আধিপত্য বিস্তারই মংলার সংর্ঘষের মুল কারন : থানায় পরস্পর বিরোধী দুটি অভিযোগ

0
423

মংলা প্রতিনিধি:
মংলায় দু’দল গ্রামবাসির সংঘর্ষে মুল কারনই হলো আওয়ামী দুই ইউপি সদস্য গ্রæপের আদিপত্য বিস্তাকে কেন্দ্র কারে এ হামলা। এলাকায় ক্ষমতাসীন দু’দলের রোষানলে আজ দুইদিন হাসপাতালে বেডে শরীরে অস্ত্রের অঘাতের কাটা যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে অনেকেই। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে মংলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইকবার বাহার চৌধুরীসহ একদল পুলিশ। মঙ্গলবার সকাল ৭ টার দিকে উপজেলার চাদঁপাই ইউনিয়নের কানাইনগর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে এদিন গভীর রাতে পরস্পর বিরোধী দুইটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে মংলা থানায়। তবে বিকালে এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলার প্রস্ততি চলছে। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
সরেজমিনে গিয়ে যানা যায়, উপজেলার চাঁদপাই ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড কাইনমারী, কানাইনগর ও অবাসন প্রকল্পসহ বিশাল একটি এলকা রয়েছে। শুধু মাত্র এ আবাসনসহ এর চারপাশে প্রায় ১০ হাজার লোকের বসবাস। এখানে ভোটারের সংখ্যাও অনেক। এসব এলাকা দীর্ঘ ৩০ বছর সাবেক ইউপি সদস্য সুলতান ও তার ছেলে জাকির গ্রæপের দখলে ছিল। আর এ আবাসন ও কানাইনগর এলাকায় গড়ে উঠেছে বন্দরের বিদেশী বানিজ্যিক জাহাজ কেন্দ্রি চোরাই ব্যাবসা। পাশা-পাশী এ আবাসনের অন্তরালে রয়েছে মরন নেশা গাজাঁ,হেরোইন ও ইয়াবা রমরমা ব্যাবসা। এছাড়াও সুন্দরবনের কাঠ, বনের গহীনে বিষদিয়ে মাছ শিকার,হরিন শিকার ও বন্যপ্রানী পাচার গ্রæপের সদস্যরা রয়েছে এ আবসনে বসবাস। পুলিশ বা প্রসাশনের কোন লোক অভিযানে গেলেই এখানে যারা বসবাস করে তারা সবাই অসহায় ও ভুমিহীন গরিব লোক থাকে এটাই তাদের মুল বক্তব্য। যার ফলে মুল অপরাধীরা রয়েযায় ধরাছোয়ার বাইরে। এদের আশ্রায়-প্রশ্রায় দাতা ছিল সাবেক মেম্বার সুলতার ও তার ছেলে জাকির গং। এ গ্রæপের সদস্যদের ভাল ব্যাবহার আর কার্যক্রমে মানুষ অতিষ্ট। কিন্ত গত ইউপি নির্বাচনে এ ওয়ার্ডের সদস্য পদ কেড়ে নেয় ক্ষমতাসীন দলের যুবলীগ নেতা সেলিম ও হাসেন গ্রæপ। ৭নংওয়ার্ড ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয় মোঃ সেলিম হাওরাদার। সকল কার্যক্রম ও সাশোন শোসনের দায়ীত্ব চলে যায় সেলিম-হাসেম গ্রæপের কাছে। এরপর থেকে শুরু হয় ক্ষমতাসীন দলের দু’গ্রæপের অধিপত্য বিস্তারের লড়াই। আর সোমবার আহত আলমগীর হোসেনের সাথে জাহাজের ব্যবসা করতো সুলতান গ্রæপের সাগর নামের এক যুবক। ব্যাবসা ভাল না হওয়ায় এবং জাহাজে না গিয়ে মাদক সেবন করার অভিযোগে মারধর করে সাগরকে। এতে প্রতিবাদ করে সাগরের মা ইয়াসমি বেগম। প্রথমে রোববার বিকালে একদফা মারামারীর ঘটনায় ৫জন আহত হয়। কিন্ত পুরানো রেশ, সোমবার সকাল ৭টার দিকে এঘটনা জিজ্ঞেস করলেই শুরু হয় দু’গ্রæপের সংঘর্স। উভয় গ্রæপের কমবেশী প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এবিষয় সেলিম মেম্বার’র পক্ষে সোমবার রাতে পারুল বেগম বাদী হয়ে ৪৮ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। অপারদিকে সাবেক মেম্বার সুলতান ও জাকির গ্রæপের পক্ষে ইয়াসমিন বাদী হয়ে ২৬ জনকে অভিযুক্ত করে পরস্পর বিরোধী থানায় অন্য একটি অভিযোগ দাখিল করে। এ নিয়ে ওই গ্রামটিতে ক্ষমতাসীন দু’গ্রæপের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। মংলা থানার অফিসাস ইনচার্জ মোঃ ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, কানাইনগর এলাকায় দু’পক্ষে সংঘর্সের ঘটনায় পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোজ খবর নেয়া হয়েছে। এব্যাপারে দু’পক্ষই অভিযোগ দায়ের করেছে। তদন্ত স্বপেক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।