আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, ১ জনের মৃত্যু

0
861

কামরুল হোসেন মনি:
চলতি বছরে জানুয়ারি মাসে শীতের প্রকোপ বাড়ার পর বিভিন্ন উপজেলায় আগুন পোহাতে গিয়ে দুর্ঘটনা বেড়েছে। সচেতনতার অভাবে এ রকম দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে ১-২ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। যার মধ্যে বয়স্কদের তালিকা বেশি। অনেকে মৃত্যুবরণও করছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কোন না কোন জায়গা থেকে এ রকম দুর্ঘটনায় পড়ে মানুষ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি হচ্ছেন, যার মধ্যে বয়স্করা বেশি।
বটিয়াঘাটা উপজেলা সুরখালী ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামের বাসিন্দা হাসিনা বেগম (২৫)। গত ১৪ জানুয়ারি সকালে আগুন পোহাতে গিয়ে তিনি দগ্ধ হন। তাকে ওই দিন খুমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। ১৯ জানুয়ারি রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। স্বামী দিনমজুর রাসেল শেখ বলেন, তার স্ত্রীর শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে যায়। দেড় মাসের জান্নাতুল নামে তার একটি শিশু কন্যা আছে। মোল্লাহাট এলাকার বাসিন্দা সিদ্দিক আহমেদ এর স্ত্রী লিলিয়া বেগম (৬৫) সন্ধ্যায় আগুন পোহাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হন। তাকে ১৪ জানুয়ারি ওই হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।


ছেলে বেলায়েত হোসেন জানান, মা আগুন পোহানোর সময়কালে কেউ বাসায় ছিল না। তার চিৎকারে আশেপাশে লোকজন এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। শরীরের অবস্থাও দিনকে দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। এ রকম প্রতিদিন কোন না কোন উপজেলা থেকে আগুন পোহাতে গিয়ে দুর্ঘটনায় শিকার হচ্ছেন।
একইভাবে আগুন পোহাতে গিয়ে অসাবধানতার কারণে সত্যন (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। তার স্ত্রী শোভা বৈরী জানান, তার স্বামীর অবস্থার তেমন একটা উন্নতি হয়নি। অবস্থাও ভালো নেই।
বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারী বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডাঃ মোঃ ফরিদ উদ্দিন বলেন, শীত নিবারণের জন্য আগুন পোহাতে গিয়ে বয়স্করা আগুনে পুড়ে যাওয়ায় দগ্ধ তালিকা বাড়ছে। কেউ বা পূজা করতে গিয়ে কুপের মাধ্যমেও অগ্নিদগ্ধ হচ্ছেন। শিশুরাও পুড়ছে। বর্তমানে প্রতিদিন এরকম ১-২ জন রোগী আগুনে পুড়ে গিয়ে এখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এরকম দুর্ঘটনায় তিনজন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন তাদের শরীরের ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে, অবস্থাও আশঙ্কাজনক। শীতে বয়স্ক ও শিশুদের আগুনে পোহানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, যারা এই দুর্ঘটনায় পড়ছেন তার অধিকাংশই বয়স্ক।
বার্ন ইউনিটের সিনিয়র স্টাফ নার্স ঝর্ণা খানম বলেন, অন্যান্য দিনের তুলনায় শীতকালে আগুনে ঝলসে যাওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। প্রতিদিন আগুন পোহাতে গিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। যারা এসব দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন তাদের মধ্যে নড়াইল, যশোর, সাতক্ষীরা, পাইকগাছা, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা, কালীগঞ্জ, চিতলমারী, বটিয়াঘাটা অঞ্চলের সংখ্যা বেশি। এদের মধ্যে বয়স্কদের পাশাপাশি শিশুরাও আগুন পোহাতে গিয়ে দুর্ঘটনায় কবলে পড়ছে।
বার্ন ইউনিটের সূত্র মতে, ২০১৭ সালের গত এক বছরে আগুন পোহানো ও বিভিন্ন কারণে আগুনে ঝলসে যাওয়া রোগীর ভর্তি সংখ্যা ছিল ৭২৫ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৩১ জন। এছাড়া উন্নত চিকিৎসার জন্য ৫২ জনকে ঢাকা বার্ন ইউনিটে রেফার্ড করা হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন কারণে ঝলসে যাওয়া ৫৩-৫৪ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। বেড স্বল্পতার কারণে অনেক রোগীকে মেঝেতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।