উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে ভোটের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচন

0
472

বিশেষ প্রতিনিধি : ১৫ মে, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচন। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ২৮৯টি কেন্দ্রে চলবে ভোট গ্রহণ। তবে এসব কেন্দ্রের মধ্যে পুলিশ ২৩৪টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সোমবার সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপার ও কালিসহ প্রয়োজনীয় মালামাল সরবরাহ করা হয়েছে।


নির্বাচনে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে খুলনা মহানগরীকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। মাঠে রয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব আবদুল বাতেনের নেতৃত্বে নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল কাজ শুরু করেছে। দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
প্রথমবারের মতো খুলনা সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগের তালুকদার আব্দুল খালেক (নৌকা), বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু (ধানের শিষ), জাতীয় পার্টির শফিকুর রহমান মুশফিক (লাঙল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক (হাত পাখা) ও সিপিবির মিজানুর রহমান বাবু (কাস্তে)।
এ ছাড়া নগরীর ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১৪৮ জন এবং ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৩৯ জন নারী কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৯৩ হাজার ৯৩। এদের মধ্যে পুরুষ দুই লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৬ ও নারী দুই লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন।
নির্বাচন কমিশন থেকে রবিবার ১৭৯ জন পর্যবেক্ষকের তালিকা খুলনায় পৌঁছেছে। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব ৩৫ জন পর্যবেক্ষক থাকবেন জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, ২১৯ জন পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। তাদের মধ্যে চার-পাঁচজন বিদেশি, ৩৫ জন নির্বাচন কমিশনের ও ১৭৯ জন বিভিন্ন সংস্থার।
এদিকে সোমবার পরীক্ষামূলকভাবে (ডেমো) নগরীর সোনাপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পিটিআই জসিম উদ্দিন হোস্টেল কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। এ দুটি কেন্দ্রে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ২ হাজার ৯৭৮ জন ভোটার ভোট দেন।
নির্বাচনি এলাকায় সোমবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে বন্ধ হয়ে যাবে যান্ত্রিক যানবাহন চলাচল। যা বলবৎ থাকবে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত। শুধু নির্বাচনি কাজে নিয়োজিত যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।
কেসিসি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী বলেন, ‘কমিশন ইতিমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। সোমবার সকাল থেকে প্রতি কেন্দ্রে ব্যালট বাক্সসহ অন্যান্য সরঞ্জাম পাঠানো শুরু হয়। বিকেলে প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা কেন্দ্র বুঝে নিয়েছেন।’
মো. ইউনুচ আলী আরও জানান, একটি সাধারণ কেন্দ্রে ২২ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ২৪ জন পুলিশ ও আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
খুলনা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সোনালী সেন জানান, রবিবার বিকাল থেকে নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল দায়িত্ব পালন করছে। একই সঙ্গে ৩১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে রয়েছেন। পাশাপাশি ১৬ প্লাটুনে মোট ৬৪০ জন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনে সব মিলিয়ে সাড়ে ৯ হাজার পুলিশ, বিজিবি, এপি ব্যাটালিয়ন ও আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

র‌্যাব-৬-এর অধিনায়ক খোন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান, নির্বাচনে র‌্যাবের ৩২টি টিম এবং চারটি স্ট্রাইকিং ফোর্স দায়িত্ব পালন করবে।
অপরদিকে, পুলিশ বহিরাগতদের খুলনা শহর ছাড়ার নির্দেশ দিলেও ৩৬ ঘণ্টায় তা কার্যকর হয়নি। হোটেলগুলোতে কোনো আসন ফাঁকা নেই। নির্বাচনি সংবাদ কাভারের জন্য ঢাকা থেকে আসা গণমাধ্যমকর্মীরা হোটেলে আসন পাচ্ছেন না।