অর্থাভাবে অপূর্ণাঙ্গ খুলনার গল্লামারী স্মৃতিসৌধ

0
325

বিশেস প্রতিবেদন :

অর্থাভাবে গত ছয় বছরেও পূর্ণতা পায়নি খুলনা মহানগরী সংলগ্ন গল্লামারী বধ্যভূমিতে নির্মিত স্মৃতিসৌধটি। ২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্মৃতিসৌধটি ২০১১ সালে উদ্বোধন করা হলেও মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে প্রায় ৯ কোটি টাকা প্রয়োজন। কিন্তু স্থানীয় সরকার বা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ বরাদ্দ না দেওয়ায় থমকে আছে নির্মাণকাজ। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ খুলনার মুক্তিযোদ্ধারা।

এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ খুলনা মহানগর ইউনিট কমান্ডার অধ্যাপক আলমগীর কবীর বলেন, স্মৃতিসৌধের মাস্টারপ্ল্যানে সেখানে অ্যাপ্রোচ রোড, পার্কিং ইয়ার্ড, সীমানা প্রাচীর, গেট, গার্ড ও ওয়েটিং রুম, রেস্টুরেন্ট, বৃক্ষরোপণ ও ফুলের বাগান তৈরি, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপন এবং ফোয়ারা নির্মাণের কথা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত এগুলো বাস্তবায়ন হয়নি।

মুক্তিযোদ্ধারা জানান, স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে বর্তমান খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ছিল পূর্ব পাকিস্তান রেডিও স্টেশন। সেখানে আস্তানা গাড়ে পাকিস্তানি সেনারা। এ ছাড়া সার্কিট হাউস, ইউএফডি ক্লাব ও রেলস্টেশনে ছিল তাদের ঘাঁটি। আর ভূতের বাড়ি আনসার ক্যাম্পে ছিল রাজাকারদের আস্তানা। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মুক্তিকামী ও সাধারণ মানুষকে তুলে নিয়ে যাওয়া হতো এসব ক্যাম্পে। চলত নির্যাতন। এরপর গল্লামারী এলাকায় নিয়ে গিয়ে তাদের হত্যা করা হতো। কখনও ক্যাম্পে হত্যা করে ট্রাকে করে লাশ নিয়ে নিয়ে ফেলা হতো গল্লামারীর নদী ও আশপাশের জলাভূমিতে। নয় মাসে ওই এলাকা পরিণত হয় লাশের স্তূপে।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কেউ গল্লামারী এলাকায় যেতে সাহস পেত না। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরদিন ওই এলাকায় গিয়ে মানুষ রাস্তার ধারে, বিলের মধ্যে, নদীতে শুধু গলিত আর অর্ধগলিত লাশের ছড়াছড়ি দেখতে পায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর শুধু গল্লামারী এলাকা থেকেই ৫ ট্রাক মানুষের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে ঠিক কতজনকে সেখানে হত্যা করা হয়েছে, তা কেউ বলতে পারে না।

খুলনা জেলা পরিষদ সূত্র জানায়, স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দেওয়া এসব হতভাগ্য মানুষের স্মরণে বটিয়াঘাটা উপজেলার গল্লামারী বধ্যভূমির তিন একর জমিতে ক্ষুদ্র পরিসরে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয় ১৯৯৫ সালে। ২০০৮ সালে পূর্ণাঙ্গ স্মৃতিসৌধ নির্মাণের কাজ শুরু করে খুলনা জেলা পরিষদ। ২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্মৃতিসৌধটি উদ্বোধন করা হয় ২০১১ সালের ডিসেম্বরে। এরপর অর্থ বরাদ্দ না দেওয়ায় স্মৃতিসৌধটি তার আসল চেহারা পায়নি এখনও।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদের খুলনা জেলা ইউনিট কমান্ডার সরদার মাহাবুবার রহমান বলেন, গল্লামারী স্মৃতিসৌধে যাওয়ার রাস্তাটি এখনও কাঁচা। স্মৃতিসৌধ এলাকায় অবাধে গরু-ছাগল চরে বেড়ায়। এর সম্মান ও আবেদন রক্ষায় এটিকে আরও আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন করা প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে খুলনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদবলেন, স্মৃতিসৌধটিকে পরিপূর্ণ করার জন্য ৯ কোটি টাকা প্রয়োজন। অর্থ বরাদ্দ চেয়ে একাধিকবার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও কোনো সাড়া মেলেনি।