এসএসসি’র নির্বাচনী পরীক্ষায় ৪০ শতাংশ পরীক্ষার্থীর ফলাফল বিপর্যয়

0
491

#খুলনার ১৪টি হাইস্কুলের চিত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা টাইমস:
এসএসসি’র নির্বাচনীয় পরীক্ষায় ৪০ শতাংশ পরীক্ষার্থীর ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে। ইংরেজী, গনিত, পদার্থ বিজ্ঞানে ৩৩ এর নীচে নম্বর পেয়েছে। বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতি, নিয়মিত ক্লাস না করায় ফলাফল বিপর্যয় ঘটে। এসএসসি’র পরীক্ষায় প্রস্তুতি হিসেবে অকৃতকার্য ছাত্রদের ফরম ফিলাপ করানোর জন্য স্থানীয় রাজনীতিকরা স্কুল কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। আগামী ১ ফেব্রæয়ারী এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যশোর শিক্ষা বোর্ডের প্রশ্নে খুলনা বিভাগের ১০ স্কুলের নির্বাচনী পরীক্ষা একযোগে অনুষ্ঠিত হয়। গত মাসের শেষ দিকে পরীক্ষা সম্পন্ন এবং নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। পরীক্ষার মূল্যায়নে স্পষ্ট হয়েছে ইংরেজী, গনিত, পদার্থ বিজ্ঞান, উচ্চতর গনিত, হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষার্থীরা ৩৩ এর নীচে নাম্বার পেয়েছে। জেলার ১৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছ থেকে এ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। বিদ্যালয়গুলো হচ্ছে বঙ্গবাসী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সরকারী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, বি কে ইউনিয়ন ইনিষ্টিউট, পাইওনিয়ার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, হাজী ফয়েজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, ডুমুরিয়া উপজেলার বান্দা কলেজিয়াট, দিঘলিয়া উপজেলার নন্দন প্রতাপ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দীর, রূপসা উপজেলার গাজী মেমরিয়াল হাই স্কুল, নৈহাটী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কাজদিয়া কলেজিয়াট স্কুল, বেলখুলিয়া ইসলামীয়া উচ্চ বিদ্যালয়, জে কে এস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও দাকোপ উপজেলার চালনা বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়।
রূপসা উপজেলার গাজী মেমরিয়াল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকা আজিজা সুলতানার দেয়া তথ্য মতে, গনিত ও পদার্থ বিজ্ঞানের প্রশ্ন জটিল হয়েছে। প্রশ্ন বুঝতে পরীক্ষার্থীদের অসুবিধা হয়েছে। কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দীরের প্রধান শিক্ষক হরেকৃষ্ণ দাসের অভিমত, সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে নি। তিনিও ইংরেজী, গনিত ও পদার্থ বিজ্ঞানের ফলাফল বিপর্যয়ের কথা তুলে ধরেন। বি কে ইউনিয়ন ইনিষ্টিউটিশনের প্রধান শিক্ষক মাহাবুবুর রহমান জানান, নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপের সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। বঙ্গবাসী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন জানান, ৯৪ জন পরীক্ষার্থীদের মধ্যে নির্বাচনী পরীক্ষায় ২৩জন অকৃতকার্য হয়েছে। পাইওনিয়ার উচ্চা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিদ্যুৎ ফৌজদার উল্লেখ করেন, ৫৩ জন পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ১৫জন অকৃতকার্য হয়েছে। হাজী ফয়েজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিপ্তি রানী দে, ডুমুরিয়া উপজেলার বান্দা কলেজিয়াটের অধ্যক্ষ সৌমেন মন্ডল, দিঘলিয়া উপজেলার নন্দন প্রতাপ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভারত বার, দাকোপ উপজেলার চালনা বাজার সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিলয় বিশ্বাসের দেয়া তথ্যমতে, গনিত ও ইংরেজী বিষয়ে অকৃতকার্যের সংখ্যা বেশি। যেসব পরীক্ষার্থীদের ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে তাদের ফরম ফিলাপ করানোর জন্য স্থানীয় রাজনীতিকরা চাপ সৃষ্টি করছে বলে শিক্ষকরা গনমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেন। #