অভিযানে সত্বেও বন্ধ হচ্ছে না খুমেক হাসপাতালে দালালদের তৎপরতা 

0
443

কামরুল হোসেন মনি : খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালালদের শক্তিশালী সিন্ডিকেট ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গত অক্টোবর মাসে র‌্যাব-৬ ও কেএমপি’র ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে উদয়ন ডায়গনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার ও সুগন্ধা ডায়গনস্টিক সেন্টার এর মালিকসহ তাদের প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত দালালদেরকে গ্রেফতরা করা হয়। ডিবি’র অভিযানে এস এম সৈয়দ হোসেনসহ ১৩জন দালালকে আটকের পর মুচলিকা দেয়া ছাড়া পায়। আর র‌্যাবের অভিযানে সুগন্ধা ডায়াগণস্টিক সেন্টারের মালিকসহ ২২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও জরিমানা করেন। এরপর কিছুদিন ওই সব দালালদের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো না থাকলে পুনরায় ওই ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গ্রাম-গঞ্জে থেকে আসা সাধারন রোগীরা ওই দালাল সিন্ডিকেটদের বিরুদ্ধে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের প্রতি অভিযান চলমান থাকার দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে খুমেক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ এটি এম মঞ্জুর মোর্শেদ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদককে বলেন, আমিও ইদার্নি লক্ষ্য করেছি, দালালদের ফের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। দালাল নির্মুল করার জন্য নানা উদ্যোগও গ্রহন করা হয়েছে। ডিবি ও র‌্যাব অভিযান পরিচালনা করে দালালসহ ডায়াগণস্টিক সেন্টারের মালিকদের আটকও করেন। ওর পর থেকে দালালদের তৎপরতা কমে যায়। দালালদের নির্মুল করার জন্য র‌্যাব, ডিবিসহ স্থানীয় প্রশাসনে সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
এ ব্যাপারে গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এডিসি) এস এম কামরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদককে বলেন, হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে অভিযোগ দিলে বা এ বিষয়ে সহযোগিতা চাইলে আমরা এগিয়ে আসবো।
ছোট বয়রা ডায়াগণস্টিক এন্ড ক্লিনিক অ্যাসোসিয়শনের সভাপতি বিপ্লব দাস বলেন, হাসপাতাল থেকে দালালমুক্ত করার জন্য হাসপাতালের কর্তৃপক্ষকে আমাদের সহযোগিতা চাইলে আমরা এগিয়ে আসবো। অসহায় রোগীরা যাতে দালালদের খপ্পরে পড়ে চিকিৎসার নামে সর্বশান্ত না হয় তা আমরাও চাই।
জানা গেছে, চলতি বছরের গত ২৯ অক্টোবর খুমেক হাসপাতালে কেএমপি’র ডিবি পুলিশের একটি টিম অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে খুমেক হাসপাতালের সামনে অবস্থিত উদয়ন ডায়াগণস্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টারের মালিক এস এম সৈয়দ হোসেনসহ ১৩ জন আটক করেছিলেন। ওই সময়। আটকৃতদের মধ্যে ওষুধ দোকানীর মালিকও ছিল। আটককৃত মধ্যে ছিলে আব্দুল আলীম, সোহেল, আরিফুল ইসলাম, হুমায়ুন কবির, তাপস রানা, মুরাদ খান, শামীম হোসের বুলু, ফরিদ শিকদার, আবুল কালাম, জিল্লাল মোল্লা, নাজিম উদ্দিন মোল্লা ও উজ্বল দাস। পরবর্তীতে তাদেরকে মুচলেকা দিয়ে ওই ছেড়ে দেয়া হয়। খুলরার বিভিন্ন গ্রামগঞ্জ থেকে চিকিৎসা নিতে আসা অসহায় রোগীরা দালালদেল খপ্পরে পরে চিকিৎসার নামে প্রতারিত হচ্ছেন। এ সব অভিযোগের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে আটক করেন। এর আগে ২ অক্টোবর র‌্যাব-৬ এর একটি টিম হাসপাতালের বহিঃবিভাগ ও জরুরী বিভাগে অভিযান চালিয়ে সুগন্ধা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকসহ ২২ জন দালালকে আটক করেছিলেন। যার মধ্যে ২০ জনই ছিল নারী দালাল। তাদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও কয়েকজনকে অর্থদন্ডে দন্ডিত করেন। অভিযানে
একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে, খুমেক হাসপাতালে বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে থেকে আসা অসহায় রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসেন। ওই সসব অসহায় রোগীদের নিয়ে বাণিজ্য করে অধিকাংশ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক ও দালালরা বিপুল টাকার মালিক হয়েছে। রোগী ভাগিয়ে নিয়ে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করে নানা কলা কৌশলে টাকা আদায় করছে ওসব প্রতিষ্ঠান। নামমাত্র সেবা প্রদান করে হাতিয়ে নেওয়া হয় বড় অঙ্কের টাকা। এছাড়া অযথা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে এবং ভর্তি থেকে শুরু করে রোগী রিলিজের দিন পর্যন্ত একাধিক বিষয়ের ওপর বিল তৈরি করা হয়। যদিও সরকারি হাসপাতালে এক্সরে, সিটিস্ক্যান, আলট্রসনোগ্রাম, ইসিজিসহ সব পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধাই রয়েছে। কিন্তু কমিশনের লোভে এক শ্রেণির কিছু সরকারি ডাক্তাররা রোগীদের সরকারি হাসপাতালের আশপাশের বেসরকারি হাসপাতাল ক্লিনিকে পাঠাচ্ছে। হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীরাই ওই এলাকার বেসরকারি হাসপাতালগুলোর টার্গেট। সেজন্য বিপুলসংখ্যক দালাল নিয়োগ করা হয়েছে। তারা সকাল থেকেই রোগী ধরার ফাঁদ পেতে বসে থাকে।  যারা বেতন হিসেবে আবার কমিশন হিসেবে কাজ করে। মূলত তারাই রোগী সংগ্রহের কাজ করে। যার মধ্যে মহিলা দালালরাই বেশি। রোগী ও তাদের স্বজনদের সরকারি হাসপাতার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা দিয়ে লোভনীয় অফারে উন্নত চিকিৎসার ফাঁদে ফেলা হয়। রোগী নিয়ে চলে টানা হেঁচড়াও। আর হাসপাতাল থেকে ক্লিনিকে নিয়ে যেতে পারলেই শুরু হয় টাকা আদায়ের নানা কুটকৌশল। অনেক সময় হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে মুখ খোলারও সাহস নেই। কারণ রোগী ভাগানোর দালালরা প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় কাজ করে।