“আপনারা আমার হয়ে সালাম দিয়ে বলেন, সবাই যেন নৌকা মার্কায় মেয়র পদে আমাকে ভোট দিয়ে সেবা করার সুযোগ দেয়।”

0
779

তথ্য প্রতিনিধিঃ
আসন্ন খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন-২০১৮এর নির্বাচনীর প্রচারনা প্রায় শেষের দিকে অনেকটা জমেউঠেছে। ১২ মে (শনিবার) দিনব্যাপী নগরীর ৩১নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক এবং কাউন্সিলর পদপ্রার্থী এস এম আসাদুজ্জামান রাসেল সকাল ৮টা থেকে নগরীর মতিয়াখালী ব্রীজ থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন এরপর শিপইয়ার্ড, মতিয়াখালী মৌজা, মোল্লা পাড়া, লবণচরা, জিন্নাহপাড়া, হঠাৎ বাজার, বান্ধা বাজার, বোখারী পাড়া, মোক্তার হোসেন রোড সংলগ্ন এলাকায় বিভিন্ন শ্রেণীর পেশাজীবি, ব্যবসায়ী, চাকুরীজীবি, শ্রমিক, ইজিবাইক চালক, রিক্সা চালকসহ সমাজের সর্ব স্তরের জনগনের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়সহ নৌকা ও ঝুড়ি প্রতীকের ছবিসহ লিফলেট বিতরণ করেন। নৌকা প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করে তিনি খুলনা সিটিকে একটি ডিজিটাল শহর করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। এসময় ভোটারদের মাঝে ব্যপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক ভোটারদের সাথে গনসংযোগকালে সাথে ছিলেন জেলা ও মহানগর ও ৩১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগসহ দলের বিভিন্ন অংঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এক পর্যায় বেলা ১১টায় রাজশাহীর সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন গণসংযোগে অংশগ্রহন করেন।
সন্ধ্যায় খানজাহান আলী সেতুর পশ্চিম প্রান্তে লবণচরায় নদীর তীরে বাগেরহাট জেলা কল্যাণ সমিতি আয়োজিত মত বিনিময় সভায় বক্তব্য প্রদান কালে মেয়র প্রার্থী বলেন, আমি আজ আপনাদের এলাকায় সকাল থেকে ভোটারদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়সহ ভোট চেয়ে গনসংযোগ করেছি। হয়তো অনেকের কাছে যেতে পারি নাই। আপনারা সবাই আমার হয়ে সবার কাছে আমার সালাম দিয়ে আমাকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আগামীতে সেবা করার সুযোগ দেওয়ার জন্য।
তিনি অত্যান্ত পরিতাপের সাথে বলেন, গত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আপনারা আমাকে দশহাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন। এরপরও কি আমার ইচ্ছা হয় নির্বাচন করি ? কিন্ত জননেত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান মন্ত্রীর খুলনার প্রতি স্পেশাল দৃষ্টি আছে বলেই তিনি আমাকে খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনীত করেছেন।
তিনি বলেন, গত ১৯৯৩ সাল থেকে এ যাবত কাল পর্যন্ত আমার পাচঁ বছর (২০০৮-২০১৩) ব্যতীত ১৮ বছরে বিএনপি খুলনা শহরে কি কি উন্নয়ন করেছে ? একটা রাস্তাও করে নাই। খুলনা শহরের সমস্ত রাস্তা উন্নয়নের কাজ আমি করেছি। আমি রুপসা ট্রাফিক মোড় হতে ব্রীজ পর্যন্ত ফোর লাইনের রাস্তা উন্নতি করণের জন্য ১০১ কোটি টাকা বরাদ্দ এনেছিলাম কিন্ত আজ পর্যন্ত রাস্তার জায়গাই অধিগ্রহন করতে পারে নাই। সবার দ্বারা সব কাজ করা সম্ভবপর হয় না ।
তিনি বলেন, মেয়র থাকাকালীন ২২টি খালের পুনঃখননের জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ এনেছিলাম। আজকে দেখতে পেলাম মতিয়াখালী, মহিরবাড়ী খালের মধ্যে আরসিসি ঢালাই করে প্রচীর বানিয়ে রেখেছে। সেখানে জলাবদ্ধতার জন্য পানি সরে না। এ রূপসা ব্রীজ ২০০১ তৎকালীন প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপানের প্রধান মন্ত্রীর নিকট বাংলাদেশে দুইটি সেতু নির্মাণের জন্য অনুরোধ করলে, জাপান প্রধান মন্ত্রী বলেন একটি সেতু করে দিবো তবে সেটি কোথায় হবে জানতে চান। শেখ হাসিনা জানান রূপসা ব্রীজ। এমনকি এ ব্রীজের ভূমি অধিগ্রহনের টাকা আমি নিজ হাতে জমির মালিকদের পরিশোধ করেছি। আমারাই এ ব্রীজের ভিত্তি স্থাপন করেছি।
আমি মেয়র না থাকা সত্বেও মাননীয় প্রধান মন্ত্রী ২৬০০ কোটি বরাদ্দ দিয়েছেন খুলনা ওয়াসার জন্য। ১০টি বুস্টার ষ্টেশনের মাধ্যমে মোল্লার হাট মধুমতি নদী হতে খুলনায় সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য রূপসা উপজেলার সমন্তসেনা এলাকায় ৭২ একর জমি অধিগ্রহন করা হয়েছে। আগামী ৫০ বছরেও পানির সংকট হবে না। আগামী ডিসেম্বর মাসে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী উদ্ভোধন করবেন বলে আশা করা যায়।
১৯৯৮ সালে ১০৭ কোটি টাকায় দুইটি স্পেশালাইড হসপিটাল করার জন্য স্পেন সরকার সাহায্য দেয়। যার একটি খুলনায় গোয়ালখালীতে আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালেন জন্য ভিত্তি স্থাপন করা হয়, অপরটি টঙ্গীতে শহীদ শেখ ফজলুল হক মনি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। কিন্তু বিএনপি সরকার আবু নাসের হাসপাতালের কাজ স্থগিত করে দেয় এবং সেই টাকা দিয়ে বগুড়ায় মেডিকেল কলেজ নির্মাণ করে। তিনি প্রশ্ন রাখেন আবু নাসের কি শুধু আওয়ামী লীগের হাসপাতাল ? বিএনপিরা কি এখন এখানে চিকিৎসা নিচ্ছে না ? তাহলে কেন বরাদ্দ কেটে নিলো ।
তিনি আরো বলেন, আমি বর্তমান মেয়াদে রামপাল-মোংলার নির্বাচিত সাংসদ। আমি আমার এই পাচঁ বছরে ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদুৎ, খুলনা-মোংলা রেল লাইন, বাগেরহাট খানজাহান বিমান বন্দর, মোংলা অর্থনৈতিক জোন, খুলনা আধুনিক রেল ষ্টেশন, ৮২ কোটি টাকায় মোংলা বন্দরের জন্য দুই আধুনিক ড্রেজার নদী খননের জন্য ক্রয় করা হয়। বিএনপির সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৮টি প্রতিশ্রুতি দিয়ে খুলনা-২ আসনে নির্বাচিত হয়েছিলেন যার ১টি প্রতিশ্রুতি তিনি বাস্তবায়নের প্রমাণ দিলে আমি আর নির্বাচন করবো না। মোংলা বন্দর মৃত বিধায় কোন টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে না বলে জানায়। আর আজকে সেখানে এই পাঁচ বছরের ব্যবধানে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর নিরলস প্রচেষ্টায় মোংলায় শিল্প কলকারখানায় হাজার হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। এক বিঘা জমির মুল্যে যেখানে এক লক্ষ টাকা ছিলো, এখন সেই জমি আশি লক্ষ টাকা থেকে এক কোটি টাকা।
মাননীয় শেখ হাসিনার সরকার ছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভবপর নয় এ কথা স্পষ্ট। অতএব এ অঞ্চলের উন্নয়নের স্বার্থেই দল-মত নির্বিশেষে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের এই নির্বাচনে আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করলে এক বছরের মধ্যে অধিকাংশ প্রকল্পের শেষ করবো ইনশাআল্লাহ।