অবশেষে নিরাপত্তাহীনতায় আ’লীগ নেতা সাইফুলের জিডি

0
915

নিজস্ব প্রতিবেদক:
অবশেষে খুলনার আওয়ামী লীগ নেতা এড. সাইফুল ইসলামের জিডির ঘটনা স্বীকার করেছে পুলিশ। তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, তাকে হত্যা করা হতে পারে, এমন আশংকার কথা উল্লেখ করেই শনিবার রাতে সদর থানায় জিডি করেন সাইফুল। তবে জিডিতে নির্দিষ্ট কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়নি। এদিকে ঘটনাটি আজ টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়। দলীয় শিবিরে চলে দিনভর কানাঘুষা। তবে বিষয়টির কোন কূল-কিনারা খুঁজে পান না তৃণমূল নেতাকর্মীরা। আর এনিয়ে বেশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন দলের নীতি-নির্ধারণী মহল। একই সাথে হয়েছেন হতবাকও।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)’র সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান খুলনা টাইমসকে বলেন, এড. সাইফুল ইসলাম জীবননাশের আশংকায় শনিববার রাতেই থানায় জিডি করেছেন। তবে সেখানে নির্দিষ্ট কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়া হয়নি। পুলিশ তার জীবনের নিরাপত্তায় সব ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।
এ বিষয়ে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজানের সাথে মুঠোফোনের যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। তবে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভয় হয়নি।
ফ্লাশব্যাক:
এর আগে শনিবার শহরে গুঞ্জন ওঠে, নিজ দলের প্রভাবশালী দুই নেতার বিরুদ্ধে জিডি করেন সাইফুল। কৌশলগত কারনে জিডি গত মাসে করেছেন বলে জানা যায়। নৌ পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব, চেম্বার পরিচালক সাইফুল আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী। এলক্ষে দীর্ঘদিন ধরে নগরীতে কাজ করছেন।

খুলনা টাইমসকে মুঠোফেনে শনিবার সাইফুল জানান, খুলনা চেম্বারের ও যুবলীগের প্রভাবশালী দুই নেতা তাকে জীবনে মেরে ফেলতে চায়। আলোচিত দুই নেতাই আসন্ন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হতে নিজ নিজ বলয়ে কাজ করছেন। জিডিতে তাকে মেরে ফেলতে পারে এমন আশংকার কথা বলেছেন। তবে সেখানে কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। তিনি আরও জানান, চেম্বার নির্বাচনে কতিপয় নেতার সঙ্গে তার দূরত্ব বাড়ে। এখন তারাই নৌ পরিবহণ মালিক গ্রুপ দখল নেয়ার চেষ্টায় আছেন।

সাইফুল বলেন, বিষয়টি তিনি দলের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের জানিয়েছেন। জানিয়েছেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ে। তারা তাকে সতর্ক অবস্থায় চলাফেরা করতে বলেছেন। বারণ করেছেন একই গাড়িতে চলাফেরা করতে। এজন্য নিজস্ব দেহরক্ষীও বাড়িয়েছেন তিনি। মর্ণিং ওয়ার্ক করাও বন্ধ রেখেছেন।