আর্টিসানে হামলা : অস্ত্র, আশ্রয় ও অর্থদাতারা চিহ্নিত

0
433

টাইমস্ ডেস্ক:

রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিসানে জঙ্গি হামলার ঘটনায় অস্ত্রদাতা, জঙ্গিদের আশ্রয়দাতা ও অর্থ বিনিয়োগকারীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের অভিযুক্ত করে ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে আদালতে চার্জশিট জমা দেয়া হবে।

বৃহস্পতিবার সকালে এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। ডিএমপির হেড কোয়ার্টারে কমিশনারের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘যে মামলা হয়েছে এই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে আমাদের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অফিসাররা অনেক তথ্য পেয়েছেন। হঠাৎ করেই এ ঘটনাটি ঘটেনি। প্রথমে তারা (জঙ্গি) পরিকল্পনা করেছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অস্ত্র সংগ্রহ করেছে। কারা কোথা থেকে এই অস্ত্র সংগ্রহ করেছিল, অস্ত্র কোথায় জমা ছিল, অভিযান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় টাকা কারা সংগ্রহ করেছিল, কীভাবে টাকা ট্রান্সফার হয়, এগুলো বিস্তারিত তদন্ত করে অভিযোগপত্রে আনা হয়েছে। এ ছাড়া অভিযানের আগে একটি বাসা প্রয়োজন ছিল, কারা জঙ্গিদের আশ্রয় দিয়েছে, কে ভাড়া নিয়েছে? কে সমন্বয় করেছে, অভিযান চলাকালীন সময়ে এটাকে মিডিয়াতে (জঙ্গিদের ওয়েবসাইট) প্রচার করেছে, এগুলো তদন্ত করা হয়েছে। জঙ্গিদের এক্সিট প্ল্যানের জন্য একটি টিম কাজ করেছে, সেগুলো জানার চেষ্টা করেছি।’

‘হলি আর্টিসানের হামলা কোনো স্বাভাবিক ঘটনা ছিল না। এটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ছিল। এই ষড়যন্ত্রের মামলা এতটাই ব্যাপক ছিল যে এতে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে অনেক লোক জড়িত ছিল। তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে, কে কোন দায়িত্ব পালন করেছে, ফিজিক্যাল এভিডেন্স, কেমিক্যাল রিপোর্ট, এক্সপার্ট ওপিনিয়ন ইত্যাদির কারণে তদন্ত একটু সময়সাপেক্ষ হয়েছে। তবে প্রত্যাশা করছি ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে আদালতে চার্জশিট জমা দিতে পারব। হামলা সম্পর্কিত সব তথ্যপ্রমাণ চার্জশিটে থাকবে, যাতে ভবিষ্যতে এই মামলার তদন্ত ও বিচার দৃষ্টান্ত হিসেবে থাকে’,- বলেন তিনি।

চার্জশিটে কাদের নাম থাকছে- সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, যারা আর্টিসানে সরাসরি অভিযানে অংশ নিয়েছে তাদের অনেকেই মারা গেছে। অনেকে পরবর্তীতে বিভিন্ন জঙ্গিবিরোধী অভিযানে মারা গেছে। ২-১ জন পলাতক রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে আসামিদের নাম ও সংখ্যা বলা সমীচীন হবে না।

এই হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘যারা জঙ্গি সংশ্লিষ্টতায় জড়িত তাদের বিভিন্ন নাম আছে, বিভিন্ন গ্রুপ আছে। কিন্তু তদন্তে দেখা যায়, দিন শেষে তাদের রুট একই। উদ্দেশ্য একই। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না, যারা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, যারা বাংলাদেশের উন্নয়ন সহ্য করতে পারে না, কোনো না কোনোভাবে এই হামলায় তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। আমরা অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে তাদের রুছি।খে দিয়ে এরপর ৬০টার মতো ছোট বড় অভিযান চালানো হয়।’

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘বাঙালি জাতির কপালে এ ঘটনা একটি কলঙ্কের চিহ্ন এঁকে দিয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে যারা এ ঘটনায় জড়িত, যারা অভিযানে অংশ নিয়েছে, বিভিন্ন পর্যায়ে যারা জড়িত ছিল তাদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।’

২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্টে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। জঙ্গিদের হামলায় ১৭ বিদেশি ও দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ মোট ২২ জন নিহত হন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ নয়জন ইতালির নাগরিক ছিলেন। জীবিত জিম্মিদের উদ্ধারে ২ জুলাই হলি আর্টিসানে ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’ পরিচালনা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এতে হামলাকারী ছয় জঙ্গিও নিহত হন। আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটস (আইএস) হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করলেও বাংলাদেশে পুলিশের বিশেষায়িত কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল (সিটিটিসি) ইউনিট দাবি করে, এটি নব্য জেএমবি নামে নতুন একটি দেশীয় জঙ্গি সংগঠনের কাজ। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আইএস মতাদর্শী আছে। গুলশান হামলার সাতদিনের মাথায় শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতে হামলা করে জঙ্গিরা। এতে দুই পুলিশ কর্মকর্তা, এক নারী ও আক্রমণকারী জঙ্গি নিহত হন।