ঈদুল আযহার পর বিয়ের কথা ছিল সীতাকুন্ড ট্রাজেডিতে নিহত খুলনার ফায়ার ফাইটার শাকিলের

0
26

শাকিলদের নিয়ে স্বপ্নগুলো কেবল বার বার খুঁজে ফিরবে স্বজনদের


শেখ নাদীর শাহ্ :

সীতাকুন্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন নেভাতে গিয়ে নিহত ফায়ার সার্ভিস কর্মী খুলনার বটিয়াঘাটার শাকিলের বিয়ের জন্য মেয়ে দেখা হয়েছিল। কথা ছিল ঈদুল আযহার পর বিয়ে হবে। ঘর-বাড়ি নির্মাণ শেষ না হওয়ায় বিয়েতে খানিকটা দেরি হচ্ছিল। সোমবার (০৬ জুন) সকালে এসব কথা বলেন, শাকিলের মেঝ ভাই আসাদুজ্জামান তরফদার।

আসাদুজ্জামান নিজেও একজন ফায়ার সার্ভিসের কর্মী। সর্বশেষ শনিবার বিকেল ৫টায় মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা হয় শাকিলের। এরপর আর তাদের কারো সাথে কথা হয়নি তার। শাকিলের মরদেহ আনতে তার বড় ভাই সীতাকুন্ডে গেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, মরদেহ আসতে দেরি হবে। আজ ফিরবে কিনা সেটাও জানা নেই তার।

খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার সুখদারা গ্রামের সাত্তার তরফদার ও জেসমিন বেগমের ৩ ছেলের মধ্যে সবার ছোট শাকিল হাসান তরফদার (২৪)। কর্মরত ছিলেন ফায়ার সার্ভিসের কুমিরা ইউনিটে ফায়ার ফাইটার পদে। শনিবার রাতে বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুনের খবর শুনে কুমিরা ইউনিটের সঙ্গে তিনিও ছুটে গিয়েছিলেন আগুন নেভাতে। তবে নিয়তি বিস্ফোরণে ফায়ার সার্ভিসের অন্য কর্মীদের সঙ্গে শাকিলকেও থমকে দেয়। তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে তার মৃত্যুর খবরে গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। ছেলের শোকে কাতর মা-বাবার বিলাপ থামছে না কিছুতেই। বাড়িতে ভিড় করেছেন পাড়া-প্রতিবেশী থেকে শুরু করে স্বজনরা। সান্তনা দেওয়ার কোনো ভাষাই যেন খুঁজে পাচ্ছেন না কেউ। স্বজনদের আশা ছিল আসছে কোরবানির ঈদের পর ধুমধাম করে বিয়ে দেবেন শাকিলকে।

শোকে কাতর শাকিলের বাবা সাত্তার তরফদার বিলাপ করতে করতে বলেন, আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমার সব শেষ হয়ে গেছে। বাড়ি থেকে কুমিরা যাওয়ার সময় শাকিল বলে ‘বাবা আপনাদের রেখে আমি কীভাবে থাকবো’। তখন বলি আমার দোয়া সব সময় তোমার সঙ্গে থাকবে। কিন্তু কী হয়ে গেল বলে ফের মূর্ছা যান তিনি।

পারিবারিক সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে ফায়ার সার্ভিসে যোগ দেন শাকিল। শুরুতে মোংলা উপজেলায় পোস্টিং। ৫ মাস আগে সীতাকু-ের কুমিরা ফায়ার স্টেশনে পাঠানো হয় তাকে। শাকিলের বড় ভাই মনিরুজ্জামান তরফদার একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় চাকরি করেন। মেঝ ভাই আসাদুজ্জামান তরফদার বটিয়াঘাটা ফায়ার সার্ভিস অফিসে সহকারী বাবুর্চি হিসেবে কর্মরত আছেন। ভাইদের অনুপ্রেরণায় শাকিলও যোগ দেন ফায়ার সার্ভিসে। তবে মূহুর্তেই শেষ হয়ে গেছে তাকে নিয়ে স্বজনদের সব আশা সব স্বপ্ন। হয়তো দূর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি খুঁজে পাবে মূল কারণ,শাতিও হবে কারো। তবে শাকিলদের নিয়ে স্বপ্নগুলো কেবল বার বার খুঁজে ফিরবে স্বজনদের।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here