ইয়াসের প্রভাবে কয়রায় বাঁধ ভেঙে ৪০ গ্রাম প্লাবিত

0
240

ওবায়দুল কবির সম্রাট: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ এর প্রভাবে খুলনা কয়রার কপোতাক্ষ-শাকবাড়িয়া নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়ে বেঁড়িবাধ ভেঙে ও বেঁড়িবাধ উপছে উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশি,উত্তর বেদকাশি, কয়রা সদর, মহারাজপুর ও মহেশ্বরীপুর, বাগালী ইউনিয়নের প্রায় ৪০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বাঁধ ভেঙে ও বেঁড়িবাধ উপছে পানি ঢুকে বাড়ির আঙ্গিনাসহ তলিয়ে গেছে ক্ষতি গ্রস্ত হয়েছে রাস্তা ঘাট, মাছের ঘের ও ফসলের মাঠ। গ্রামবাসী বহনযোগ্য জিনিসপত্র নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে শুরু করেছে। এতে আতংকে রয়েছেন বাঁধ ভাঙন কবলিত এলাকার বাসিন্দারা। বিশেষ করে কয়রা উপজেলার আংটিহারা, মটবাড়ি, গোবরা ঘাটাখালী, কয়রা সদরের তহশিল অফিস সংলগ্ন বেড়িবাঁধ,দশহালিয়া, কাটকাটা,কাশিরহাটখোলা, কাটমারচর,২ নং কয়রা, ৪নং কয়রা, পবনা, তেঁতুল তোলার চর, মডবাড়ি, কাশির খালের গোড়া, হোগলা, উত্তর বেদকাশী গাতির ঘেরী, শাকবাড়িয়া, সুতির অফিস, নয়ানি, খোড়ল কাটি, জোড়শিংসহ বিভিন্ন এলাকায় বেড়িবাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করে কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদী তীরবর্তী প্রায় ৪০টির অধিক গ্রামে পানি ডুকেছে। জোয়ারের পানির তোড়ে ভেসে গেছে নদীর তীরের একাধিক স্থাপনা ও বসতঘর। স্থানীয় মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে বস্তা এবং মাটি দিয়ে পানি আটকানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু কয়রায় অবস্থান করে নেতা কর্মীদের সাথে নিয়ে ভাঙ্গন কবলিত স্থান গুলিতে পরিদর্শন করেন। সাথে সাথে পানি উপছে পড়া স্থানগুলিতে তাৎক্ষনিক জিও ব্যাগ ও সিনথেটিক ব্যাগের ব্যবস্থা করেন পানি আটকাতে ও জনগণের উৎসাহ যোগান। সকাল থেকেই থেমে থেমে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। বাতাস বাড়ার সাথে সাথে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের (বাঁধ ভাঙন) বাসিন্দা আবু সাইদ খান জানান,ঝড়-বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসলে আমারা খুবই আতংকে থাকি। বিশেষ করে রাতে। এলাকার মানুষ ছেলে-মেয়ে নিয়ে বসে থাকে। কখন বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে নদীতে চলে যায়। আজ দুপুরে হঠাৎ করে নদীর বাঁধ ভেঙ্গে যেভাবে পানি উঠতেছে এতে খুবই বিপদে আছে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ। কলেজ ছাত্র মহসিন জানান, মহারাজপুর ইউনিয়নের পবনা ভেঙে এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানির চাপে প্রতিদিন নদী ভাঙ্গছে। বুধবার বাঁধ ভেঙ্গে পানি ঢুকে আমাদের এলাকা তলিয়ে যাচ্ছে। রাতে পানি আরো বাড়বে। আমারা সবাই আতংকে আছি। তাই দ্রæত এ বাঁধটি মেরামত করা জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানাই। উত্তর বেদকাশী ইউপি চেয়ারম্যান সরদার নূরুল ইসলাম কোম্পানী জানান, মঙ্গলবার রাতে জোয়ারে তার ইউনিয়নের কয়েকটি স্থানে বেড়িবাঁধ উপচে পানি গ্রামে ঢোকা শুরু করলে গ্রামবাসীকে সাথে নিয়ে তা আটকানো হয়। কিন্তু বুধবার দুপুরে শাকবাড়িয়া নদীতে জোয়ার অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের কাটকাটা, কাটমারচর, কাশির হাটখোলা,হরিয়ারপুর গাতির ঘেরী এলাকা দিয়ে নদীর পানি উপচে চিংড়ি ঘেরে প্রবেশ করছে। স্থানীয়দের সাথে নিয়ে আমারা পানি আটকানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু জোয়াের পানি অস্বাভিক বৃদ্ধি পাওয়ায় গাতির ঘেরী নামক স্থান থেকে পানি লোকালয় প্রবেশ করে ৫ গ্রাম প্লাবিত হয় মাছের ঘেরের ব্যাপক ক্ষতি হয়। কয়রা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম বাহারুল ইসলাম জানান,গত বছরের ২০ মে আম্পানের আঘাতে কয়রা সদর ইউনিয়নের ২ নং কয়রা, গোবরা ঘাটাখালি, মদিনাবাদ লঞ্চঘাট এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে পুরো ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে যায়। অম্পানে সে ক্ষতি মানুষ এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এর অবার প্লাবিত হলে কয়রা ইউনিয়ন মানুষের বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। তিনি কয়রা বাসীকে রক্ষা করতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুর রহমান জানান,দক্ষিণ অঞ্চলের নদ-নদীতে পানির স্বাভাবিক মাত্রা থাকে ৩ মিটারের কাছাকাছি। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাস এবং পূর্ণিমার জোয়ারের কারণে আরও দুই থেকো ৩ ফুট বেশি পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলার প্রায় ৩০ টি পয়েন্ট দিয়ে পানি বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করছে।উপজেলার কয়রা সদর, দক্ষিণ বেদকাশি, মহারাজপুর ও মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের ৪ টি পয়েন্ট ভেঙে প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা জিও ব্যাগ ও বালুর বস্তা ফেলে পানি আটকানোর চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, আগামী দুইদিনে পানির উচ্চতা আরও বাড়তে পারে। এর সঙ্গে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাস হলে পানি আটকানো সম্ভব হবে না। তিনি আরও বলেন, আমরা ২০ হাজার জিও ব্যাগ ও ৩০ হাজার সিনটেথিক ব্যাগ মজুদ রেখেছি। ঝুকি পূর্ণ জায়গায় জিও ব্যাগ দিয়ে বাধ রক্ষার কাজ করানো হচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু ভেঙে যাওয়া বেঁড়িবাধের স্থান গুলো পরির্দশনকালে তিনি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারদের সার্বিক সহযোগিতায় আশ্বাস দেন দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের দ্রæত বাঁধ মেরামতের নির্দেশ দেন।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাধারণ মানুষের দুঃখ লাঘবে জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তিনি এ অঞ্চলের মানুষের কথা ভাবেন,।এ অঞ্চলে টেঁকসই বেঁড়িবাধ হবে তবে সময়ের ব্যাপার।মেরামতের পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, দুর্যোগের খবর পাওয়ার সাথে সাথে দুইদিন যাবত আমি কয়রায় অবস্থান করছি ২৫ মে থেকে আমি নিজেই কয়রার প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাউবোর স্পর্শ কাতর স্থানগুলিতে গিয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছি আজও কয়রাতে অবস্থান করছি ঘূর্ণিঝড় ইয়াস এর প্রভাব শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি কয়রা বাসির সাথে আছি । ভেঙে যাওয়া স্থানগুলি দ্রæত মেরামত করা হবে’ এছাড়া ঘূর্ণিঝড়ের ইয়াসের প্রভাবে ক্ষতির পরিমাণ যাতে কম হয় সে জন্য জিও ব্যাগ সিন্থেটিক ব্যাগসহ বেরিবাধ টেকানো এবং জনসাধারণের জানমাল রক্ষার্থে সকল ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।