অবিশ্বাস্য! গল্পকেও হার মানায় রিয়াদের বীরত্বে ফাইনালে বাংলাদেশ

0
492

খেলা ডেস্ক, খুলনাটাইমস:

এ এক অবিশ্বাস্য গল্প।হারের মুখে থেকে জয় তুলে নিল বাংলাদেশ। শেষ চার বলে দরকার ১২ রান। এটা কি সম্ভব? কিন্তু ক্রিকেটে যে অনেক কিছুই সম্ভব। সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে অবিশ্বাস্য এবং মনে রাখার মতো এক জয় ছিনিয়ে নিল টাইগাররা।
শেষ ওভারের পঞ্চম বলে যখন ছক্কা হাঁকালেন রিযাদ, পুরো দল ছুটে এলো মাঠের মাঝখানে। শুরু হলো উৎসব। যেন বিরাট কোনো টুর্নামেন্ট জিতে ফেলেছে দল। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের বীরত্বে এক বল বাকি থাকতে যেভাবে ২ উইকেটে নাটকীয় জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ, সেটা বড় কোনো টুর্নামেন্ট জয়ের মতোই আনন্দের ও গৌরবের।
প্রথমে ব্যাট করে শ্রীলঙ্কা করেছিল ৭ উইকেটে ১৫৯ রান। জবাবে রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তায় ৮ উইকেট হারিয়ে (এক বল বাকি থাকতে) জয় তুলে নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে উঠে যায় বাংলাদেশ।

প্রেমদাসার উইকেট পুরোপুরি ব্যাটিং। এখানে ১৬০ রানের টার্গেট খুব বড় কিছু নয়। তবে পরিস্থিতি সহজ ছিল না মোটেও। বড় ম্যাচ। অনেক চাপ। তারউপর আবার গ্যালারি ভর্তি দর্শক। যারা শ্রীলঙ্কা শ্রীলঙ্কা বলে গলা ফাটাচ্ছে। চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে ব্যাটসম্যানদের উপর। বহুমুখী চাপ।দরকার মাথা ঠাণ্ডা রেখে খেলা।
কিন্তু আগের ম্যাচের মতো এ ম্যাচেও ব্যর্থ ওপেনার লিটন দাস। ০ তে তিনি ফিরলেন দারুণ চাপ তৈরী করে। সৌম্য রানের মধ্যে নেই। যে কারণে তিন নম্বরে নামানো হয় সাব্বির রহমানকে। অনেক দায়িত্ব ছিল তার উপর। বেশ ভালোই শুরু করেছিলেন। কিন্তু ৮ বলে ১৩ করার পর আউট হয়ে যান সাব্বির। ৩৩ রানে নেই তিন উইকেট।
একপ্রান্তে দারুণ খেলতে থাকা তামিম ইকবালের সঙ্গে জুটি বাঁধেন মুশফিকুর রহিম। দেশের সেরা দুই ব্যাটসম্যান ক্রিজে। এ জুটির দিকে তাকিয়ে দল। বেশ ভালোই এগুচ্ছিলেন। তরতর করে রান করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ২৫ বলে ২৮ করার পর দুর্দান্ত এক ক্যাচের শিকার হন মুশফিক। দলের জন্য যা বিরাট আঘাত।

তামিম উইকেটে থাকলে খুব বেশি চিন্তার কিছু ছিল না। কিন্তু তিনিও ফিরে গেলেন এর কিছু পর। ৪২ বলে ৫০ করে তামিম ফিরে গেলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় শ্রীলঙ্কা। সৌম্য টানাই ব্যর্থ হচ্ছেন। তা তিনি ওপনিংয়ে নামেন, তিন নম্বরে ব্যাট করেন, অথবা মিডল অর্ডারে। দলের দারুণ প্রয়োজনের সময়ে এ ম্যাচেও ব্যর্থ। ১১ বলে ১০ রান করে বিদায় নেন দলের বিপদ বাড়িয়ে।
আঙুলের সমস্যা হয়তো এখনও কিছুটা রয়ে গেছে। মাত্র ২ ওভার বল করেছেন। ব্যাট করতেও নামলেন ৬ নম্বরে। অসুস্থ আঙুল নিয়েই যে তাকে দলের প্রয়োজনে লড়তে হবে। সে এক কঠিন দায়িত্ব সাকিব ও রিযাদের উপর।
২৪ বলে দরকার ৪০ রান। ১১ রান এলো ১৭তম ওভারে। এরপর ১৮ বলে দরকার ২৯ রান। পেসার উসুরু উদানা আসলেন ১৮তম ওভার করতে। এ ওভারটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল দলের জন্য। একটা ছ্ক্কা ও একটা চার অন্তত মারার দরকার ছিল। কিন্তু সেটা তো হয়-ই নাই বরং ৯ বলে ৭ করার পর ফিরে যান সাকিব। এ ওভার থেকে আসে মাত্র ৬ রান।

বাংলাদেশের সম্ভাবনা কার্যত অনেকটাই শেষ। শেষ দুই ওভার দরকার ২৩ রান। রিয়াদের সঙ্গে উইকেটে মিরাজ। কঠিন সমীকরণ সামনে। মিরাজ ওভারের শেষ ওভারে হয়ে যান রান আউট। তারপরেও ১৩ রান আসে ১৯তম ওভার থেকে। ৬ বলে দরকার ১২ রান।
সমস্যা হলে স্ট্রাইকেন্ডে মোস্তাফিজ। প্রথম বল থেকে কোনো রান নিতে পারলেন না মোস্তাফিজ। উদানার দ্বিতীয় দলটি ছিল পুরোপুরি নো বল। মোস্তাফিজের মাথার উপর দিয়ে গেলেও সেটাকে নো বল ধরেননি শ্রীলঙ্কান আম্পায়ার। মোস্তাফিজ বলে ব্যাট না লাগাতে পারলেও দৌঁড়ে এক রান নিতে গিয়ে রান আউট হয়ে যান।

কিন্তু রিয়াদসহ পুরো দল এটিকে নো বলের আবেদন করেছিলেন। কিন্তু আম্পায়ার সেটা উড়িয়ে দিলে প্রতিক্রীয়া দেখায় বাংলাদেশ দল। খেলা বন্ধ থাকে কিছুক্ষণ। পরে অবশ্য ক্রিজে ফিরে যান রিয়াদ । শেষ চার বলে দরকার পড়ে ১২ রান।
স্ট্রাইকেন্ডে রিয়াদ। এ এক কঠিন দায়িত্ব। কঠিন সমীকরণ। উদানার তৃতীয় বলে শুয়ে পড়ে চার হাঁকালেন রিয়াদ। পরের বলটি ছিল ফুলটস। মিউ উইকেট মেরে নেন ২ রান। শেষ দুই বলে দরকার ছিল ৬ রান। তবে রিয়াদের বীরত্বে এক বল আগে থাকতেই মনে রাখার মতো জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। পঞ্চম বলটি ছিল ফুল লেন্থের। সেটাকে ছ্ক্কা হাঁকিয়ে ২ উইকেটের অবিস্মরণীয় জয় তুলে নেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ১৮ বলে ৪৩ রানের বীরত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন রিযাদ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
ফল: দুই উইকেটে জয়ী বাংলাদেশ।
শ্রীলঙ্কা ইনিংস: ১৫৯/৭ (২০ ওভার)
(দানুশকা গুনাথিলাকা ৪, কুসল মেন্ডিস ১১, কুসল পেরেরা ৬১, উপুল থারাঙ্গা ৫, দাসুন শানাকা ০, জীভন মেন্ডিস ৩, থিসারা পেরেরা ৫৮, ইসুরু উদানা ৭*, আকিলা ধনঞ্জয়া ১*,সাকিব আল হাসান ১/৯, রুবেল হোসেন ১/৪১, মোস্তাফিজুর রহমান ২/৩৯, মেহেদী হাসান মিরাজ ১/১৬, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ০/২৯, সৌম্য সরকার ১/২১)।

বাংলাদেশ ইনিংস: ১৬০/৮ (২০ ওভার)
(তামিম ইকবাল ৫০, লিটন দাস ০, সাব্বির রহমান ১৩, মুশফিকুর রহিম ২৮, সৌম্য সরকার ১০, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৪৩*, সাকিব আল হাসান ৭, মেহেদী হাসান মিরাজ ০, মোস্তাফিজুর রহমান ০, রুবেল হোসেন ০*; নুয়ান প্রদীপ ০/১০, আকিলা ধনঞ্জয়া ২/৩৭, আমিলা আপোনসো ১/১৯, থিসারা পেরেরা ০/২০, দানুশকা গুনাথিলাকা ১/২৪, জীভন মেন্ডিস ১/২৪, ইসুরু উদানা ১/২৬)।
প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (বাংলাদেশ)।

সংবাদটি শেয়ার করুন।