এবার উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ পাবে না বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী

0
187

টাইমস ডেস্ক:
বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীই এবার উচ্চশিক্ষার ¯œাতক পর্যায়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে না। দেশের উচ্চশিক্ষায় স্নাতক পর্যায়ে সব মিলিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির আসনসংখ্যা সাড়ে ১১ লাখের মতো। কিন্তু করোনার কারণে সরকার পরীক্ষা ছাড়াই উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে এ বছর এইচএসসিতে ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৫৮৯ পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করবে। এমন পরিস্থিতিতে এইচএসসি পাস করেও দুই লাখের বেশি শিক্ষার্থী এ বছর উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ পাবে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ইফজিসির হিসাবে দেশের উচ্চশিক্ষায় স্নাতক বা সমমান পর্যায়ে ১৫ থেকে ১৮ লাখ শিক্ষার্থী ভর্তির আসন রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এ সংখ্যা সাড়ে ১১ লাখের বেশি নয়। আর এ বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করবে প্রায় ১৪ লাখ শিক্ষার্থী। এর সঙ্গে যুক্ত হবে গতবার পাস করেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি না হওয়া শিক্ষার্থীরা। যদিও প্রতি বছরই উচ্চশিক্ষায় আসনের একটি উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসন ফাঁকা থাকে। তবে এ বছর এইচএসসিতে মূল্যায়ন পদ্ধতির পরিবর্তনের কারণে রেজিস্ট্রেশন করা সব শিক্ষার্থীই পাস করায় তাদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সূত্র জানায়, দেশে ৪৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। তার মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান থাকা ৩৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ভর্তির আসন রয়েছে ৬৬ হাজার। আর অনুমোদিত ১০৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৯৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে এক লাখ আসন রয়েছে। তাছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ২ হাজার ২৬৫টি কলেজে স্নাতক ও পাস কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তির আসন রয়েছে ৮ লাখ ৫৮ হাজার ১২৫টি। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাত কলেজে শিক্ষার্থী আসন রয়েছে ২৩ হাজার ৩৩০টি। মাদ্রাসায় স্নাতক পর্যায়ে আসন ৪০ হাজার, মেডিকেল ও ডেন্টালে সাড়ে ১০ হাজার এবং ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল, মেরিন ও অ্যারোনটিক্যাল কলেজ ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে ৩০ হাজারের মতো আসন রয়েছে। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে আসন রয়েছে ১ হাজার ৪৩০টি। আন্তর্জাতিক দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে ৫শ’র মতো। সব মিলিয়ে দেশের উচ্চশিক্ষায় স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ভর্তির আসন সাড়ে ১১ লাখের কাছাকাছি দাঁড়ায়।
সূত্র আরো জানায়, এ বছর বিশেষ পরিস্থিতির কারণে এইচএসসিতে পাসের সংখ্যা বাড়লেও উচ্চশিক্ষার আসন বাড়ানো হবে না। যদিও বেশির ভাগ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ই এ বছর থেকেই গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছিল। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার ঘোষণা দেয়। সম্প্রতি এইচএসসির মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে সিদ্ধান্ত আসার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর জানান, গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নিয়ে অনেক আগেই সিদ্ধান্ত হয়েছে। করোনা না এলে এতোদিনে তো ভর্তি প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়ে যেত। এখন এইচএসসি নিয়ে সিদ্ধান্ত আসার পর ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা চলছে। সবার সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানান, সাধারণত এইচএসসি পাস করা সব শিক্ষার্থীই উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হয় না। তাছাড়া এমনিতেই প্রতি বছর আসনসংখ্যা অনুপাতে শিক্ষার্থী না পাওয়ায় অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের আসনই ফাঁকা থাকে। বিশেষ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজগুলোতে অনেক বেশি আসন শূন্য থাকে। তাই এ বছর আসন বাড়ালে আগামী বছর আরো অনেক বেশি আসন ফাঁকা থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হবে। যারা যোগ্যতার মাধ্যমে সুযোগ পায়, তারাই উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হবে। আর অন্যরা পরে চেষ্টা করবে।