একুশে আগষ্ট গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে আলহাজ্ব সাইদুল করিম মিন্টু’র সমাবেশ

0
646

শামীমুল ইসলাম শামীম, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ভয়াল একুশে আগষ্ট ২০০৪ সালে নৃশংস গ্রেনেড হামলার খুনি তারেক জিয়ার ফাঁসি ও বেগম খালেদা জিয়ার বিচারের দাবিতে ঝিনাইদহে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও পৌর মেয়র আলহাজ্ব সাইদুল করিম মিন্টু’র নেতৃত্বে সর্বকালের সেরা মটর শোভাযাত্রা ও বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকালে শহরের পায়রা চত্ত্বর থেকে চার হাজার মটরসাইকেল র‌্যালী সহকারে হাটগোপালপুর বাজার গিয়ে সেখান থেকে মটর শোভাযাত্রা শুরু হয়ে ডাকবাংলা বাজার-সাধুহাটি এলাকা ঘুরে পায়রা চত্তরে এসে পুনরায় মটর শোভাযাত্রাটি শেষ হয়। জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি তৈয়ব আলী জোয়ার্দ্দারের সভাপতিত্বে সেখানে এক পথসভা থেকে বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ডিজিটাল পৌর সভার রূপকার,ঝিনাইদহ গণমানুষের নেতা আলহাজ্ব সাইদুল করিম মিন্টু।
পথসভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এম.এ সামাদ,সাবেক মহিলা সংসদ ও জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী নূর জাহান বেগম, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক মাসুদ আহমেদ শন্জু,এ্যাডঃ আক্কাচ আলী, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অশোক ধর,দপ্তর সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ,জেলা আওয়ামীলীগ নেতা ও জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম,গোলাম ছরোয়ার সউদ,জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারন সম্পাদক সরোয়ার জাহান বাদশা,জেলা শ্রমিক লীগের সাধারন সম্পাদক একরামুল হক লিকু, জেলা আওয়ামীলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসাইন,কোটচাঁদপুর থানা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক শাহজাহান আলী,জেলা কৃষকলীগের সাধারন সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম ও জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রানা হামিদ প্রমূখ।অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন জেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক মন্জুর পারভেজ তুষার।
বক্তারা অবিলম্বে ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলার সাথে জড়িত খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ সকল আসামীদের ফাঁসির রায় কার্যকর করার আহবান জানান। এসময় পথসভাটি রূপনেয় বিশাল সমাবেশে,সেখানে জেলা আওয়ামী লীগ, কৃষকলীগ,যুবলীগ,স্বেচ্ছাসেবকলীগ,শ্রমিকলীগ ,মহিলা আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের চার হাজারের অধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলা ও হরিণাকুন্ডুর নির্বাচিত চেয়ারম্যানগন সন্ধার মাগরীবের নামাজের পর পুনরায় সমাবেশ শুরু হলে মন্চে মিলিত হয়ে পায়রা চত্তরের সমাবেশকে তাক লাগিয়ে দেন। জেলা আওয়ামী লীগের তৃনমুল নেতা-কর্মিদের বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সমাবেশটিতে আলহাজ্ব সাইদুল করিম মিন্টু আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহবান জানান ।
বিশাল সমাবেশে মিন্টু বলেন,উন্নয়নের একমাত্র দাবীদার বাংলার “মা” জননেত্রী শেখ হাসিনা।শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আছে বলে বিশ্বে আমাদের মাথা আজ উচু,মাদকমুক্ত-জঙ্গিমুক্ত-সন্ত্রাসমুক্ত ঝিনাইদহ গঠনে শেখ হাসিনার কোন বিকল্প নেই।উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রাখতেই আরেকবার নৌকার প্রয়োজন।তাই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহের চারটি আসনেই আবারো আমরা নৌকা প্রতীককে বিজয়ী করবো,সেই প্রত্যাশা করি সকলের কাছে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে তিনি সব ভেদাভেদ ভুলে সকলকে একজোট হয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে েেনৗকা মার্কাকে বিজয়ী করার আহবান জানান ।
“বিএনপির ঘাটি হিসাবে পরিচিত ঝিনাইদহ-২ সদর আসনের সর্বত্র নৌকার পাল তুলেছেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও পৌর মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু” ঝিনাইদহ সদর ও হরিণাকুন্ডু নিয়ে গঠিত ঝিনাইদহ-২ সদর আসন। ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরে আলম সিদ্দিকী ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেছিলেন। এর পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে সফিকুল ইসলাম অপু এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাহজীব আলম সিদ্দিক সমি নির্বাচিত হন। ফলে ১৯৭৩ সালের পর এটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিতি পেয়ে যায়। সর্বশেষ জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন হয় গত ১৫ সালের ২৫মার্চ ।সম্মেলনে সাইদুল করিম মিন্টু সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে ঝিনাইদহের আওয়ামীলীগের রাজনীতির চিত্র বদলে যায়। যার কারনে এ আসনের ভোটের মাঠে এখন আওয়ামী লীগ বিএনপি সমানে সমান বলে মনে করছেন তৃনমূলের নেতা-কর্মিরা।
তৃনমূল নেতাকার্মিদের দাবি গত ৪ বছরে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন। প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে আওয়ামী লীগ,স্বেচ্ছাসেবকলীগ,শ্রমিকলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সকল অঙ্গসংগঠনকে সু-সংগঠিত করেছেন তিনি। তাছাড়া বিগত ৪ বছরে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা মিন্টু’র জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়েছে।
অপরদিকে প্রায় ৩৩ বছর পর ফিরে পাওয়া ঝিনাইদহ-২ আসনটি আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে ধরে রাখতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু মাঠপর্যায়ে ব্যাপক কাজ করছেন। সকল পর্যায়ের মানুষের ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি সভা, সেমিনার, বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন তিনি। ধরতে গেলে তিনি এখন ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামীলীগের রাজনীতির নীতিনির্ধারকের ভূমিকায় রয়েছেন।

এছাড়াও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী সাইদুল করিম মিন্টু একেবারেই তৃনমূল থেকে উঠে আসা, অনেক ঘাত-প্রতিঘাত,জেল-জুলুম হুলিয়া মাথায় নিয়ে রাজপথে থেকে যিনি রাজনীতি করে আজ অবদী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র নিবার্চিত হয়েছেন।তরুন ও পরিশ্রমি আওয়ামীলীগ নেতা,আমি ঠিক-দেশ ঠিক শ্লোগানের প্রবক্তা সাইদুল করিম মিন্টু সম্পর্কে দলীয় ভোটারা বলেন, তরুন এই নেতা পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়ে পৌর এলাকার রাস্তা-ঘাট,ব্রীজ-কালভাট,ড্রেন,আধুনিক মানের মার্কেট তৈরি,র্পাক নির্মান,গরীব অসহায় মেধাবি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় সহযোগিতা করাসহ সকল নাগরিকদের সমস্যার সমাধান করছেন। ঝিনাইদহ পৌরসভাকে ডিজিটাল পৌরসভায় রূপান্তরিত করেছেন।বাংলাদেশের মধ্যে ঝিনাইদহ পৌরসভাকে একটি আধুনিক ও একটি মডেল পৌরসভায় রূপান্তরিত করেছেন। এছাড়াও তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তৃণমুল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাছে যেতে পেরেছেন।
‘বর্তমান সরকারের আমলে ঝিনাইদহ পৌরসভাতে অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছেন সাইদুল করিম মিন্টু। এমন কোনো সেক্টর নেই যেখানে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। ঝিনাইদহ জেলার রাজনৈতিক মাঠ এখন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মিদের দখলে। কোনো ষড়যন্ত্র জাতির উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করতে পারবে না। দল মনোনয়ন দিলে অব্যাহত উন্নয়নে ঝিনাইদহ বাসীর পাশেই থাকবেন বলে জানান সাইদুল করিম মিন্টু।