উৎপাদন শুরু, শ্রমিকদের বকেয়া সাড়ে ১২ কোটি টাকা পরিশোধের দাবীতে ৭দিনের কর্মসুচি

0
340

ফুলবাড়ীগেট (খুলনা) প্রতিনিধি
শিরোমণি শিল্পাঞ্চালের বন্ধকৃত ব্যাক্তিমালিকানা জুট স্পিনার্স মিলের শ্রমিক-কর্মচারীদের সকল বকেয়া পরিশোধ, উৎপাদন প্রক্রিয়া চালুর দাবীতে মিলের সিবিএ-ননসিবিএর উদ্যোগে দীর্ঘ দুই বছর যাবত ধারাবাহিক আন্দোলন সংগ্রাম করেও কর্তৃপক্ষের টনক নড়াতে সক্ষম হয়নি শ্রমিক আন্দোলন। একের পর এক কর্মসুচি এবং বাস্তবায়ন করে রাজনৈতিক নেতা এবং প্রশাসনের কর্তাব্যাক্তিদের আশ^াসেও কাজ হচ্ছে না তাদের দাবী আদায়ের। এমন অবস্থায় শুক্রবার শ্রমিক জনসভা থেকে তৃতীয় দফায় ৭দিনের কর্মসুচি ঘোষনা করা হয়েছে। বিকাল ৪টায় শিরোমণি শহীদ মিনার চত্বরে শ্রমিক জনসভা থেকে এ কর্মসুচি ঘোষনা করা হয়। ষোষিত কর্মসুচির মধ্যে আগামী ২৭ মার্চ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় খুলনা যশোর মহাসড়কের শিরোমণি এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল, ৩০ মার্চ বিকাল শুক্রবার বিকাল ৪টায় ঝাড়– মিছিল, ২ এপ্রিল সোমবার সকাল ১০টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত খুলনা যশোর মহাসড়কের শিরোমণি শিল্পাঞ্চালে মানববন্ধন, ৬ এপ্রিল শুক্রবার বিকাল ৪টায় শিরোমণি শহীদ মিনার চত্বরে শ্রমিক জনসভা, ৯ এপ্রিল সোমবার বিকাল ৪টায় খুলনা যশোর মহাসড়কে লাঠি মিছিল, ১১ এপ্রিল বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় খুলনা যশোর মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল, ১২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ২ টা পর্যন্ত ৫ঘন্টা খুলনা যশোর মহাসড়কের শিরোমণি শিল্পাঞ্চল সড়ক অবরোধ। শ্রমিক জনসভায় সিবিএ-ননসিবিএ সমন্বয়ে দাবী আদায় কমিটির আহবায়ক মোঃ আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন ইণ্টার্ণ জুট মিলস মজদুর ইউনিয়নের সিবিএ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ জাকির হোসেন। শ্রমিক নেতা শেখ ইকবালের পরিচালনায় বক্তৃতা করেন, ইষ্টার্ণ জুট মিলস মজদুর ইউনিয়নের সিবিএ সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলাউদ্দিন, থানা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার স.ম রেজওয়ান আলী, শ্রমিক নেতা আলহাজ্জ শেখ আনছার আলী, মোঃ খলিলুর রহমান, ইউপি সদস্য শেখ আব্দুস সালাম, কাজী আজাদুর রহমান হিরক, এস এম চন্দন, মোঃ জামাল হোসেন, শেখ হাবিবুর রহমান, শেখ শহিদুল ইসলাম, শেখ রবিউল ইসলাম, মোঃ নুর ইসলাম, শেখ মনিরুল ইসলাম, শেখ মেহেদী হাসান, শেখ আসাদুজ্জামান, হাসেম গাজী, আল মামুন, কাগজী ইকরাম, খোকন, আরিফ, মিজান, মামুন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ ।
শিরোমণির লাভজনক এই প্রতিষ্ঠানটি গত ২০১৬ সালের ১ জুন মালিনা জটিলতায় মিলটি উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। মিলটি বন্ধের পর গত ৪ এপ্রিল ২০১৭ সালে প্রায় ৮ লক্ষ টাকা বকেয়ার দায়ে মিলটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন করা হয়েছে যা আজ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। মিলটির বর্তমানে শ্রমিকদের ৬৯ সপ্তাহের মজুরী, কর্মচারীদের ২১ মাসের বেতন, কর্মকর্তাদের ২২ মাসের বেতন, শ্রমিক কর্মকর্তাদের ৩টি বোনাস, পদত্যাগকৃত শ্রমিকদের ইন্সেুরেন্স এর টাকা, মজুরী কমিশনের এরিয়ার টাকা, ইনক্রিমেন্ট এরিয়ার, গ্রাইচুটি সহ বিভিন্ন বকেয়া বাবদ প্রায় ১২ কোটি ৩৭ লক্ষ ৩৩ হাজার ৮শত ৮০ টাকা বকেয়া রয়েছে বলে সিবিএ নেতৃবৃন্দ দাবী করেন।