অভিমানী ভাষা সৈনিক গাজী শহীদুল্লাহ’র দাফন সম্পন্ন : শোক নানা মহলের

0
880

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনাটাইমস:
অধুনালুপ্ত খুলনা পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান, ভাষা সৈনিক গাজী মো. শহীদুল্লাহ (৮১) আর নেই। সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নগরীর খানজাহান আলী থানার গিলাতলাস্থ নিজ বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি … রাজেউন)।

তিনি ১৯৭৩ সালে খুলনা পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ওই সময় তিনি খুলনার শহীদ হাদিস পার্কে শহীদ মিনার নির্মাণ করেন। গাজী শহীদুল্লাহ চিরকুমার ছিলেন।
এদিকে বাদ জোহর নগরীর শহীদ হাদিস পার্কে মরহুমের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বাদ আসর গিলাতলায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে মরহুমের লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

নামাজে জানাজায় ভাষা সৈনিক ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এম নূরুল ইসলাম, খুলনা সিটি মেয়র মনিরুজ্জমান মনি, সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য ও সাবেক পৌর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. এনায়েত আলী, সাবেক মেয়র শেখ সিরাজুল ইসলাম ও কাজী আমিনুল হক, সাবেক সংসদ সদস্য ও নগর বিএনপি সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাড. মো. সাইফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমির এজাজ খান, খুলনা প্রেসক্লাব সভাপতি ফারুক আহমেদ, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট গাজী আব্দুল বারীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আরও ছিলেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. রজব আলী সরদার, এমডিএ বাবুল রানা, দপ্তর সম্পাদক মো. মুন্সি মাহবুব আলম সোহাগ, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক আলমগীর কবীর, শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন খান, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. মফিদুল ইসলাম টুটুল, শেখ মোশাররফ হোসেন, সদর থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি এ্যাড. মো. সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ফকির মো. সাইফুল ইসলাম, শ্রমিক নেতা রনজিত কুমার ঘোষ, জাকির হোসেন, শেখ আব্দুল হকসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

এদিকে খুলনা পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ভাষাসৈনিক গাজী শহীদুল্লাহ স্মরণে আগামী (১০ ফেব্রুয়ারী) শনিবার নগরীর শহীদ হাদিস পার্কে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত হবে। শোকসভা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে নাগরিক নেতৃবৃন্দের সাথে প্রস্তুতি সভা করছে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন সিটি মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান।
ভাষা সৈনিক গাজী শহীদুল্লাহ ১৯৩৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি খুলনা মহানগরীর খানজাহান আলী থানার গিলেতলা গ্রামে একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। তার বাবার নাম গাজী শামসুর রহমান। গাজী শহীদুল্লাহ দৌলতপুর বিএল কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৫৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বিএল কলেজে খুলনা জেলার প্রথম সুদৃশ্য ও বৃহৎ শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন।
গাজী শহীদুল্লাহ ১৯৬২ সালে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন বাতিল এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭০ এ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে (খুলনার ডুমুরিয়া-ফুলতলা-তালা আসনে) ভাসানী ন্যাপের হয়ে সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেন। তিনি ১৯৭৩ সালে খুলনা পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ওই সময় তিনি খুলনার শহীদ হাদিস পার্কে শহীদ মিনার নির্মাণ করেন। ২০০১ সালের শেষ ভাগে তিনি খুলনা জেলা বিএনপিতে যোগদান করেন। তিনি খুলনা জেলা ভাষা সৈনিক সংসদের সভাপতি ও একুশের চেতনা পরিষদের আহবায়কের দায়িত্বে ছিলেন।

আওয়ামী লীগ : এদিকে তার মৃত্যুতে গভীর শোক, শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও মরহুমের বিদেহী আত্মার মাহফেরাত কামনা করে বিবৃতি দিয়েছেন, কেন্দ্রিয় নেত্রী ও সাবেক মন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি, মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক এমপি, খুলনা জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক হুইপ এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা এমপি, কেন্দ্রিয় নেতা এস এম কামাল হোসেন, মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সাধারণ সম্পাদক ও ১৪দলের সমন্বয়ক আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজান এমপি।
খুলনা মহানগর বিএনপি : বর্ষিয়ান রাজনীতিবীদ, ভাষা সৈনিক ও খুলনা পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান গাজী শহীদুল্লাহর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ, শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা এবং মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামণা করে বিবৃতি দিয়েছেন খুলনা মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
বিবৃতিদাতারা হলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম নুরুল ইসলাম দাদু ভাই, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা মহানগর সভাপতি সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক ও কেসিসির মেয়র মনিরুজ্জামান মনি, সাবেক এমপি কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, সৈয়দা নার্গিস আলী, মীর কায়সেদ আলী, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, শেখ মোশারফ হোসেন, জলিল খান কালাম, সিরাজুল ইসলাম, খায়রুজ্জামান খোকা, স ম আব্দুর রহমান, জাহিদুল ইসলাম, ইকবাল হোসেন, ফখরুল আলম, এ্যাড. ফজলে হালিম লিটন, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, শেখ আমজাদ হোসেন, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, সিরাজুল হক নান্নু, মাহবুব কায়সার, ইকবাল হোসেন খোকন, আসাদুজ্জামান মুরাদ প্রমুখ।


খুলনা জেলা বিএনপি: বর্ষিয়ান রাজনীতিবীদ, ভাষা সৈনিক ও খুলনা পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান গাজী শহীদুল্লাহর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ, শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা এবং মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামণা করে বিবৃতি দিয়েছেন খুলনা জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
বিবৃতিদাতারা হলেন সভাপতি এ্যাড. এস এম শফিকুল আলম মনা, সাধারণ সম্পাদক আমীর এজাজ খান,  সিনিয়র সহ সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ গাজী আব্দুল হক, গাজী তফসির আহমেদ, খান জুলফিকার আলী জুলু, এ্যাড. এম এ আজিজ, মনিরুজ্জামান মন্টু, এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী, মোস্তফা উল বারী লাভলু, জি এম কামরুজ্জামান টুকু, আশরাফুল আলম নান্নু, শামসুল আলম পিন্টু, আলী আসগর, এ্যাড. এ কে এম শহিদুল আলম, মুর্শিদুর রহমান লিটন, অহেদুজ্জামান রানা প্রমুখ।#

কেসিসি মেয়র : এক শোক বার্তায় সিটি মেয়র বলেন, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান গাজী শহিদুল্লাহ ছিলেন ন্যায়নিষ্ট নি:স্বার্থ জনসেবক ও আদর্শজননেতা। তাঁর মৃত্যুতে খুলনাবাসী একজন জনদরদী নেতাকে হারালো। সিটি মেয়র মরহুম গাজী শহিদুল্লাহ’র বিদেহী আত্মার মোগফেরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানান। সিটি মেয়র তাঁর মৃত্যুর সংবাদ শোনার পর মরহুমের গিলাতলাস্থ বাসভবনে যান এবং শোকাহত স্বজনদের সান্তনা জানান। পরে সিটি মেয়র শহীদ হাদিস পার্কে মরহুম গাজী শহিদুল্লাহ’র কফিনে পুস্পস্তাবক দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং বাদ জোহর তাঁর নামাজে জানাযায় শরীক হন।

উল্লেখ্য, জননেতা গাজী শহিদুল্লাহ স্বাধীনতার পর অনুষ্ঠিত খুলনা পৌরসভার প্রথম নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং ২০-০২-১৯৭৪ থেকে ১৪-০৯-১৯৭৬ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন। #