উপযোগী আইন প্রয়োগই পারে কৃষি জমি সুরক্ষা করতে হবে

0
534

উন্নয়নের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে উপযোগী আইন প্রয়োগই পারে কৃষি জমি সুরক্ষা করতে হবে। পরিকল্পিতভাবে জমির ব্যবহার করতে হবে। যেখানে সেখানে ইচ্ছামত বাড়ি নির্মাণ করা যাবেনা। শিল্পপ্রতিষ্ঠান, রাস্তা, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার দোকানসহ বিভিন্ন রকমের স্থাপনা পরিকল্পনা অনুযায়ী করতে হবে। গ্রামের কৃষি জমি ইচ্ছা করলে অকৃষি খাতে নেওয়া যাবে না। মাটির উপরিভাগের মিষ্টি পানির আধারকে যত্রতত্র ব্যবহার করা যাবেনা। ভূমি ব্যবহার নীতিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। কৃষি খাস জমি ভূমিহীন কৃষক বা বর্গা চাষীদের মাঝে বন্টন করতে হবে। জনগণকে কৃষি জমি রক্ষায় সচেতন করতে হবে। এভাবে বললেন জনউদ্যোগ,খুলনা ও সেফের আলোচনা সভায় বক্তারা।
সোমবার বিকাল ৫টায় জনউদ্যোগ,খুলনা ও সেফের আয়োজনে কৃষি জমি সুরক্ষায় অপরিকল্পিত নগরায়ন ও শিল্পায়ন মূল অন্তরায় শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক গৌরাঙ্গ নন্দী। ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন জনউদ্যোগ,খুলনা সদস্য সচিব সাংবাদিক মহেন্দ্র নাথ সেন। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিপিবি’র কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডঃ আ ফ ম মহসীন, কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য শ্যামল সিংহ রায়, ওয়ার্কার্স পার্টির মফিদুল ইসলাম, সেফের নির্বাহী পরিচালক উজ্জ্বল কুমার রায় , সমন্বয়কারী আসাদুজ্জামান, নারী নেত্রী শামীমা সুলতানা শীলু, সুতপা বেদজ্ঞ, সিলভী হারুন, অধ্যক্ষ ড.এম এন আলম সিদ্দিকী, মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার এডঃ মোমিনুল ইসলাম, রাজটীকের নির্বাহী পরিচালক মোড়ল নুর মোহম্মদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির মনিরুল হক বাচ্চু,কনসেন্স এর নির্বাহী পরিচালক এস এম সেলিম বুলবুল, এস এম সোহরাব হোসেন, আফজাল হোসেন রাজু, শেখ আব্দুল হালিম, সাংবাদিক সুনীল দাস, এ্যাডঃ মামুনর রশীদ, শাহ্ মামুনুর রহমান তুহিন, জেসমিন জামান, এস এম মাহাবুবর রহমান খোকন, সাংবাদিক মামুন খান,রূপসার নির্বাহী পরিচালক হিরন্ময় মন্ডল, দীপক কুমার দে, সুব্রত সাহা, শেখ মজিদুল ইসলাম, শেখ মোঃ টুটুল, শেখ আইনুল হক প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের আইনশৃংখলা পরিস্থিতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হওয়ায় এ অঞ্চলের অর্থনীতির চাকা সচল হতে শুরু করে। ফলে মুখ ফিরিয়ে নেয়া বড় বড় বিনিয়োগকারী এ অঞ্চলে পুনরায় বিনিয়োগ শুরু করেছে। এতে করে এখানকার বড় বড় সড়ক মহাসড়কের পাশের জমির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায। বড় বড় ব্যবসায়ীরা খুলনা মহানগরীসহ সড়কগুলোর পার্শ্ববর্তী এলাকার ফসলি জমি কিনে তা বালি ভরাট করে গড়ে তুলছে নানা স্থাপনা । কেউ বা প্লট তৈরি করে ব্যবসা করছে। বিশেষ করে পদ্মা সেতু নির্মাণের তোড়জোড় এবং মংলা বন্দরের আধুনিকায়নে উদ্যোগ গ্রহন করার পর অর্থশালী ব্যবসায়ীদের দৃষ্টি পড়ছে এ অঞ্চলের কৃষি জমির ওপর।
বক্তারা বলেন, নগরীসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে কৃষি জমি, জলাশয় ভরাট করে বহু আবাসিক এলাকা গড়ে উঠছে। এতে ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে। মাটির উপরিভাগের মিষ্টি পানির আধার যেমন পুকুর, জলাশয়, খাল বিল ভরাট হয়ে পানির সংকট সৃষ্টি করছে। চাপ বাড়ছে ভু-গর্ভস্থ পানির ওপর। এতে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তরও দ্রæত নিচে নামছে। ভবিষ্যতে ভূমিকম্পের আশংকা রয়েছে।
বক্তারা আরো বলেন, অপরিকল্পিতভাবে কৃষি জমি ব্যবহারের জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। নষ্ট হচ্ছে মাটির উপরিভাগের মিষ্টি পানির আধার। পানি সংকট বাড়ছে। দীর্ঘ মেয়াদী সুফল কমে যাচ্ছে। কেননা জমির ওপর কোন স্থাপনা নির্মাণ করলে নির্দ্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তার সুফল আসে। কিন্তু কৃষি জমিতে শত শত বছর কৃষি পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব। এ হিসেবে লাভের পরিমাণটাই বেশি।