ইফতারির পানীয়র সাথে বিষ মিশিয়ে গৃহবধূকে হত্যা, স্বামী ও দেবর গ্রেফতার

0
34619

স্বামীর ভিটায় লাশ দাফনে বাঁধা,পিত্রালয়ে দাফন সম্পন্ন

শেখ নাদীর শাহ্:::


খুলনার পাইকগাছা কয়রার সীমান্তে ইফতারির পানীয়র সাথে বিষ মিশিয়ে রিমা বেগম(২৩) নামে দু’সন্তানের জননী গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। থানা পুলিশ গৃহবধুর স্বামী কিবরিয়া সানা ও দেবর কারিজুল সানা গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।

এদিকে ময়না তদন্ত শেষে রিমার লাশ স্বামীর বাড়ীতে পৌছালে সেখানে দাফনে বাঁধা দেয়ায় নিহতের পিত্রালয় পাইকগাছার গজালিয়ায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বর্বরতার এখানেই শেষ নয়। নিহত রিমার সদ্য প্রসূত ২ মাসের শিশু কন্যা জাহিদা ও ৫ বছরের শাহিদাকে তাদের দাদা-দাদীরা সেখানেই আটকে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার বিবরণ ও পারিবারিক একাধিক সূত্র জানায়, গত ৩ মে সন্ধ্যা। কয়রা উপজেলা থেকে ১৯ ও পাইকগাছা থেকে ১৮ কিলোমিটার দুরে কয়রা সীমান্তের হরিনগর গ্রাম। ইফতারির সময় সেখানে তখন চলছে মাত্র দু’মাস ও ৫ বছরের দু’ কন্যা সন্তানের জননী রোজাদার রিমা বেগমকে হত্যার ষড়যন্ত্র। অসহায় গৃহবধূর স্বামী, শ্বশুর ও দেবর পরষ্পর যোগসাজসে ইফতারীর পানীয়র সাথে বিষ মিশিয়ে তাকে হত্যার গভীর ষড়যন্ত্র করে।

একপর্যায়ে ইফতারীর সময় ঘণিয়ে আসলে তারা তাকে ঐ বিষ মিশ্রিত পানীয় দেয় ইফতারীতে। এতে কিছুক্ষণের মধ্যেই রিমা মৃত্যু যন্ত্রনায় ছটফট শুরু করলেও পরিবারের লোকজন তাকে ডাক্তারের কাছে নিতে নানা টালবাহানা শুরু করে। এক পর্যায়ে প্রতিবেশীদের চাপে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক জেহের আলীকে ডেকে আনলে রিমা মৃত্যুর আগে তাকে বিষ খাওয়ানো হয়েছে বলে ডাক্তারকে জানায়। ডাক্তার তাকে দ্রুত হাপাতালে নিয়ে ওয়াশ করানোর ব্যবস্থা করান। তারপরও অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথিমধ্যে ডুমুরিয়ায় পৌছালে তার মৃত্যু হয়।

এরপর লাশের ময়না তদন্ত শেষে স্বামীর বাড়ীতে নিলে ঘটে আরো বিপত্তি। স্বামীর বাড়ির লোকজন সেখানে তাকে কবর দিতে না দেয়ায় সেখান থেকে লাশ ফিরিয়ে নেয়া হয় তার পিত্রালয় পাইকগাছার গজালিয়ায়। সেখানেই দাফন সম্পন্ন হয়েছে তার।

নিহত রিমার পিত্রালয় থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, রিমার রেখে যাওয়া সদ্য প্রসূত ২মাসের মেয়ে জাহিদা ও ৫ বছরের শাহিদাকে তাদের দাদা-দাদিরা তাদের জিম্মায় রেখে দিয়েছে।

ঘটনায় নিহতের মা মমতা বেগম বাদী রিমার স্বামী কিবরিয়া সানা, দেবর কারিজুলসহ অজ্ঞাতনামা আরো ২/৩ জনকে আসামী করে কয়রা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। তাৎক্ষনিক কয়রা থানা পুলিশ রিমার স্বামী ও দেবরকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।

এ ব্যাপারে স্থানীয়রা জানান, ঘটনার ২/৩ দিন আগে থেকে রিমাকে তার শ্বশুর বাড়ীর লোকেরা শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিল।