ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস আজ

0
500

টাইমস রিপোর্ট:
বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে এক অনন্য প্রতিবাদী ও আত্মত্যাগে ভাস্বর দিন এটি ।
বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠীর পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে জাতিকে মুক্ত করতে ১৯৬৬ সালে ৬-দফা দাবি উত্থাপন করেন। এই ৬ দফা দাবি বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনকে নতুন পর্যায়ে উন্নীত করে।
৬ দফা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ’৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭০ এর নির্বাচনে পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক শাসক-শোষক গোষ্ঠির বিরুদ্ধে বাঙালি আওয়ামী লীগের পক্ষে রায় দেয় এবং বিপুল ভোটে বিজয় অর্জন করে।
৬ দফা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি স্বায়ত্তশাসনের সীমা অতিক্রম করে। ৬-দফায় কার্যত কৃত্রিম রাষ্ট্র পাকিস্তানের মৃত্যু পরোয়ানা জারি হয়ে যায়। ৬-দফায় বাংলাদেশের বাঙালি জনগোষ্ঠী খুঁজে পায় তাদের মুক্তির ঠিকানা। ৬-দফা হয়ে উঠে স্বাধিকার আন্দোলনের ম্যাগনাকার্টা, পূর্ণ স্বাধীনতাই যার যৌক্তিক পরিণতি।
এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাঙালির বিজয় অর্জিত হয় এবং বিশ্বের বুকে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ৬ দফার গুরুত্ব অপরিসীম। ১৯৬৬ সালের ১৩ মে আওয়ামী লীগ আয়োজিত পল্টনের এক জনসভায় ৭ জুন হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। জুন মাসব্যাপী ৬-দফা প্রচারে বিপুল কর্মসূচি নেওয়া হয়।
৭ জুন তেজগাঁওয়ে বেঙ্গল বেভারেজের শ্রমিক সিলেটের মনু মিয়া গুলিতে প্রাণ হারান। এতে বিক্ষোভের প্রচ-তা আরো বাড়ে। তেজগাঁওয়ের ট্রেন বন্ধ হয়ে যায়। আজাদ এনামেল অ্যালুমিনিয়াম কারখানার শ্রমিক আবুল হোসেন ইপিআর-এর গুলিতে শহীদ হন।
একইদিন নারায়ণগঞ্জ রেল স্টেশনের কাছে পুলিশের গুলিতে মারা যায় ৬ জন শ্রমিক। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সন্ধ্যায় কারফিউ জারি করা হয়।
হাজার হাজার আন্দোলনকারী মানুষ গ্রেফতার হয়। বহু জায়গায় জনতা গ্রেফতারকৃতদের ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। ৬-দফা ভিত্তিক আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। শহীদের রক্তে আন্দোলনের নতুন মাত্রা যুক্ত হয়।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয় শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের আন্দোলন। ৬-দফা হয়ে উঠে স্বাধিকার আন্দোলনের মেগনাকার্টা, পূর্ণ স্বাধীনতাই যার যৌক্তিক পরিণতি।
৬-দফা ভিত্তিক ছাত্র সমাজের ১১-দফা, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার এবং বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে সৃষ্ট ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, বাঙালি জনগোষ্ঠী খুঁজে পায় তাদের মুক্তির ঠিকানা।