উন্নয়নের মহাসড়কে দৃশ্যমান পদ্মা সেতু

0
566

 

বলার অপেক্ষা রাখে না যে, পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে পদ্মা সেতু। জোরেশোরে সেতু প্রকল্পের কাজ চলুক। সব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই স্বপ্নের সেতু নির্মাণকাজ শেষ হোক এটাই এখন আমাদের প্রত্যাশা।

ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর অবয়ব। গত রবিবার সকালে মূল পিলারের ওপর দ্বিতীর স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে সেতুর ৩০০ মিটার দৃশ্যমান হলো। গত সেপ্টেম্বর মাসে বসানো হয়েছিল প্রথম স্প্যানটি। ধারাবাহিকভাবে একের পর এক স্প্যান মূল পিলারের ওপর বসানোর মধ্য দিয়ে পুরো সেতু দৃশ্যমান হবে। এ দৃশ্য শুধু পদ্মাপাড়ের মানুষ নয়, গোটা দেশবাসীর জন্যই আনন্দের। কারণ নানা প্রতিকূলতা জয় করে স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে, এ কাজ কাক্সিক্ষত গতিতে সম্পন্ন হোক এটাই প্রত্যাশা।

বলাই বাহুল্য, পদ্মা সেতু বিশাল এক কর্মযজ্ঞ। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর মূল অবকাঠামোর নির্মাণকাজ শুরু হয়। দ্বিতলবিশিষ্ট পদ্মা সেতু হচ্ছে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরার মধ্যে। মূল সেতুর দৈর্ঘ্য (পানির অংশের) ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার এবং প্রস্থ হবে ২২ মিটার। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো এবং সেতুর মোট পিলারের সংখ্যা ৪২টি। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতুতে ৪২ পিলারের ওপর বসবে ৪১টি স্প্যান। খুঁটির ওপর ইস্পাতের যে স্প্যান বসানো হবে তার ভেতর দিয়ে চলবে ট্রেন আর ওপর দিয়ে চলবে যানবাহন। পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নে অংশগ্রহণকারী দেশি-বিদেশি কোম্পানি, দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীসহ কয়েক হাজার শ্রমিক এখানে কাজ করছে। সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় ২০১৮ সালেই যান চলাচলের জন্য বাংলাদেশের বৃহত্তম সেতু পদ্মা সেতু খুলে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

উল্লেখ্য, কাজ শুরুর মাত্র দুই বছরের মধ্যে গত ৩১ সেপ্টেম্বর সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের উপস্থিতিতে সেতুর জাজিরা প্রান্তে ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটির ওপর ১৫০ মিটার দীর্ঘ এবং প্রায় হাজার টন ওজনবিশিষ্ট স্টিলের স্প্যান বা সুপার স্ট্রাকচারটি বসানো হয়। তখন নির্মাণ সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছিল পরবর্তী আরো ৩-৪টি স্প্যান বসানো হবে। কিন্তু বাস্তবে সে গতিতে কাজ এগায়নি। দ্বিতীয় স্প্যানটি বসল তিনমাসের বেশি ব্যবধানে। এরকম আরো ৩৯টি স্প্যান বসানো বাকি। এ দিকে মাঝনদীতে পিলার নির্মাণও বিলম্বিত হচ্ছে। নদীর তলদেশের গভীরে নরম মাটির স্তর থাকায় সেতুর মাঝ নদী ও মাওয়া প্রান্তে ১৪টি পিলার নির্মাণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। তবে আশার কথা হলো, বিশেষজ্ঞরা এই সমস্যার সমাধানের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন বলে জানানো হয়েছে গতকালের ভোরের কাগজের এ সংক্রান্ত রিপোর্টে। আমরা আশা করব এ কাজ আর প্রলম্বিত হবে না।

পদ্মা সেতু একটি কেবল একটি সেতুই নয়, এ দেশবাসীর একটি স্বপ্নের নাম, একটি আশার নাম। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে রেল ও সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে পদ্মা সেতু। বিশেষজ্ঞদের ধারণায়, পদ্মা সেতু দেশের প্রবৃদ্ধি বাড়াবে অন্তত ১ দশমিক ২ শতাংশ। জোরেশোরে সেতু প্রকল্পের কাজ চলুক। সব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই স্বপ্নের সেতু নির্মাণকাজ শেষ হোক এটাই এখন আমাদের প্রত্যাশা।