আটার বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাশিয়ার গম মোংলা বন্দরে

0
342

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাজার মূল্য স্থীতিশীল এবং সরকারি খাদ্যগুদামে মজুদ বাড়াতে মংলা বন্দরে রাশিয়া থেকে আসা গমের একটি বড় চালান খালাস আজ শেষ হচ্ছে। এ মাসের মাঝামাঝি সময়ে গম বোঝাই আরও একটি রাশিয়া থেকে মংরা বন্দরে এসে পৌঁছাবে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে আটার মূল্য স্থীতিশীল হবে। খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ৭৮টি খাদ্য গুদামে ৫৯ হাজার ৯৮১ মেট্রিক টন গম মজুদ রয়েছে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এটাই সব চেয়ে কম মজুদ।
সরকারি খাদ্য গুদামে পর্যাপ্ত চালের মজুদ থাকলেও গমের মজুদ অনেক কম। অভ্যন্তরিন উত্তরন সংকটসহ মজুদ সল্পতার কারণে গম, ময়দা ও আটার মূল্য নিয়ন্ত্রনে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বাজার আমদানীকারক ও পাইকারী ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। ভোক্তা সাধারণ উচ্চমূল্যে গম আটা কিনছেন।
খাদ্য বিভাগের স্থানীয় সূত্র জানান, রাশিয়া থেকে ২১ হাজার মেট্রিক টন গম বোঝাই জাহাজ মংলা বন্দরে খালাস করছে। আজ খালাস প্রক্রিয়া শেষ হবে। এ মাসের মাঝামাঝি সময়ে ২১ হাজার মেট্রিকটন গম নিয়ে আরও একটি রাশিয়ান জাহাজ মংলা বন্দরে ভিড়বে। বিদেশ থেকে আসা গম মংলা বন্দর সংলগ্ন সাইলো, খুলনা কেন্দ্রীয় খাদ্য গুদাম, মহেশ্বরপাশা কেন্দ্রীয় খাদ্য গুদাম ও বরিশাল বিভাগে যাবে। খুলনা বিভাগে ৭৮ টি খাদ্য গুদামে ৫৯ হাজার ৯৮১ মেট্রিক টন গম মজুদ রয়েছে।
অপর একটি সূত্র জানান, ওএমএস এর জন্য শুধুমাত্র খুলনা জেলায় প্রতি মাসে ৮১ মেট্রিকটন গমের প্রয়োজন হয়। জুলাই ও আগষ্ট মাসে এ জেলায় এক হাজার ১৩২ মেট্রিকটন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। এছাড়া পুলিশ, আনসার, সেনাবাহিনী, নৌ-বাহিনী, ফায়ার ব্রিগেড, বিজিজি ও জেল খানার জন্য প্রতি মাসে ৬৫০ থেকে ৭০০ মেট্রিকটন গম দেওয়া হয়। খুলনা বিভাগের বাকি ৯টি জেলায় ওএমএস ও নিয়মিত বাহিনীর জন্য প্রতি জেলায় মাসে গড়ে ৪০০ মেট্রিকটন গম সরবরাহ করা হয়। মজুদ ফুরিয়ে আসবে এ আশঙ্খায় বিদেশ থেকে গম আমদানী করা হচ্ছে। খুলনা বিভাগীয় সহকারি আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ আব্দুস সোবহান সরদার এ প্রতিবেদককে জানান, এ মাসের শেষ দিকে গমের সংকট থাকবে না। বাজার মূল্য স্থীতিশীল হবে। ডিলাররা ভোক্তাদের নিকট প্রতি কেজি আটা ১৮ টাকা করে বিক্রি করছে। ওএমএস’র গমের প্রতি টনের সরকারি মূল্য ১৪ হাজার টাকা। তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরে কাজের বিনিময়ে টাকা-কাবিটার কাজ শুরু হবে। ফলে গমের ওপর চাপ থাকবে না। কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি বন্ধ রয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবে বাজার মূল্য স্থীতিশীল থাকবে। তিনি জানান, বিভাগে ২ লাখ ৩ হাজার ৬২ মেট্রিকটন আতপ ও সিদ্ধ চাল মজুদ রয়েছে। বিশেস থেকে আমদানী করার প্রয়োজন হচ্ছে না। খাদ্য অধিদপ্তর চাপ রপ্তানীর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।