আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশ একে অপরের পরিপূরক: এ্যাড. সাইফুল ইসলাম

0
57

মফিজুল ইসলাম:
গত ২৩ শে জুন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপনের মাধ্যমে ৭৩ বছরে পদার্পণ করেছে। ৭২ বছরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংগ্রাম ও উন্নয়ন নিয়ে একান্ত সাক্ষাৎকারে খুলনা সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাড. সাইফুল ইসলাম বলেন, ইতিহাস থেকে আমরা যেটা পাই তাতে করে আওয়ামীলীগ এবং বাংলাদেশ আলাদা কিছু নয়, একে অপরের পরিপূরক।

তিনি আরো বলেন, ১৯৪৯ সালে ২৩ শে জুন প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শুরু করে এই দলটি আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গনতন্ত্র, ভোটাধিকার ও নায্য অধিকার নিশ্চিতের লক্ষ্যেই সংগ্রাম শুরু করে। আজকে ৭২ বছর পেরিয়ে ৭৩ বছরে পা দিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। প্রতিষ্ঠালগ্নে এই দলের নাম ছিল পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম লীগ, মাওলানা ভাসানি,শামসুল হককে দিয়ে শুরু করে তৎকালীন তরুন শেখ মুজিবর রহমান যুগ্ন-সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৫৩ সালে সাম্প্রদায়িক সম্প্রিতির দেশ হিসাবে একটি স্বাধীন ভূখন্ড হবে সেই পরিকল্পনা করেই শেখ মুজিবর রহমান পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম লীগকে বাদ দিয়ে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামীলীগ হিসাবে যাত্রা শুরু করেন এবং তিনি সাধারন সম্পাদক হন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সাধারন সম্পাদক হিসাবে যাত্রা শুরু করার পর থেকে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বিজয়, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালে ছয় দফা আন্দোলনে আওয়ামীলীগের গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা ছিল। তৎকালীন সময়ে ছয় দফা আন্দোলন নিয়ে অনেকে ব্যাঙ্গাত্তক মন্তব্য করেছিল বা বিভিন্ন রকমের মন্তব্য করেছিল। কিন্তু দুরদর্শী শেখ মুজিব আওয়ামীলীগের উপর নির্ভর করে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের উপর নির্ভর করেই সেই সময় ছয় দফা ঘোষনা করেছিল। সেই ছয় দফাকে ধাপে ধাপে এক দফায় পরিনত করে বাংলাদেশ স্বাধীনতার যে দফা সেই এক দফায় পরিনত করেছিল। এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ১৯৭০ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েও ক্ষমতা না পেয়ে পরবর্তীতে স্বাধীনতার ডাক দেয়। ১৯৭১ সালে যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীন দেশ পায়।

তিনি আরো বলেন এই আওয়ামীলীগ সংগ্রাম কোরতে কোরতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান তার জীবনের মুল্যবান সময় গুলো কারাগারে কাটিয়েছেন আওয়ামীলীগ করতে গিয়ে। রাজনৈতিক ২৪ বছরের জীবনে তিনি ১৩ বছরের অধিক তিনি কারাগারে ছিলেন। আজকে এই উন্নয়নশীল বাংলাদেশ,লাল সবুজের বাংলাদেশকে এই জায়গায় আনতে আওয়ামীলীগকে অনেক ত্যাগ করতে হয়েছে। আওয়ামীলীগের অনেক নেতা কর্মীর জীবনের বিনিময়ে আজকে আমরা বাংলাদেশ পেয়েছি। এই সম্পূর্ন অর্জন আওয়ামীলীগের। আওয়ামীলীগ না থাকলে বাংলাদেশ স্বাধীনতার ডাক দেওয়ার কেউ থাকতনা। আওয়ামীলীগ না থাকলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর দলের সভাপতিও থাকতেননা। এবং এত গুরু দায়িত্ব নিয়ে এত ঝুঁকি নিয়ে স্বাধীনতার ডাক বঙ্গবন্ধু দিতেননা। আর এই আওয়ামীলীগের লোকেরাই মুজিব বাহিনী তৈরী করে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। তারই ফলে ৩০ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে, ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমাদের এই স্বাধীনতা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান কারাগার থেকে বেরিয়ে আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে যুদ্ধ বিদ্ধস্ত দেশকে পুনঃগঠনে সরকারের পাশাপাশি সেদিন আওয়ামীলীগকে কাজে লাগিয়েছিল। তৎকালীন বঙ্গবন্ধু আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের কাজে লাগিয়ে সুজলা,সুফলা, সোনার বাংলা গড়তে মাত্র ৩ বছর সাত মাসে একটি সুন্দর যায়গায় নিয়ে গিয়েছিলেন।
কিন্তু ১৯৭৫ সালে ১৫ই আগস্ট ষড়যন্ত্রের শিকর হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান স্বপরিবারে হত্যার শিকার হয়েছিলেন। সেই হত্যাকান্ডের পরে আমরা দেখেছি খুনি খন্দকার মোস্তাক, জিয়াউর রহমান সেনা বাহীনির প্রধান হয়ে পার্লামেন্ট কালো আইন পাশের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধ করে দিয়েছিল।

১৯৮২ সালে ১৭ ই মে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসার পরে সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে. বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের দাবিতে। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট থেকে শুরু করে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ২১ বছর বঙ্গবন্ধু খুনের বিচারের দাবিতে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। এর পরে ১৯৯৬ সালে ১২ই জুন আওয়ামীলীগ ভোটের মাধ্যমে জিতে ২৩ শে জুন সরকার গঠনের পরে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করা যাবেনা সেই আইন বাতিল করার পরে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার শুরু হয়। এবং বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে। আর এটাও কিন্তু আওয়ামীলীগ করেছে।

জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসার পরে এদেশে ভোটাধিকার ছিলনা, দেশে স্বৈরশাসক ছিল। জিয়াউর রহমানের পরে স্বৈরচারী এরশাদ ৯ বছর দেশ শাসন করে। জিয়াউর রহমান হ্যা’ না ভোট দিয়ে এদেশে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল। সেই ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসার পরে আন্দোলন, সংগ্রাম করতে গিয়ে একাধিকবার কারা বরণ করেছেন। নিজের জীবনের ঝুকি নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের সাথে নিয়ে নুর হোসেনসহ রাজপথে অনেক রক্ত দিয়ে এদেশে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও ভোটাধিকার নিশ্চিত হয়েছিল এই আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে। ১৯৯১ সালে নির্বাচনে ২৭ ফেব্রয়ারী নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের গনতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরে সেই গনতন্ত্রকে আবার গলা টিপে হত্যা করে। আবারও আমরা ভোটাধিকার প্রয়োগের আন্দোলন সংগ্রাম করে পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ১৯৯৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর পার্লামেন্ট থেকে পদত্যাগ করে রাজপথে নেমে ১৯৯৬ সালে ৩০ শে মার্চ খালেদা জিয়া সরকারকে পতন ঘটিয়ে ১৯৯৬ সালে ১২ই জুন আবারও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছিল।
সেই আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আজকে আওয়ামী লীগ ৭২ বছর পেরিয়ে ৭৩ বছরে পা দিয়েছে। আজকে যদি আমরা দেখি আওয়ামী লীগ ধারাবাহিকভাবে সরকার পরিচালনা করছে শুধু সেই যায়গায় নয় সরকারের বাহিরে থেকেও আওয়ামী লীগ সংগ্রাম করেছে, সরকারে থেকেও একটি যুদ্ধ বিদ্ধস্ত বাংলাদেশকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে মাথা উঁচু করে দাড় করিয়েছেন।

বাংলাদেশ এখন উন্নত বিশ্বে একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। বাংলাদেশের মাথা পিচু আয় বেড়েছে, প্রায় আড়াই হাজার ডলারের দাড়িয়েছে যেটা অনেক উন্নয়নশীল দেশে চেয়ে বেশী। বর্তমানের এই করোনাকালীন সময়ের মানবিক দিক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা এই আওয়ামী লীগ সরকার রেখেছে। আওয়ামী লীগ আজকে মানবিক সংগঠন বলেই মায়ানমারের শরনার্থীদের আশ্রয় দিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা সারা বিশ্বের কাছে একজন মমতাময়ী মা হিসাবে পরিচিত হয়েছেন। উন্নয়নের কথা যদি বলি এক কথায় যদি বলি বাংলাদেশে অভাবনীয় উন্নয়ন হয়েছে।

সেই কারনে আমরা বলতে চাই আওয়ামী লীগের গৌরব, আওয়ামী লীগের অর্জন, আওয়ামী লীগের ত্যাগ সব মিলিয়ে যদি আমরা বিবেচনা করি ৭২ বছরে আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে ঘিরেই এই বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু, আওয়ামীলীগ ও বাংলাদেশ এটা বিচ্ছিন কিছু নয়। এই তিনটি বিষয় যদি আমরা একসাথে করে ভাবি তাহলে আমাদের লাল সবুজের বাংলাদেশ, আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ ও আগামী দিনের নতুন প্রজন্মের যে স্বপ্ন দেখি, সব কিছুই এই আওয়ামী লীগের মাধ্যমে অর্জন। এবং এই আওয়ামী লীগের মাধ্যমে এই বাংলাদেশকে আরো এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

সবশেষে তিনি বলেন যোগ্য পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে বহুদুর। আওয়ামী লীগের মাধ্যমে এদেশের স্বাধীনতা, আওয়ামীলীগের মাধ্যমে এদেশের সকল অর্জন, ভবিষ্যতেও সকল অর্জন আওয়ামীলীগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

খুলনা টাইমস/এমআইআর