আনুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুদকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ

0
170

আশাশুনি প্রতিনিধি:
আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলমগীর আলম লিটনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, ভূয়া প্রকল্প ও ভূয়া প্রকল্প কমিটি দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ ও তদন্ত শুরু হয়েছে। চেয়ারম্যান লিটনের দুর্নীতির ক্ষতিয়ান তুলে ধরে দুদকসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেন, তারই পরিষদের মেম্বার, ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সেক্রেটারী, ১৯৯৭ সাল হতে আওয়ামী রাজনীতির সাথে সক্রীয় ভাবে জড়িত মোঃ সাহাবুদ্দিন সানা। অভিযোগের তদন্তে নেমেছেন দুদক। ১৮ অক্টোবর স্পেশাল জজ আদালত সাতক্ষীরায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা এবং আইজি বরাবর আবেদনের প্রেক্ষিতে অতিঃ পুলিশ সুপার সাতক্ষীরা ২৬ সেপ্টেম্বর তদন্তের দিন ধার্য আছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে খুলনা ও সাতক্ষীরা থেকে একদল সাংবাদিক ঘটনাস্থানে গমন করেন বুধবার। বাদী, এলাকাবাসী ও প্রকল্প কমিটির কয়েকজন সাংবাদিকদের জানান, ২০১৪-১৫ ও ১৭-১৮ অর্থ বছরে ভোলানাথপুর রাস্তার সোলিং ও মাটির ভরাট করা হয়নি, ১৫-১৬ ও ১৬-১৭ বছরে মনিপুর মন্দির হতে ও চলমান রাস্তা হতে খাজরা গামী রাস্তার দু’টি সোলিং এর কাজ না করে পূর্বের কাজ দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়েছে। ১৭-১৮ অর্থ বছরে মির্জাপুর হতে একসরা ও মির্জাপুর মেইন রাস্তা হতে একসরা গামী রাস্তার দু’টি সোলিং এর প্রায় ১৬ লক্ষ টাকার কাজ অভিযোগের পর মাত্র ৪ রশির মত মাটির কাজ করা হয়েছে। ১৪ থেকে ১৮ ৪টি অর্থ বছরে দিলিপ কর্মকারের বাড়ি হতে মানির গাজীর বাড়ি, বাসুদেবপুর মেইন রাস্তা হতে কালিমন্দির গামী, বিছট কর্মকার বাড়ি হতে কালিদাশ বাড়ী গামী ও বাসুদবেপুর কর্মকার বাড়ি হতে বিরিঞ্চি বাবুর বাড়ি গামী রাস্তার ৪টি প্রকল্পের সাড়ে ৫ লক্ষ টাকার কাজের মাত্র ৫০ হাজার টাকার মত কাজ করা হয়েছে এবং একই অর্থ বছরে বিছট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৭টি প্রকল্প দেখিয়ে সাড়ে ৬ লক্ষাধিক টাকার কাজের মধ্যে কেবল দু’টি কাজ করা হয়েছে। সেখানেও গেট নির্মান ও টাইলস এর কাজ দেড় লক্ষের মধ্যে ১ লক্ষ টাকার ও ১ লক্ষ টাকার রঙের কাজে ৩০/৪০ হাজার টাকার মত কাজ করা হয়েছে। ১৫-১৬ ও ১৬-১৭ অর্থ বছরে বিছট শফিকুলের বাড়ি হতে মার্কাস, মার্কাস পুকুরের ধার হতে মুকুল সরদারের বাড়ি গামী ও মার্কাস মসজিদ হতে হাফিজুলের বাড়ী গামী রাস্তা সোলিং এর ৪টি প্রকল্পের প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ টাকার কাজের মধ্যে মাত্র এক লক্ষ টাকার মত এবং ১৪-১৫ ও ১৭-১৮ অর্থ বছরে বিছট রূপন্তি পাঠাগারের আসবাব ও সংস্কারের নামে ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকার দু’টি প্রকল্পের টাকা নিজের ব্যক্তিগত অফিসে লাগানো হয়েছে। ১৫-১৬ হতে ১৮-১৯ ৪টি অর্থ বছরে বিছট ফুটবল মাঠের ভিন্ন ভিন্ন নাম দেখিয়ে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা ও ৭ মেঃটন চাউল উত্তোলন করা হয়েছে। ১৫-১৬ অর্থ বছরে বিছট বাজারের ড্রেন নির্মানের পৃথক ৩টি প্রকল্প দেখিয়ে একটি প্রকল্পের আংশিক কাজ করা হয়েছে। ১৭-১৮ ও ১৮-১৯অর্থ বছরে গরালি-নাংলা গামী একই রাস্তার ৫টি ভিন্ন নামে প্রকল্প দেখিয়ে সাড়ে ৭ লক্ষাধিক টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ১৬-১৭ ও ১৭-১৮ অর্থ বছরে মধ্যম একসরায় ঘেরের বাধ/রাস্তার মাটি ভরাট ও বাঁধ নির্মানের ৩টি প্রকল্প দেখিয়ে ৯ লক্ষাধিক টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। অথচ বাধের কাজ সংশ্লিষ্ট ঘের মালিকরা নিজেদের প্রয়োজনে নিজেরাই করেছেন। এছাড়া আরও বহু প্রকল্পে এমনি ভাবে দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে, যার তদন্ত শুরু হয়েছে। এদিকে, বিছট গ্রামের নূরনবী মোড়লের পুত্র আলম হোসেনকে ইউপি সদস্য সাজিয়ে প্রকল্প কমিটির সদস্য সচিব করে নয়াখালী বেড়ী বাধ রাস্তা সংস্কারের নামে দু’ কিস্তিতে ৫ লক্ষ ৭০হাজার টাকা কাজ না করেই উত্তোলন এবং আঃ ওহাব মেমোরিয়াল ফুটবল মাঠ ভরাটের নামে ২ লক্ষ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এব্যাপারে ঘটনাস্থলে যাওয়া সাংবাদিকদের সাথে আলম বলেন, তিনি চেয়ারম্যানের কর্মচারী ছিলেন, বর্তমানে মিষ্টির দোকানে কর্মচারী। কাজের ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেননা। অন্যদিকে, বিছট গ্রামের মুকুল সরদার ওরফে শফিকুল সরদারের স্ত্রী নারগিস সুলতানাকে ইউপি সদস্য দেখিয়ে গরালী নাংলাগামী রাস্তার কাজ, ইমাম দেখিয়ে ঘাসটিয়া খাল বাগালী স্লুইচ গেটগামী রাস্তার কাজ দেখিয়ে চাল/গম ও টাকা উত্তোলন এবং মহিলা প্রতিনিধি দেখিয়ে গরালি মহিদুলের ঘের হতে ডিজি কপোতাক্ষ মাদ্রাসা গামী রাস্তার কাজ দেখিয়ে আড়াই লক্ষ টাকা কাজ না করে উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদের জন্য বরাদ্দ ৩০০০ লিঃ ও সাবেক চেয়ারম্যানের আমলে বরাদ্দ ১০০০ লিঃ পানির ট্যাংকি নিজের বাড়িতে স্থাপন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ যথাযথ তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বাদীসহ এলাকাবাসী জোর দাবি জানিয়েছেন।