আড়ংঘাটা আ’লীগের কোন্দল নিরসনে মহানগরের বৈঠক কাজে আসছেনা!

0
681

আড়ংঘাটা সংবাদদাতা, খুলনা টাইমস:

খুলনা মহানগরীর আড়ংঘাটা ৩২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের বিবদমান দু’টি গ্রুপের কোন্দল মেটাতে মহানগরের নেতাদের উপস্থিতিতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উভয় গ্রুপের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তবে মহানগরের নেতাদের নির্দেশনা কতটুকু কার্যকর হবে তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে নেতা-কর্মীদের মধ্যে।
আড়ংঘাটা ৩২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কোন্দল দীর্ঘদিনের। বর্তমানে এ দ্বন্দ্ব ইউপি পর্যায়ে বিস্তৃত। কোন্দল কেবল আওয়ামী লীগের মধ্যেই না, সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনেও ছড়িয়ে পড়ছে। ৩২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ এখন দু’ ধারায় বিভক্ত। একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ৩২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল সরদার। অপর গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান জিবলু। এই গ্রুপিং আড়ংঘাটা ইউপির সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে।
এদিকে, গ্রুপিংয়ের কারণে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে সাংগঠনিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই অবস্থা দলের জন্যে খুবই ক্ষতির দিক বলে মনে করছে হাইকমান্ড।
এ কারণে দ্বন্দ্ব নিরসনে এপ্রিল মাসে দু’গ্রুপের নেতাদের জরুরিভাবে খুলনা সার্কিট হাউজে তলব করে মহানগর নেতারা। সেখানে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দলের কেন্দ্রীয় সদস্য বেগম মন্নুজান সুফিয়ান (এমপি), খুলনা মহানগর সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান (এমপি)সহ মহানগরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে দু’গ্রুপের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে সকল সদস্যকে একসাথে দলের জন্য কাজ করতে বলা হয়। একই সাথে সাংগঠনিক দিকনির্দেশনা উভয় গ্রুপের নেতাদের সমন্বয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে বলা হয়। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এখনই সব ধরনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে ফেলার কঠোর নির্দেশনা দেন মহানগরের নেতারা। এরপরও কোন্দল না মিটলে আগামী ইউপি নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব পড়তে পারে বলেও মনে করছেন দলের কোন কোন নেতা।
ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোড়ল জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, তিনি সকলকে নিয়ে একসাথে দলের জন্য কাজ করতে চান। তৃণমূলের নেত্রী শেখ হাসিনা। তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৩২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সকল সদস্যকে দলের জন্য কাজ করার আহবান জানান এই নেতা।
ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল সরদারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি এই বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি।
সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান জিবলু এ প্রতিবেদককে বলেন, মহানগরের নেতাদের উপস্থিতিতে বৈঠক হয়েছিল। সেখানে সব বিষয় আলাপ-আলোচনা হয়। বৈঠকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সকলকে একসাথে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন মহানগরের নেতারা।
উল্লেখ্য, গত ১৫ আগস্ট সাধারণ সম্পাদক সোহেল সরদারের নেতৃত্বাধীন গ্রুপ ৩২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে শোক দিবসের অনুষ্ঠান পালন করে। অন্যদিকে সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান জিবলু গ্রুপ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে শোক দিবসের অনুষ্ঠান করে। তারপর থেকেই গ্রুপিং প্রকাশ্য রূপ নেয়।