একজন তিনের সাকিব

0
325

খেলা ডেস্ক, খুলনা টাইমস:
ভালো খেলতে খেলতেই আউট হয়ে গেলেন। যেটা তাঁর বেলায় সব সময়ই হয়। সাকিব আল হাসানকে হতাশই দেখাল। বেরিয়ে যাওয়ার মুখে একটু শ্যাডো করে নিলে, নিজেকেই বোঝালেন, শটটা এভাবে খেলা উচিত ছিল। জুতোর রেডিয়াম সোলে ব্যাট দিয়ে হালকা টোকাও দিলেন একেবারে ড্রেসিংরুমের প্রান্তে এসে। ঠিক তখনই তাঁকে পাশ কাটিয়ে মাঠে ঢুকলেন মুশফিকুর রহিম, হালকা স্ট্রেচিং করতে করতে।
দৃশ্যটা সাধারণত উল্টোই হয়। মুশফিক বেরিয়ে এলে সাকিব ঢোকেন। কিন্তু আজ সাকিব ব্যাটিং করেছেন তিন নম্বরে। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও তিনে ব্যাটিং করেছেন। সর্বশেষ চার ম্যাচে দুবার। তাই বলে বলার উপায় নেই, এটি সাকিবের চেনা ব্যাটিং পজিশন। পুরো ক্যারিয়ারে সাকিব এর আগে তিনে ব্যাট করেছেনই মাত্র দুবার। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আগে ২০১৪ সালে। অভিষেকের ৮ বছর পর।
তিন নম্বরে যে সাকিব ব্যাটিং করবেন, এটা অবশ্যই আগেই জানা গিয়েছিল। এই জায়গায় সাব্বির রহমানকে দিয়ে চেষ্টা করেছিলেন হাথুরুসিংহে। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আগে ১৭ ওয়ানডের ১৪টিতেই সাব্বির তিনে খেলেছেন। কিছু ঝলক দেখালেও সাব্বির আস্থার প্রতিদান দিয়ে যেতে পারেননি। হাথুরু নিজেই তাঁকে দক্ষিণ আফ্রিকায় তিন থেকে আবার ছয়-সাতে নামিয়ে দিয়ে গেছেন।
তাহলে তিনে কে? মজার ব্যাপার হলো, মুশফিক নিজেও কিন্তু তিনে ব্যাটিং খুব বেশি করেননি। এই পজিশনে মাত্র ১১ ইনিংসে খেলেছেন। যেখানে চারে ব্যাট করেছেন ৬৩ বার, ছয়ে ৫১ বার।
টিম ম্যানেজমেন্ট তাই সাকিবকে দিয়ে তিন নম্বর জায়গাটি পরখ করে দেখতে চায়। কাল সংবাদ সম্মেলনে দল পরিচালক খালেদ মাহমুদ বলেছেন, ‘এটা আমাদের একটা দুশ্চিন্তার জায়গা। আমাদের একটা যোগ্য তিন নম্বর কেউ হয়ে উঠতে পারছিল না। আমরা চাই যে ওখানে কেউ একজন নিয়মিত খেলুক। অনেক চিন্তা করে দেখেছি যে অভিজ্ঞ কাউকেই এখানে খেলা উচিত। আমরা সাকিবকে পছন্দ করেছি এখানে ব্যাট করার জন্য। আমি মনে করি সাকিব খুব আক্রমণাত্মক, সেই সঙ্গে এমন পজিশনে এমন একজনকে দরকার, যে কিনা পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে খেলতে পারে। আমরা ঠিক করেছি যে সাকিবকে পর্যাপ্ত সময় দেব তিন নম্বরে।’
মিরপুরের প্রেসবক্স থেকে সাকিবকে তিনে ব্যাটিং করতে দেখার অভিজ্ঞতা তাই হলো প্রথমবারের মতো। তিন নম্বরে তাঁর পরীক্ষাটাকে যথাসম্ভব কঠিন করে চতুর্থ ওভারে ফিরলেন ওপেনার হিসেবে দলে ফিরে আসা এনামুল। সাকিবকে নতুন বলেরই মুখোমুখি হতে হলো। অবশ্য ওয়ানডেতে এখন দুদিক দিয়ে দুটি নতুন বল ব্যবহার করা হয় বলে লোয়ার মিডল অর্ডারেও সাকিব মোটের ওপর নতুন বল সামলেছেন আগেও।
তাতে ৪৬ বলে ৩৭ করেছেন। তরতর করে ফিফটির দিকে এগোচ্ছিলেন। তামিমের সঙ্গে বেশ পাল্লাও দিচ্ছিলেন। সাকিব উইকেটে থাকলে যা হয়, রানের চাকা সব সময় সচল থাকে। স্ট্রাইক ঘোরাতে বেশ পছন্দ করেন। এর মধ্যে পরিস্থিতি বুঝে বাউন্ডারিও বের করে নেন। মনে হচ্ছিল ফিফটিটা দ্রুত পেয়ে যাবেন। কিন্তু হলো না।
ফিফটিটা হলে ভালোই হতো। তিনের মিশনে নতুন করে নামার দিন আগে বল হাতে ঠিক তিন উইকেট পেয়েছেন। গত বিপিএলের সেরা বোলারটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৩ উইকেট পেলেন ১৪ ম্যাচ পর। সর্বশেষ ২৮ ইনিংসে ১৪ বার উইকেটশূন্য ছিলেন। আর শুরু থেকেই বেশ চনমনে লাগছিল। তারই পুরস্কার হিসেবে নিজের ও ম্যাচের প্রথম তিন বলে দুই উইকেট!
বোলার সাকিবকে ফিরে পাওয়ার দিন ছিল না শুধু, ছিল নম্বর ওয়ান সাকিব আল হাসানকে ফিরে পাওয়ারও। ফিফটিটা পেলে তিনের অধ্যায় পূর্ণতা পেত। একই ওয়ানডেতে ফিফটি আর তিন উইকেট সাকিব পেয়েছেন পাঁচবার।
তবে সাকিব আল হাসান মানেই হলো মাঠের খেলা নিয়ে পরে আর হা-হুতাশ না করা। তিনি বরং উপভোগ করছেন তিনের নতুন এই দায়িত্ব। ম্যাচসেরা হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে এসে বললেন, ‘আমি এখানে দ্বিতীয়বার খেললাম (সাংবাদিকেরা ধরিয়ে দিলেন তৃতীয়বার)…ও আচ্ছা, তৃতীয়বার। আসলে নতুন একটা চ্যালেঞ্জ। খেলাটার মধ্যে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ না থাকলে উপভোগ করা কঠিন। সেদিক দিয়ে আমার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ। থিতু হতে পারলে আশা করি লম্বা ইনিংস খেলতে পারব। যারা তিন-চারে ব্যাটিং করে, তাদের কাজ থাকে এ-ই। হয়তো দ্রুত আউটও হতে পারে। তবে সেট হয়ে গেলে বড় ইনিংস খেলার লক্ষ্য থাকে। যেহেতু তিনে ব্যাটিং করার সুযোগ এসেছে, লক্ষ্য থাকবে যেন বড় ইনিংস খেলতে পারি।’
নিজে ১০ ওভার বোলিং করবেন, এরপর হয়তো কখনো কখনো এক অর্থে ইনিংসের উদ্বোধনও করতে হতে পারে তাঁকে, কোনো ওপেনার শূন্য রানে ফিরে এলে। চাপটা বেশি হয়ে যাচ্ছে না? সাকিবের সংক্ষিপ্ত উত্তর, ‘এ কারণেই তো বললাম চ্যালেঞ্জ।’
এ কারণেই তিনি চ্যালেঞ্জ উপভোগ করেন। এ কারণেই তিনি সাকিব আল হাসান!প্রথম আলো।