অভিভাবক হীন যশোর-খুলনা মহাসড়ক

0
655

আল মামুন, খুলনাটাইমস:
যশোর-খুলনা সড়ক দিয়ে নেপাল-ভুটান-ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় মালামাল মোংলা ও শিল্প শহর নওয়াপাড়া হতে সরবরাহ হয়। যে কারণে আলোচিত এ মহাসড়কটি অতি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমান অবস্থা দেখলে মনে হয় এর কোনো অভিভাবক নেই, খানাখন্দে ভরপুর। সরে-জমিন দেখা গেছে নওয়াপাড়া বেঙ্গল হতে যশোর মুড়লি পর্যন্ত রাস্তা একেবারে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী। বড় বড় গর্তে পড়ে যানবাহন দুর্ঘটনায় পড়ছে প্রতিনিয়ত। পথচারীরা বাসে না উঠে ট্রেনের অপেক্ষায় বসে থাকেন স্টেশনে। অ্যাম্বুলেন্স চলতে পারে না। বর্ষা মৌসুম শেষ হলেও রাস্তা মেরামতের কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। গুরুত্বপূর্ণ যশোর-খুলনা মহাসড়কটি মেরামত না করে যশোর এলজিইডি ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৮ কি.মি. দৃষ্টিনন্দন সড়ক নির্মাণ করেছে যশোর-রাজগঞ্জ ভায়া সাগরদাঁড়ি পর্যন্ত। কিন্তু ব্যস্ততম মহাসড়কটি জরাজীর্ণ হওয়ায় যানবাহন চালকরা যানবাহন চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। প্রতিনিয়ত ভাঙা রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী ভারী যানবহন নষ্ট হচ্ছে। একটি গাড়ি মাঝ পথে ভেঙে পড়লে তখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ি পার্কিং হতে অনেক সময় নষ্ট হচ্ছে। আর জনসাধারণের অভিযোগ-প্রতি বছর মহাসড়ক সংস্কার করার কিছুদিন পর ভেঙেচুরে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। যার কারণ হিসেবে তারা অভিযোগ করে বলেছেন- সড়ক নির্মাণে ঠিকাদারদের চরম দুর্নীতি। কয়েকজন ড্রাইভার বলেন, এ মহাসড়ক দিয়ে গাড়ি নিয়ে চলাচল করা অনেক কষ্টের ব্যাপার। রাস্তায় প্রায়ই গাড়ি অকেজো হয়ে পড়ে। অনার্স পরিক্ষার্থী আব্দুস সালাম অভিযোগ করেন, বাসা থেকে অনেক আগে বের হলেও রাস্তা খারাপ হবার কারনে সময় মত পরিক্ষার হলে পৌছাতে পারেন না। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। এই মহাসড়ক সংস্কারে অনেক টাকার টেন্ডার হয় এবং কাজও হয় কিন্তু কিছুদিন পরে আবার রাস্তা আগের মতো হয়ে যায়। গতানুগতিক কাজ করে ঠিকাদাররা টেন্ডারকৃত অর্থ তুলে নেয়। আর এই দুর্নীতির পৃষ্টপোষকতা করেন এলজিইডি ও সওজের কতিপয় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী। জনসাধারণ আরও অভিযোগ করে বলেন, মহাসড়ক নির্মাণ সামগ্রীতে কারচুপি হয় দেদার। ঠিকাদাররা মোটা অঙ্কের উপরি দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কতিপয় লোকদের তুষ্ট করে পিচের সঙ্গে পোড়া মবিল মিশিয়ে রাস্তার নির্মাণ কাজ করেন। সচেতন মহল বলেছেন, রাস্তা নির্মাণে পিচের ধর্ম ইটের খোয়া ও পাথরকে আকড়ে ধরা। কিন্তু পিচ কম দিয়ে তাতে পোড়া মবিল মিশ্রিত করলে তাতে পিচের স্থায়িত্ব নষ্ট হয়। অপর যে অভিযোগটি করা হয়েছে তা হল ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় উঠতি পাতিনেতার অসাধু হস্তক্ষেপ। তারা ঠিকাদারের ওপর প্রভাব খাটিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হন। সঙ্গত কারণে সিডিউল মোতাবেক কাজ কখনই হয় না। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সড়ক ও সেতুমন্ত্রীর সু দৃষ্টি কামনা করেছেন ভুক্তভোগী জনসাধারণ। অচিরেই গুরুত্বপূর্ণ এই যশোর-খুলনা মহাসড়কটি সঠিক নিয়মে সংস্কার করা হয়।