আশাশুনির কুল্যা টু দরগাহপুর সড়কটির বেহাল দশা

0
370

মইনুল ইসলাম, আশাশুনি:
আশাশুনি উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর একটি হল কুল্যা টু দরগাহপুর (বাঁকা) সড়ক। সড়কটির বর্তমান অবস্থা খুবই নাজুক। এই সড়কের গুনাকরকাটি থেকে বাহাদুরপুর এলাকায় সড়কের বেহাল দশা চরম আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন দুর্ঘটনা কবলিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। কুল্যা থেকে দরগাহপুর পর্যন্ত সড়কটির গুনাকরকাটি বাজার সংলগ্ন এলাকায়, বাহাদুরপুর এলাকাজুড়ে, কচুয়া ঋষিপাড়া এলাকায়, হলদেপোতা থেকে শ্রীধরপুর মোড়ের কিছু অংশে এবং দরগাহপুর এলাকায় সড়কের বিভিন্ন অংশে পিচ পাথর উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অবস্থা বাহাদুরপুর ও গুনাকরকাটি বাজার সংলগ্ন এলাকাটির। সেখানে প্রতিদিন ঘটছে ছোট বড় সড়ক দুর্ঘটনা। এ রাস্তা দিয়ে বাস, ট্রাক, মাইক্রো, মাহিন্দ্র, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল, মোটরভ্যানসহ বিভিন্ন ধরণের যানবাহন চলাচল করে। দীর্ঘদিন যাবত এ সড়কটির বাহাদুরপুর ও গুনাকরকাটি বাজার সংলগ্ন এলাকা এতটাই খারাপে পরিণত হয়েছে যে মানুষ এ পথ দিয়ে যেতে ভয় পায়। সড়কের গুনাকরকাটি ও বাহাদুরপুর এলাকায় ৫০ গজ এলাকা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে আছে। সেখানে পানি জমে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি করেছে। মাল বোঝাই যানবাহন গর্তে পড়ে উল্টে গেলে ঘন্টার পর ঘন্টা সড়ক বন্ধ হয়ে থাকে। যাত্রীবাহী যানবাহন উল্টে বহু মানুষ প্রতিদিন আহত হচ্ছে। প্রায় বছর খানেক সড়কটি দুরাবস্থাগ্রস্ত হলেও সংস্কার করা হচ্ছেনা। আশাশুনি উপজেলার কুল্যা, কাদাকাটি, দরগাহপুর, বড়দল, আনুলিয়া, খাজরা, প্রতাপনগর ইউনিয়নের মানুষের জেলা ও উপজেলা সদরের সাথে সড়ক পথে যোগাযোগের রাস্তা এটি। এছাড়া খুলনার পাইকগাছা, কয়রা ও সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মানুষও চলাচল করে এ সড়ক দিয়ে। এ রাস্তাটির সাথে এলাকার মানুষের জীবন জীবকা ও উন্নয়ন যেমন জড়িত, তেমনি দেশের উন্নয়ন অগ্রগতিও জড়িত। এসব ইউনিয়নের একটি বৃহৎ এলাকা জুড়ে রপ্তানিযোগ্য বাগদা, গলদা চিংড়ী সহ বিভিন্ন প্রজাতির সাদা মাছ (রুই, কাতলা, পারশে, ভেটকি ইত্যাদি) উৎপাদিত হয়ে থাকে। প্রতিদিন কুল্যা-দরগাহপুর সড়ক দিয়ে পরিবহন যোগে উৎপাদিত এ মাছ ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা সহ দেশের বিভিন্ন বাজারে পরিবহন ও বিদেশে রপ্তানি হয়ে থাকে। এ রাস্তাটি ব্যবহার করে প্রতি বছর মোটা অংকের রাজস্ব আয় সহ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়ে থাকে। এব্যাপারে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার আক্তার হোসেন জানান, বাহাদুরপুর অংশ ট্রাক্টর দিয়ে খুড়ে সমান করা হয়েছে। গুনাকরকাটি অংশটিও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব দ্রæত দু’টি স্থানে সংস্কার কাজ করা হবে। সড়কটির পূর্ণাঙ্গ সংস্কার পূর্বক এলাকার মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার সচেতন মহল।