আবারও শ্রমিক আন্দোলনের মুখে খুলনা-যশোরের পাটকলগুলো

0
976

এম জে ফরাজী : শ্রমিক আন্দোলনের মুখে আবারো খুলনা-যশোর অঞ্চলের পাটকলগুলো। মজুরী কমিশন বাস্তবায়ন, অবসর শ্রমিক-কর্মচারীদের সকল বকেয়া প্রদান, নিয়মিত সপ্তাহিক মজুরী, বেতন প্রদানসহ ৯ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে ৭ দিনের আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগের ডাকে খুলনা, যশোরসহ সারাদেশের পাটকল গুলিতে এ আন্দোলন শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় খুলনার ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, খালিশপুর, দৌলতপুর, স্টার, আলিম, ইর্ষ্টান এবং যশোরের কার্পেটিং ও জেজেআই জুট মিলে এক সাথে গেট সভার মধ্যে দিয়ে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেন পাটকল শ্রমিক লীগ ও সিবিএন-নন সিবিএ শ্রমিক নেতারা।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, আগামীকাল ৪ মার্চ রাজপথে বিক্ষোভ মিছিল, ৮ মার্চ সারাদেশের পাটকলগুলোতে এক সাথে শ্রমিক সমাবেশ, ১০ মার্চ হরতাল পালনের সমর্থনে লাল পতাকা মিছিল, ১২ মার্চ ২৪ ঘন্টা ধর্মঘট পালন, ১৯ মার্চ আবারো ৪৮ ঘন্টা ধর্মঘট ও বিক্ষোভ মিছিল এবং ২৪ মার্চ ঢাকায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে শ্রমিক নেতারা জানান।
প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলে শ্রমিক সভায় ৭ দিনের আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় পাটকল শ্রমিক লীগের সভাপতি, প্লাটিনাম জুট মিলের সিবিএর সভাপতি সরদার মোতাহার উদ্দিন। সভায় বক্তৃতা করেন সিবিএর সাধারণ সম্পাদক সেলিম আকন, সাবেক সভাপতি কাওসার আলী মৃধা, শাহানা শারমিন, নুরুল হক, খলিলুর রহমান, হুমায়ন কবির খান, তরিকুল ইসলাম, সৈয়দ আরব আলী, জাসুদ শেখ, বাদশা মিয়া, মনিরুল ইসলাম শিকদার, বেল্লাল হোসেন, আঃ রহিম, খলিলুর রহমান, আঃ গফ্ফার খান, শাহ আলম, মোস্তফা কামাল, মোল্য নাসির উদ্দিন, গিয়াস উদ্দিন, আঃ রউফ বিশ^াস।
ক্রিসেন্ট জুট মিলের গেট সভায় সভপতিত্ব করেন সিবিএর সভাপতি মোঃ মুরাদ হোসেন, সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন সিবিএর সাধারণ সম্পাদক মোঃ সোহরাব হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাওঃ হেমায়েত উদ্দিন আজাদী, পান্নু মিয়া, সাবেক সভাপতি দ্বীন ইসলাম, আবু জাফর, আবু হানিফ, ইউসুফ হাওলাদার, সোহরাব হাওলাদার, মোল্যা আঃ রশিদ, বাচ্চু মিয়া, ওমর ফারুক, মিজানুর রহমান, হামিদ ফারুক, সরোয়ার হোসেন, আবুল হোসেন হারুন।
খালিশপুর জুট মিলে শ্রমিক সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিবিএর সভাপতি আবু দাউদ দ্বীন মোহাম্মাদ। বক্তৃব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক শেখ মোঃ ইব্রাহিম, শওকত মোড়ল, আঃ মজিদ বকুল, সেলিম শিকদার, সরদার আলী আহমেদ, মিজানুর রহমান মানিক, আশরাফ আলী, আঃ রহিম হাওলাদার, কামাল হোসেন সেন্টু, গাজী মোশারেফ হোসেন, জাহিদুর রহমান, মনিরুজ্জামান, পিলটন মোল্যা, সাহিদুল ইসলাম।
স্টার জুট মিলে গেট সভায় সভাপতিত্ব করেন মিন্টু গাজী। বক্তব্য রাখেন বেল্লাল মল্লিক, আঃ মান্নান, আনোয়ার হোসেন, শাহিন গাজী, আইয়ুব আলী, মাহমুদুল হাসান। অনুরূপ কর্মসূচি আলিম, ইষ্টার্ন, কার্পেটিং ও জেজেআই জুট মিলে অনুষ্ঠিত হয়। প্রত্যেকটি মিলে শ্রমিক সভায় পাটকল শ্রমিক নেতারা তাদের দাবি তুলে ধরেন।
দাবিরগুলোর মধ্যে সরকার ঘোষিত জাতীয় মজুরী ও উৎপাদনশীলতা কমিশন-২০১৫ এর রোয়েদাদসহ উল্লেখিত দাবি ও সুপারিশ বাস্তবায়ন, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক কর্মচারীদের পি,এফ, গ্র্যাচুাইটি ও মৃত শ্রমিকের বীমার বকেয় প্রদান, টার্মিনেশন, বরখাস্ত শ্রমিকদের কাজে পূণঃ বহাল, বরখাস্ত শ্রমিক, কর্মচারীদের শ্রম আদালত ও শ্রম ট্রাইবুনালে মামলার রায় পাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ নিয়োগকৃত আইন জীবি মামলার না চালানোর মতামত দেয়া সত্বেও বিজেএমসি উচ্চতর আদালতে আপিল করার ফলে মিল গুলি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, এ বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহন করা, সেটআপ অনুযায়ী শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়োগ ও স্থায়ী করা, পাট মৌসুমে পাটক্রয়ের অর্থ বরাদ্ধ, উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে মিলগুলিকে পর্যাক্রমে বি,এম,আর,ই করাসহ ৯ দফা বাস্তবায়নের দাবী উল্লেখ্যযোগ্য। শ্রমিকদের দাবী বাস্তবায়নের লক্ষে আন্দোলন কর্মসুচির একটি দাবিনামা বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগের নেতারা বস্ত্র ও পাট মন্ত্রনালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বিজেএমসি, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের সচিব, শ্রম অধিদপ্তর মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন দপ্তরে আন্দোলনের দাবি নামা পাঠিয়েছেন।
শ্রমিক আন্দোলন নিয়ে বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগের সভাপতি ও প্লাটিনাম নাম জুবিলী জুট মিলস এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের সভাপতি সরদার মোতাহার উদ্দিন বলেন, শান্তি ও শৃঙ্খলা ভাবে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায় করা হবে। তিনি বলেন, মজুরী কমিশন বাস্তবায়ন হলে শ্রমিকদের প্রাণের দাবি পূরণ হবে, এবং শ্রমিকরা আন্দোলন থেকেও অনেকটা ফিরে আসবে।