ইভিএম ব্যবহারের সুযোগ রেখে আরপিও সংশোধনী আইন-২০১৮ খসড়ার চূড়ান্ত

0
411

টাইমস রিপাের্ট:

আগামী জাতীয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ব্যবহারের সুযোগ রেখে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-আরপিও সংশোধনী আইন-২০১৮ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।  এর ফলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা যাবে। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ সভায় এ বিলের অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, যেহেতু এখন আর সংসদ অধিবেশন বসবে না। তাই আইনটি রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারির বলে সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা  যেতে পারে। আইনের ধারা ২ এ ইভিএমের বিষয়টি সংযোজন করা হয়েছে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। নির্বাচন কমিশন ভোটগ্রহণে সনাতন পদ্ধতির বদলে ইভিএম চালুর পক্ষে। তবে আগামী নির্বাচনে পুরোপু্রি ইভিএমে ভোট না নিয়ে কিছু কেন্দ্রে এই যন্ত্রে ভোট নেয়ার পক্ষে তারা। এ লক্ষে নির্বাচন কমিশনের তিন হাজার ৮২ কোটি টাকার প্রস্তাবে সায়ও দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেক। এই টাকায় নেকা হবে মোট দেড় লাখ ইভিএম। তবে বিএনপি এবং তার শরিকরা নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিরোধী। তাদের আশঙ্কা, এই যন্ত্র দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব এবং এটি ক্ষমতাসীন দলের ভোটে কারচুপির হাতিয়ার হবে।

তবে নির্বাচন কমিশন এই আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, এই যন্ত্র দূর থেকে নিয়ন্ত্রণের সুযোগ নেই। আর ইভিএম পরিচিত করতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সেগুলো প্রদর্শনও করা হচ্ছে। এর আগে গত ডিসেম্বরে রংপুর এবং চলতি বছর খুলনা, গাজীপুর, বরিশাল, সিলেট ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কিছু কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হয়। কোথাও কোনো ঝামেলা পাওয়া যায়নি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আইনে বলা হয়েছে, ইভিএম মেশিনের সঙ্গে ইন্টারনেটের কোনো সংযোগ থাকবে না। ফলে হ্যাক করে মেশিনকে প্রভাবিত করা যাবে না।’সচিব জানান, ইভিএম নিয়ে কেউ কারচুপি করলে এবং তা প্রমাণ হলে শাস্তির ব্যবস্থা আছে। সর্বোচ্চ সাত বছর আর সর্বনিম্ন তিন বছর সাজার কথা বলা আছে এতে। সচিব বলেন, এই আইনে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমাদানের পদ্ধতির প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রস্তাবের ফলে অনলাইনেও মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, ১৮ ধারায় ইভিএম ব্যবস্থার প্রবর্তন, অনুমোদন, এর জন্য অর্থ অনুমোদন এবং ইভিএমের নিরাপত্তার জন্য কমিশনকে কর্তৃত্বকরণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এখানে ইভিএমের নিরাপত্তার বিষয় প্রস্তাব করা হয়েছে। ইভিএম নিয়ে মানুষের মধ্যে যে শঙ্কা কাজ করছে তা দূর করার জন্য আইনে সুরক্ষার বিধান রাখা হয়েছে।