আজ জাতীয় গণহত্যা দিবস

0
464

বাঙালি জাতি পরাধীনতার শিকল ভেঙ্গে চেয়েছিল মুক্তি। স্বপ্ন দেখেছিল স্বাধীনতার। চেয়েছিল সীমাহীন বৈষম্য থেকে মানুষের অধিকার নিয়ে বাঁচতে। প্রতিদানে তাদের নিশ্চিহ্ন করে দিতে রাতের আঁধারে চালানো হয় নির্বিচারে গণহত্যা। যে ভূ-খন্ডকে তারা বানাতে চেয়েছিল স্বপ্নভূমি কয়েক মিনিটেই সেটিকে বানানো হয় নরকবাস। যে মানুষটিকে ঘিরে ছিল তাদের স্বপ্ন সে মানুষটিকে হত্যা করতে বন্দী করে নিয়ে যাওয়া হয় রাতের অন্ধকারে।

 

পৃথিবীর আর কোথাও এমন বর্বরোচিত গণহত্যা হয়েছে কিনা জানা নেই। সে রাতে পরিকল্পিতভাবে পাকিস্তানের প্রশিক্ষিত সামরিক বাহিনী ভারি অস্ত্র নিয়ে ঘুমন্ত নিরীহ মানুষের উপর হামলা চালিয়ে শুধু ঢাকা শহরেই ১ লক্ষ নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করে। একরাতের ব্যবধানে শহর জুড়ে শুরু হয় রক্তের নদী। শুরু হয় লাশের মিছিল। কে নেই সেই মিছিলে? শিশু থেকে শুরু করে শতবর্ষী বৃদ্ধ। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র থেকে শুরু করে নির্বিবাদী অধ্যাপক, সাংবাদিক। কেউ বাদ যায়নি তাদের বুলেট-কামানের আঘাত থেকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও এত মানুষ মরেনি।

 

বাঙালি দমে যাওয়ার জাতি নয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশ মাতৃকাকে মুক্ত করতে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে। সব শ্রেণি পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ছিনিয়ে আনে স্বাধীনতার সূর্য,। ৫৬ হাজার বর্গমাইলের স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।
২০১৭ সালে প্রথমবারের মত ২৫ মার্চ কে ‘জাতীয় গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয় এবং আন্তর্জাতিক ভাবে গণহত্যা দিবসের স্বীকৃতি আদায় করতে উদ্যোগও নিয়েছেন শেখ হাসিনার সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় খুলনাসহ সারাদেশব্যপী দিবসটি পালনে কর্মসূচি নিয়েছে সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহ।

ডেস্ক রিপোর্ট