৮০ ফুট খাল, চুকনগর থেকে ভবদহ স্লুইসগেট পর্যন্ত পলি অপসারণ, পাইকগাছার শিবসা, বটিয়াঘাটার হেতালবুনিয়া খনন জরুরী। খুলনা মহানগরীতে জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ রূপসা ও ভৈরব। শহরঘেরা এ দুটি নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে অল্প জোয়ারে শহরের নিচু এলাকা প্রতিনিয়ত প্লাবিত হচ্ছে। একশ বছরের ডেল্টাপ্লান অনুযায়ী হামকুড়া, ভদ্রা, শ্রীহরি, তেলিগাতী, ঘ্যাংরাপুল, কপোতাক্ষ, বেতনা ও মরি”চাপ পুনঃখনন, টিআরএম চালুসহ আর এস খতিয়ান অনুযায়ী উদ্ধার ও অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে খুলনা অঞ্চলের নদ-নদী, খাল-বিল রক্ষায় সরকারের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিসহ অবিলম্বে দুর্যোগ ঝুঁকিতে থাকা খুলনার ভরাট নদীগুলো খনন, জলাবদ্ধতা, নদী ভাঙন, লবণাক্ততা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।