আশাশুনির বেতনা নদী খনন অতি জরুরী! পলি জমে নদীর তলদেশ জাগ্রত

0
1000

মইনুল ইসলাম, আশাশুনি :
আশাশুনি উপজেলার কুল্যা, বুধহাটা, কাদাকাটি ও সাতক্ষীরা সদরের ধুলিহর ইউনিয়নের বুকচিরে বয়ে যাওয়া বেতনা নদীটি খনন করা অতি জরুরী হয়ে পড়েছে। বর্তমানে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মধ্যে নদীটির জোয়ার ভাটা নেই বললেই চলে। অন্যদিকে সদরের ধুলিহর ইউনিয়নের মাটিয়াডাঙ্গা, মাছখোলা এবং আশাশুনির কুল্যা-গুনাকরকাটি ব্রীজ সংলগ্ন, বুধহাটা বাজার সংলগ্ন, নওয়াপাড়া ও মহেশ্বরকাটি এলাকার বেতনা নদীতে পলি জমতে জমতে ভাটার সময় নদীর তলদেশ জাগ্রত হয়ে যায়। ফলে নদীতে ভাটার সময় সাধারণ মানুষ পায়ে হেটেই পার হয়ে থাকে বেতনা নদী। নদীটি যশোরের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে উৎপন্ন হয়ে শার্শা উপজেলার নাভারনের কাছ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার মধ্য দিয়ে এঁকে বেঁকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বিনারপোতা থেকে আশাশুনি উপজেলার কয়েকটি গ্রামের বুক চিরে খোলপেটুয়া নদীতে গিয়ে মিশেছে এক সময়কার প্রমত্তা বেতনা নদী। নদীটির পরিচিতি নম্বর নং ৬৪। আবহমানকাল থেকে বেতনা নদীটির দৈর্ঘ্য ১৯১ কিলোমিটার (১১৯ মাইল), গড় প্রস্থ ৫৫ মিটার। কালের বিবর্তনে বেতনা নদী আজ হারিয়ে নদীটির চার ভাগের তিনভাগই ভরাট হয়ে নদীর তলদেশ উঁচু হয়ে গেছে। এছাড়া সাতক্ষীরা সদরের বিভিন্ন এলাকায় নদীটি একেবারেই শুকিয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে এবং আশাশুনির অনেক স্থানে ভাটার সময় নদী হেটেই পার হয় সাধারণ মানুষ। বেতনা নদী তার নাব্যতা হারানোর ফলে লোকালয়ের মৎস্য ঘের, খাল, বিলের থেকেও নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে জাগ্রত হওয়ার কারণে বর্ষী মৌসুমে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন হতে পারেনা। উপরন্ত বর্ষা মৌসুমে সকল খালের গেটের স্লুইচ বন্ধ করে রাখতে হয়, যাতে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে না পারে। বেতনা নদীতে বর্তমানে পলি ও বালুমাটি জমতে জমতে নদীর তলদেশ একেবারে জাগ্রত হয়ে গেছে। নদীটি যথাযথ কর্তৃপক্ষ খননের উদ্যোগ গ্রহণ করেন তবেই রক্ষা করা সম্ভব হবে এ বেতনা নদী। তা না হলে অচিরেই বাংলার মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে এক সময়কার প্রমত্তা বেতনা নদী। এমতাবস্থায় উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি আমলে নিয়ে নদী খননের কাজ শুরু করার আহবান জানিয়েছেন নদী মাতৃক স্থানীয় সচেতন মহল।