এশাকে হেনস্তায় ২৫ ছাত্রীকে নোটিশ

0
385

প্রক্টরের সই করা এই নোটিশে দুই সপ্তাহের মধ্যে ছাত্রীদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলে ছাত্রলীগ সভাপতি ইফফাত জাহান এশাকে কোটা সংস্কারের আন্দোলনের সময় হেনস্তার ঘটনায় ওই হলের ২৫ ছাত্রীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রাব্বানী।

১০ এপ্রিলের সেই ঘটনার পরে গঠিত তদন্ত কমিটি যাদের সম্পৃক্ততা পেয়েছে তাদেরকে এই নোটিশ দেওয়া হয়। প্রক্টরের সই করা এই নোটিশে দুই সপ্তাহের মধ্যে ছাত্রীদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো জবাব না পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে একতরফাভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বিগত ১০ এপ্রিল মঙ্গলবার মধ্যরাতে আপনি কবি সুফিয়া কামাল হলের আবাসিক ছাত্রীদের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা অসত্য রটনা ও গুজব ছড়িয়েছেন যে, উক্ত হলের আবাসিক ছাত্রী ইফফাত জাহান ইশা, মোর্শেদা আক্তার নামক একজন আবাসিক ছাত্রীর রগ কেটে দিয়েছে এবং তাকে মারধর করেছে। তার আলোকচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন।

নোটিশে আরও বলা হয়, আপনার এ ধরনের পূর্বপরিকল্পনা, ষড়যন্ত্র ও প্রচারণা হলের ছাত্রীদের ভীষণভাবে উত্তেজিত ও আতঙ্কিত করে। তাছাড়া আপনি পূর্ব পরিকল্পনা অনুসারে সংঘবদ্ধ হয়ে ইফফাত জাহান ইশাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করেন এবং জোরপূর্বক ইফফাত জাহান ইশার গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেন এবং তার বস্ত্র হরণ করেন।

এ ঘটানর প্রেক্ষিতে ঘটিত তদন্ত কমিটি ঘটনার সঙ্গে আপনার জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যকলাপ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে ভীষণভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও আইনের সুস্পষ্ট পরিপন্থি।

১৮ এপ্রিল শৃঙ্খলা পরিষদের সুপারিশ ও ৩০ এপ্রিলের সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ নোটিশ দেয়া হয়। এ ঘটনার কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না তার কারণ চিঠি পাওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রক্টরের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। জবাব না দিলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একতরফাভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

কোটা সংস্কারের আন্দোলনের সময় ১০ এপ্রিল রাতে ছাত্রলীগের হল শাখার সভাপতি ইফফাত জাহান ইশার বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে রগ কাটার খবর ছড়ানো হয়। এতে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ইশাকে জুতার মালা পরায়। এ ঘটনায় ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এশাকে বহিষ্কার করে। পরে জানা যায় রগ কাটানোর তথ্যটি সঠিক ছিল না। পরবর্তী সময় এশার বহিষ্কার আদেশ তুলে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় জড়িত ছাত্রীদের বিরুদ্ধে শুরু হয় তদন্ত।