অলিম্পিক পেছানোর মানসিক ধকলটাই বেশি : বাইলস

0
220

খুলনাটাইমস স্পোর্টস: ৪টি সোনা জিতে ২০১৬ রিও অলিম্পিককে আলোয় ভাসিয়ে দিয়েছিলেন সিমোন বাইলস। চার বছর পর এবার ২০২০ টোকিও অলিম্পিকেও একাধিক সোনা জয়ের সম্ভাবনা তাকে ঘিরে ছিলই। কিন্তু টোকিও অলিম্পিক পিছিয়ে গেল এক বছর। ২০২১ সালে অনুষ্ঠেয় টোকিও অলিম্পিকে তর্কযোগ্যভাবে সর্বকালের সেরা জিমন্যাস্টকে কি আর আলো ছড়াতে দেখা যাবে? তখন তার বয়স হয়ে যাবে ২৪, এই বয়সের আগেই যে জিমন্যাস্টরা রিং ছেড়ে দিয়ে অবসর জীবনে চলে যান! শারীরিক বিপত্তি বাদ গেল। বাইলস মনে করেন, শুধু তার একারই নয়, সারাবিশ্বের অ্যাথলেটদের ওপর দিয়েই এই একটা বছর মানসিক একটা ধাক্কা দেবে যা কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে না। বাইলস নিজে আত্মবিশ্বাসী যে শারীরিকভাবে ফিট থাকার চ্যালেঞ্জটা তিনি উৎরে যেতে পারবেন, অনুশীলনেও ঘাটতি থাকবে না, কিন্তু চ্যালেঞ্জটা হলো মানসিক, ‘আমার কোনও সন্দেহ নেই যে কোচরা আমাকে ফিট করে তুলবেন, কিন্তু মানসিকভাবে একটা বছরের অপেক্ষাৃআমি মনে করি এটাই আমার বা সব অ্যাথলেটের ওপর প্রভাব ফেলবে।’ যুক্তরাষ্ট্রের জিমন্যাস্ট তারকা এনবিসি’র টুডে অনুষ্ঠানে সব অ্যাথলেটের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আমাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে ঠিক থাকতে হবে। সামনে এগোনোর জন্য এটাই বড় প্রভাবক, আমাদের শরীর ও মনের কথাটা শুনতে হবে।’ করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে সতর্ক এই সময়ের মধ্যেই টোকিও অলিম্পিকের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বেশি মানুষের জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা চলছে, জিম ট্রেনিংয়েও ১০ জনের বেশি থাকার নিয়ম নেই। নিজের ‘রোটেশন’ শেষ করে বাইলস যাচ্ছিলেন লকাররুমে, এমন সময়ে একটি খুদে বার্তা পেলেন : এক বছর পিছিয়ে গেছে টোকিও অলিম্পিক! বাইলসের কাছে সেই মুহূর্তের অনুভূতি কেমন ছিল শুনুন তার মুখেই, ‘ আমি টিক বলতে পারবো না আমার তখনকার অনুভূতি। আমি বসে পড়লাম কেঁদে ফেললাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তটি সঠিক। যুক্তরাষ্ট্রে এবং সারাবিশ্বের মানুষের সুস্থ ও নিরাপদে থাকাটা আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে। এটা (অলিম্পিক পিছিয়ে দেওয়া) কঠিন সিদ্ধান্ত, কিন্তু ঠিকই আছে।’ এই করোনাভাইরাসের সংকটকালে কীভাবে ট্রেনিং করছেন, কীভাবে সময় কাটাচ্ছেন সেটিও বলেছেন অলিম্পিক ও বিশ্ব জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপ মিলিয়ে মোট ৩০টি সোনাজয়ী আমেরিকান। প্রতিদিন তিনি কোচদের কাছ থেকে খুদে বার্তা এবং ফেসটাইমের মাধ্যমে সবকিছু জেনে নিচ্ছেন দৈনন্দিন কী কাজ তাকে করতে হবে। কোচরা তাকে অনুশীলনের সূচিও বলে দিচ্ছেন সেই অনুযায়ী ঘরেই নিজেকে ঝালিয়ে নিচ্ছেন। আর কী? নিজের পোষা কুকুরটিকে নিয়ে একটু হাঁটাহাঁটি করছেন! তার আশা, দ্রুতিই লকডাউন উঠে যাবে, পৃথিবী আবার স্বাভাবিক হবে আর জিমে গিয়ে করতে পারবেন সত্যিকারের অনুশীলন।