অভিনব কায়দায় চাকুরির নামে প্রতারনা

0
2894

কামরুল হোসেন মনি:
শিক্ষিত বেকার যুবকরা প্রতিদিন পত্রিকায় পাতায় চোখ বুলান। কোথায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি রয়েছে। লোভনীয় চাকুরি বিজ্ঞপ্তি দেখে বেকারত্ব দুর করতে আবেদন করেন। হয়তো কোন পরীক্ষাই ছাড়াই আপনি চাকুরিতে সিলেকশনও হয়েছেন। হয়তো কোন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানে আপনার নামে নিবন্ধন করার হিসেবে টাকাও দিতে হয়েছে। কুুরিয়ার মাধ্যমে আপনার নামে চাকুরির নিয়োগপত্র, আইডি কার্ড ও ট্রেনিং কার্ডও পেলেন। ভাবছেন, এবার বুঝি এই সোনার হরিণ ধরা দিচ্ছে, হাঁফ ছেড়ে বাচলেন। হয়তো এই আনন্দ অতি সামান্য জন্য। পুরনায় যখন যৌথ একাউন্ট খোলার জন্য আপনার কাছে টাকা চাচ্ছে। তখনই বুঝতে পারলেন আপনি প্রতারণার শিকারে পা দিলেন। এ রকমই প্রতারণার শিকার হয়েছেন দেবাশিষ বিশ্বাস নামে এক শিক্ষিত যুবক। তার মতো অনেকে এরকম শিকার হয়েছেন খুজলে পাওয়া যাবে।


মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা সদর হাসপাতালে এ প্রতিবেদককের সাথে তার প্রতারনার বিষয়টি খুলে বলেন। তিনি উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার পাস করেন। ইর্ন্টানিও শেষ। এখন একটি চাকুরির আশায় রয়েছেন। চাকুরির জন্য প্রতিদিন চাকরির খবরপত্র পড়েন। গত ২২ সেপ্টেম্বর চাকরির খবরপত্রে মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবায়-এ নিয়োগ। ওই বিজ্ঞপ্তিতে শাখা ব্যবস্থাপক, অফিস সহকারী, ইউনিয়ন সুপার ভাইজার ও ফিল্ড ভিজিটরে নিয়োগ দেয়া হবে। যেহেতু তিনি উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হিসেবে পাশ করেন। যার কারণে শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে আবেদন করেন। বেতন ১৭ হাজার ৭শ’ টাকা। আবেদনও করেছেন। বরাবর স্বাস্থ্য বিভাগ, মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে। অফিস ৯/৩০ হুমায়ুন রোড, ব্লক-এ মোহাম্মপুর ঢাকা ১২০৭। আবেদনকারী দেবাশীষের নামে ওই প্রতিষ্ঠান নিয়োগপত্র, স্বাস্থ্য সেবা ও প্রশিক্ষন কার্ড, আইডি কার্ড ও টাকা পাওয়ার রশিদও কুরিয়ে করে খুলনায় পাঠান। এর আগে দেবাশীষকে একটি মহিলার ওই প্রতিষ্ঠানের তথ্য কেন্দ্র পরিচয় দিয়ে তাকে বিকাশের মাধ্যমে ২ হাজার ৫০ টাকা পাঠাতে বলেন। তারা বলেন, ওই টাকা আপনার নিবন্ধনের জন্য লাগবে। তিনি তাদের কথায় বিশ্বাস করেও পাঠিয়েছেন। এবার ১৪ অক্টোবর আর এক মহিলা বলেন, আপনাকে নিয়োগপত্রসহ যাবতীয় কাগজপত্র পেয়ে গেছেন এখর আপনার বেতন পেতে হলে যৌথ একাউন্ট খোলা লাগবে এই জন্য বিকাশের মাধ্যমে ১ হাজার ৫০ টাকা পাঠাবেন। এবং ১ নভেম্বর (বুধবার) খুলনা সদর হাসপাতালে আপনার ট্রেনিং হবে। ১৫ দিনের ট্রেনিং। ট্রেনিং প্রতিদিন ভাতা হিসেবে ৫৫০ টাকা পাবেন। যখন দেবাশীস ওই ভদ্র মহিলা বলেন, একাউন্ট খোলার জন্য টাকা না পাঠালে আমি কি চাকুরি থেকে বাদ পড়ে যাবো। উত্তর আসে হ্যা। তখনই বুঝতে পারেন তিনি প্রতারনার শিকার হয়েছে। তিনি দেবাশীষ না এরকই অনেকেই শিক্ষিক যুবকরা অভিনব কায়দায় চাকুরির নামে প্রতারনার শিকার হচ্ছেন।


এ ব্যাপারে কেএমপি’র গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এডিসি) এস এম কামরুল ইসলাম বলেন, কেউ যদি প্রতারনের স্বীকার হন তারা আমাদের কাছে অভিযোগ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, ওরা প্রতারক চক্র কেউ যেন এই প্রতারক চক্রের ফাদে পা না দেয়ার জন্য সর্তক থাকতে বলেন।
এ ব্যাপারে খুলনা সিভিল সার্জন ডাঃ এ এস এম আব্দুর রাজ্জাক মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদককে বলেন, এটা একটি প্রতারণা চক্র। মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবায় এ নিয়োগে তাদের এখানে কোন দিন ট্রেনিং হয় না। এ ধরনের খবরও তিনি কখনো শুনেননি। এটা একটি প্রতারক চক্র।
এ ব্যাপারে মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র ঢাকার অফিসে প্রোগ্রাম ডাইরেক্ট পরিচয়দানাকারী সাজিদুল ইসলামকে মঙ্গলবার ৬ টা ৮ মিনিটে এ প্রতিবেদক পরিচয় গোপন করে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আজ (বুধবার) সকাল ৯টায় ফোন করবেন। পরবর্তীতে আবার ফোন দিয়ে এ প্রতিবেদক একজন আবেদনকারীর ভাই হিসেবে সব কিছু জানতে চাইলে তিনি বলেন. দেবাশীষ নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্য অফিসের নিয়মনাযুয়ী তার কাছ থেকে ২ হাজার ৫০ টাকা বিকাশের মাধ্যমে নেয়া হয় স্বীকার করেন। বেতনে পাওয়ার জন্য যৌথ একাউন্টে খোলার জন্য পুনরায় ১০৫০ টাকা পাঠানোর কথা বলেন। যতদিন পর্যন্ত ৬ জন নিয়োগকারী চুড়ান্ত না হবে ততদিন ট্রেনিংয়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। সেক্ষেত্রে একদিন-দুইদিন এমনকি বছরও পেরিয়ে যেতে পারে। তার ওই অফিসের এমডি হিসেবে নাইমুল রহমান বলে জানান। পরবর্তীতে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এমডি নাম্বার চাইলে তিনি বলেন, আমিই সবকিছু এখানে এমডি’র নম্বর দেয়া যাবে না। খুলনা মেডিকেল কলেজ সিভিল সার্জনের কথা তিনি উল্লেখ করলে ওখানে কি সিভিল সার্জন থাকে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
একই প্রতিষ্ঠানের তথ্য কেন্দ্র দায়িত্বে থাকা সাদিকুন নাহার স্মৃতি পরিচয়দানকারকে মঙ্গলবার ৬টা ৫৫ মিনিটে ফোন দেয়া হয়। এই সময় এই প্রতিবেদক নিজের পরিচয় গোপন রেখে, আমার এক বোন ছদ্মনাম (শারমিন) ওই প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেছেন। তার কাছে নিবন্ধনের জন্য ২ হাজার ৫০ টাকা চাওয়া হলে তিনি বলেন ওই টাকা সিকিউরিটি মানি হিসেবে নেয়া হচ্ছে। ট্রেনিং এর সময় তার কাছে আমাদের দেয়া ২০-২৫ হাজার ইন্সটুমেন্ট থাকবে। এই জন্য টাকাটি নেওয়া। পরবর্তীতে বেতনের সাথে টাকাটি দেয়া হবে। আগামী ৭ নভেম্বর থেকে খুলনা সদর হাসপাতালে ১৫ জনকে নিয়ে ট্রেনিং অনুষ্ঠিত হবে। ট্রেনিংয়ের সময় যাতায়াতের ভাতা হিসেবে ৫৫০ টাকা করে পাবেন। ওই টাকা ছাড়া আর কোন টাকাই তাকে দেয়া লাগবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার এমডি কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ফিরোজ আহম্মেদ। ##