আত্মগোপনে খুলনার মাদক বিক্রেতারা

0
544

কামরুল হোসেন মনি : র‌্যাবের মাদকদ্রব্য’র নিয়ন্ত্রণে সাঁড়াশি অভিযানে আত্মগোপনে খুলনার মাদক বিক্রেতারা। অনেকে নিজ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন কিন্তু মাদকের পৃষ্ঠপোষক ও আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতারা রয়েছেন বহাল তবিয়তে।
সূত্র মতে, স্থানীয় প্রশাসনের এক শ্রেণির পুলিশ এবং এক শ্রেণির রাজনৈতিক নেতাদের সরাসরি সম্পৃক্ততায় খুলনায় অবাধে ইয়াবাসহ মাদক ঢুকছে। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে পাঠানো তালিকায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও হলসমূহে ইয়াবা সরবরাহের জন্য শহরতলীর মোহাম্মদনগর এলাকার মোঃ কালুর স্ত্রী তানিয়া, হরিণটানা ইসলামনগর এলাকার আলমগীর হোসেনের স্ত্রী পারভীন, রুস্তুম আলীর ছেলে কবির, মোহাম্মদনগর এলাকার রাবি, সাগর, মজিদ শেখের ছেলে হাসান শেখ, কালু, হরিণটানা ইসলামনগর এলাকার লাল মিয়ার ছেলে চায়ের দোকানদার রুবেল, একই এলাকার জয়নালের ছেলে চায়ের দোকানদার সাইদুর রহমান, হরিণটানা থানার এএসআই মোঃ রিপন মোল্যা, মোঃ হাসানুজ্জামান।
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েটে) মাদক বিক্রেতা ও সরবরাহকারীদের মধ্যে গিলাতলার দক্ষিণপাড়ার আবু হানিফের স্ত্রী মোছাঃ শাবানা বেগম, একই এলাকার আজমত আলীর ছেলে নূরে আলম খান, গিলাতলা মীরপাড়া এলাকার মৃত রজব আলীর খাঁ’র ছেলে মোঃ জামাত খাঁ, ফুলবাড়িগেট এলাকার বাদশা মিয়ার স্ত্রী বিলকিস, রঙমিল গেট এলাকার ইউসুফ হায়দারের স্ত্রী রেখা, গাবতলা এলাকার সৈয়দ মোশারেফের ছেলে সৈয়দ আশরাফুল, একই এলাকার বাবুল মীরের ছেলে টুকু মীর, মীরেরডাঙ্গা এলাকার মৃত শেখ আব্দুল জলিলের ছেলে শেখ মোহাম্মদ এমদাদুল হক, ফুলতলা উপজেলার মশিয়ালী পূর্বপাড়া গ্রামের মোঃ ইসলাম শেখের ছেলে মোঃ রাজিব শেখ, একই গ্রামের নূরু শেখের ছেলে রাজু শেখ। নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ও নর্দান ইউনিভার্সিটি এলাকায় সরবরাহকারীরা হচ্ছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক লীগ খুলনা মহানগর শাখার সভাপতি নিখিল কুমার সাহা, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন সোহেল, বয়রা ইসলামিয়া কলেজ রোড এলাকার মোঃ রমজান আলীর ছেলে আলমগীর কবির খোকন, সোনাডাঙ্গা সোনালীনগর হাতেম আলী বাইলেনের বাবুল হোসেন সরদারের মেয়ে হোসনে আরা, সোনাডাঙ্গা থানা রোড এলাকার আল কাফি মল্লিক জনির স্ত্রী এমিলি রহমান বুবলি ও সোনাডাঙ্গা সোনালীনগর এলাকার ফকরুদ্দীন বাহাদুরের মেয়ে জাহানারা বেগম। জাহানারা ওরফে জানু, হোসনে আরা ও লুৎফার নাহার লুতু এই তিন বোন মাদক ব্যবসায় জড়িত। ইতোমধ্যে তালিকাভুক্ত পাইকারি ও খুচরা মাদক বিক্রেতারা নিজেদেরকে আড়াল করে রেখেছেন। পৃষ্ঠপোষক ও আশ্রয়-প্রশয়দাতাদের তালিকায় রয়েছে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত দু’জন কাউন্সিলরের নাম।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় এর উপ-পরিচালক মোঃ রাশেদুজ্জামান বলেন, তাদের সাঁড়াশি অভিযানে তালিকাভুক্ত পাইকারি ও খুচরা মাদক বিক্রেতাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা কারণ তারা আত্মগোপনে রয়েছেন। বিভিন্ন জায়গায় অভিযানে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসতে হচ্ছে। অনেক জায়গায় মাদক বিক্রেতারা আটক হচ্ছে।
মাদকদ্রব্য’র গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক মোঃ পারভিন আক্তার বলেন, বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে গাঁজাসহ দুই মহিলা মাদক বিক্রেতাকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে একজনকে জরিমানা অন্যজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। তিনি বলেন, অভিযান অব্যাহত থাকায় পাইকারি ও খুচরা মাদক বিক্রেতারা গা ঢাকা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় এর উপ-পরিচালক মোঃ রাশেদুজ্জামান বলেন, নিজেদের সাথে মাদক বিক্রেতাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা বা মাদক বিক্রির সাথে জড়িত নেই বলে মর্মে অনেকে কার্যালয় এসে লিখিতভাবে জানাচ্ছেন। আমরা এগুলো যাচাই-বাছাই করছি।
উল্লেখ্য, গত ২২ মে জেলা মাদকদ্রব্য’র নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় ১৫ দিনব্যাপী মাদক বিরোধী সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেন। ওই দিন দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে তিন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেন। তাদের এ অভিযান আগামী ৪ জুন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।