এ ভার সইবার নয়!

0
553

টাইমস রিপোর্ট : রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামটা হঠাৎ থমকে দাঁড়িয়েছে। কোলাহলে ব্যস্ত শহরটায় কেমন এক বিষাদ জেঁকে বসেছে আজ। নিজ শহরটায় এ ভাবে ফিরবেন তারা, কে ভেবেছিল? আত্মীয়-স্বজনের কাঁধে কফিন। এ কফিনের ভার কত, তাদের চেয়ে ভালো কে বুঝবে? কাঠের বাক্সের ভার চারজন বইতে পারলেও, স্বজন হারানোর ভার সইবার নয়! সোমবার বিকেলে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় জানাজা শেষে নেপালে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহত ২৩ জনের কফিন স্বজনদের হাতে বুঝিয়ে দেয়া হয়। এ সময় স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। কান্নায় ভেঙে পড়েন শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী স্বজনেরা।

এর আগে সোমবার বিকেল ৩টা ৫৫ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে মরদেহগুলো নিয়ে হজরত শাহজালাল আন্তজার্তিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। আনুষ্ঠানিকভাবে মরদেহ গ্রহণ করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তার সঙ্গে ছিলেন বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী শাহজাহান কামাল। জানাজা শেষে রাষ্ট্রপতির পক্ষে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে ওবায়দুল কাদের এবং স্পিকার শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর বিমানবাহিনীর তত্ত্বাবধানে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মরদেহগুলো বুঝে নেয়ার সময় সেখানে স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। কান্নায় ভেঙে পড়েন শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী স্বজনেরা।

আর্মি স্টেডিয়ামের মূল মঞ্চ থেকে একে একে ২৩ বাংলাদেশির নাম উল্লেখ করে তাদের স্বজনদের অনুরোধ করা হয় মরদেহ গ্রহণ করতে। পুরো কাজ শৃঙ্খলার সঙ্গে সম্পন্ন করতে সেনাবাহিনীর একেকজন সদস্য একেকটি কফিনের দায়িত্বে থাকেন। পরে স্বজনদের কাছে লাশ তুলে দেয় পুলিশ সদস্যরা। কফিনের ওপর লেখা নাম-পরিচয়ের সঙ্গে মিলিয়ে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রসহ নিহত স্বজনরা মরদেহগুলো বুঝে নেন। মরদেহ হস্তান্তর প্রক্রিয়া যখন চলছিল তখন বিউগলে অনবরত করুণ সুর বেজে চলে। সে সুর চৈত্রের শেষ বিকেলটিকে করে তোলে বিষাদময়।
গত ১২ মার্চ কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণকালে বিধ্বস্ত হয় ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বিএস২১১। এতে নিহত হন ৪৯ জন। তাদের মধ্যে ২৬ জনই বাংলাদেশি। এদের মধ্যে শনাক্ত করে ঢাকায় আনা হয়েছে এই ২৩ জনের লাশ। এরা হলেন উম্মে সালমা, আঁখি মনি, বেগম নুরুন্নাহার ও শারমিন আক্তার, নাজিয়া আফরিন ও এফ এইচ প্রিয়ক, -বিলকিস আরা, আখতারা বেগম, মো. রকিবুল হাসান, মো. হাসান ইমাম, মিনহাজ বিন নাসির, তামাররা প্রিয়ন্ময়ী, মো. মতিউর রহমান, এস এম মাহমুদুর রহমান, তাহারা তানভীন শশী রেজা, অনিরুদ্ধ জামান, রফিক উজ জামান এবং পাইলট আবিদ সুলতান, কো-পাইলট পৃথুলা রশিদ, খাজা সাইফুল্লাহ, ফয়সাল, সানজিদা ও নুরুজ্জামান। শনাক্ত না হওয়ায় আনা যায়নি পিয়াস রায়, নজরুল ইসলাম ও আলিফুজ্জামানের লাশ